Headlines

ছাত্র ইউনিয়ন থেকে বঙ্গভবনঃ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক যাত্রা

বিএনপি

বাংলাদেশের সম্ভাব্য ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলায় শিক্ষকতা, স্থানীয় সরকার, মন্ত্রিসভা এবং বিএনপির সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্ব অতিক্রম করে এবার তিনি বঙ্গভবনের পথে।

বিএনপি
বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল— উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অবস্থান ঘিরে নতুন প্রত্যাশা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে মির্জা ফখরুল ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সংগঠনটির এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের মাধ্যমে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারে তার উত্থান ঘটে। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।

২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাঁর নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক মহলে এ খবরে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। জেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে তাঁকে সহায়তা করবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্র ইউনিয়নের বামপন্থী ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির নেতৃত্ব এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন—মির্জা ফখরুলের এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।