নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ২৮ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান এই কবি। বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে যিনি হয়ে উঠেছিলেন নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর।
কাজী নজরুল ইসলাম শুধু ‘বিদ্রোহী কবি’ নন, তিনি ছিলেন গণমানুষের কবি। তার কবিতা ও গানে স্থান পেয়েছে শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষ এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন ও অধিকার। শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল আপসহীন।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার যে দুর্বার উচ্চারণ, তা বাংলা সাহিত্যে প্রতিবাদের এক অনন্য ভাষা তৈরি করে। আর ‘সাম্যবাদী’সহ বিভিন্ন কবিতা ও গানে তিনি তুলে ধরেছেন এমন এক সমাজের স্বপ্ন, যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তার লেখনী ছিল তীব্র প্রতিবাদের হাতিয়ার। তাঁর সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা এবং বিভিন্ন লেখার কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়। কিন্তু কারাগার কিংবা শাসকের রক্তচক্ষু তার কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে পারেনি।
নজরুলের সাহিত্য ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবতারও শক্তিশালী বার্তা বহন করে। ইসলামি গান ও গজলের পাশাপাশি তিনি শ্যামাসংগীত, ভজন ও অন্যান্য ধারার গান রচনা করেছেন। তার কাছে মানুষের পরিচয় ছিল সবার আগে।
আজকের সমাজেও যখন বৈষম্য, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই অব্যাহত, তখন নজরুলের সাহিত্য নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তার কবিতা আমাদের শেখায় অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করতে এবং মানুষের মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াতে।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই তাকে স্মরণ মানে শুধু একজন কবিকে স্মরণ নয়; বরং সাম্য, মানবতা ও মুক্তির স্বপ্নকে আবারও সামনে নিয়ে আসা।
গণমানুষের এই কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
