রিপোর্টার, খুলনা
খুলনা মহানগরীর তিনটি শীর্ষস্থানীয় ও অভিজাত হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকি, কাস্টমস কর্মকর্তাদের মাসোহারা (ঘুষ) প্রদান এবং অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ‘খুলনা নাগরিক সমাজ’। সংগঠনটির দাবি, হোটেল ক্যাসেল সালাম, হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল এবং হোটেল সিটি ইন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব লোকসান করছে।

নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে জানান, এই তারকা মানের হোটেলগুলো প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক লেনদেন করলেও তা ভ্যাট দপ্তরে গোপন রাখা হয়। প্রতিদিনের বুফে ডিনার, রুম বুকিং এবং বিভিন্ন কর্পোরেট ইভেন্ট থেকে আসা আয়ের প্রকৃত তথ্য আড়াল করতে তারা এক বিশেষ কৌশল বেছে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব বোর্ডের এনবিআর আওতাধীন স্থানীয় ভ্যাট অফিসের কিছু কর্মকর্তাদের নিয়মিত মোটা অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক সুবিধা বা মাসিক মাসোহারা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুধু নগদ টাকাই নয়, ভ্যাট কর্মকর্তাদের খুশি রাখতে হোটেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে তাদের বিনামূল্যে বিলাসবহুল রুম ব্যবহার, ভিআইপি প্রটোকল, এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন অবৈধ আতিথেয়তার সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। এর বিনিময়ে কর্মকর্তারা হোটেলগুলোর ভুয়া বা কম আয়ের হিসাব বিবরণী কোনো রকম অডিট ছাড়াই অনুমোদন করে দেন।
খুলনা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই চক্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, যখন দেশের সাধারণ মানুষকে প্রতিটি পণ্য ও সেবার বিপরীতে কঠোরভাবে ভ্যাট দিতে হচ্ছে, তখন এই বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ফাঁকি দিচ্ছে।
সংগঠনটি এই অনিয়মের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলকে (নজরদারি শাখা) এই তিন হোটেল এবং সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব ও গোপন সমঝোতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
