রংপুরের একই পরিবারের চার খুনঃ পুলিশের বয়ান, ময়নাতদন্ত, ছবি-ভিডিও ও সময়ের হিসাব— সবকিছু কি একসঙ্গে মেলে?

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ বলেছে, ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একে একে চারজনকে হত্যা করা হয়। দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে মামলার তদন্তভার থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিন্তু এখানেই কি তদন্ত শেষ?
বরং এখান থেকেই একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কাজ শুরু হতে পারে।
কারণ এখন প্রশ্নটি শুধু ‘খুনি কে?’ নয়।
প্রশ্ন হলো—
পুলিশ যে ঘটনাপ্রবাহ বলছে, সেটি কি ঘটনাস্থল, ময়নাতদন্ত, ছবি, ভিডিও, সময়ের হিসাব এবং অন্যান্য আলামতের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে?
যদি মেলে— সাংবাদিকের অনুসন্ধান সেটি প্রমাণ করবে।
যদি না মেলে— কোথায় মিলছে না, সেটিও প্রমাণসহ সামনে আনবে।
প্রথম কাজঃ পুলিশের গল্পটিকে একটি টাইমলাইনে ভাঙা
পুলিশের প্রকাশিত বর্ণনা অনুযায়ী, দুই তরুণ প্রথমে ইয়াবা সেবন করছিল, গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে বাধা দেন, এরপর তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছাদে এলে তাদেরও হত্যা করা হয়। এরপর অভিযুক্তরা বাড়িতে অবস্থান করে, গোসল করে, খাবার খায়, ফোন নষ্ট করে এবং পরদিন জুমার নামাজের সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়— এমন বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছে।
একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ হবে এই পুরো বক্তব্যকে মিনিটে-মিনিটে ভেঙে ফেলা।
কয়টায় তারা ছাদে উঠল?
কয়টায় গণপতি সেখানে গেলেন?
কয়টায় তাকে হত্যা করা হলো?
কত সময় পর স্ত্রী ও সন্তানরা ছাদে গেলেন?
চারজনকে হত্যা করতে মোট কত সময় লেগেছে?
এরপর গোসল, খাবার, ফোন নষ্ট করা— প্রতিটি কাজ করতে কত সময় লেগেছে?
তারপর তারা কখন বাড়ি ছাড়ল?
এই সময়ের হিসাবের সঙ্গে যদি CCTV, মোবাইলের তথ্য, প্রতিবেশীর বক্তব্য বা অন্য কোনো প্রমাণ না মেলে, তাহলে পুলিশের বর্ণনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রশ্নের মুখে পড়বে।
দ্বিতীয় কাজঃ মৃতদেহের অবস্থান দিয়ে ঘটনার পুনর্গঠন
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারজনের মরদেহ বাড়ির বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায়— ছাদ, সিঁড়ি ও ঘরের ভেতরে।
এখন সাংবাদিকের প্রয়োজন হবে বাড়িটির একটি নির্ভুল floor plan।
কে কোথায় ছিলেন?
ছাদ থেকে সিঁড়ি কত দূর?
সিঁড়ি থেকে দ্বিতীয় তলার ঘর কত দূর?
একজন মানুষ ছাদ থেকে নিচে নামার সময় কোথায় বাধার সম্মুখীন হতে পারেন?
চারজনকে একে একে হত্যা করার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তব স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না?
এটি কোনো অনুমানের বিষয় নয়।
বাড়ির মাপ, দরজা, সিঁড়ি, ছাদ এবং মরদেহ উদ্ধারের স্থান— সবকিছু একটি মানচিত্রে বসালেই অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
তৃতীয় কাজঃ ময়নাতদন্তকে পুলিশের বক্তব্যের পাশে বসানো
এই জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের বক্তব্যে আগামী চক্রবর্তীর চোয়াল ভেঙে যাওয়া এবং চোখ বেরিয়ে যাওয়ার মতো বর্ণনা এসেছে। কিন্তু ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগামী চক্রবর্তীর চোয়াল বা চোখ বের হয়নি। চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হলেও পূর্ণ ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না— এমন কথাও চিকিৎসক জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মুখ বা শরীরে অ্যাসিড/রাসায়নিক দিয়ে ঝলসে দেওয়ার আলামত পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
এখানে সাংবাদিকের প্রশ্ন হওয়া উচিৎ না—
“পুলিশ মিথ্যা বলেছে কি?”
বরং—
“পুলিশের বর্ণনার ওই অংশটি কোন প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল?”
এবং—
“ময়নাতদন্তের ফল পাওয়ার পর পুলিশ কি সেই বক্তব্য সংশোধন করেছে?”
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রশ্ন।
চতুর্থ কাজঃ বিদ্যুতের রহস্য
আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে— ঘটনার সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন ইলেকট্রিশিয়ানকে ডেকে পরে সংযোগ চালু করা হয় এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী, খুঁটি থেকে মেইন লাইনের সংযোগ খুলে দেওয়া হয়েছিল; এটি স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ত্রুটি নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিবি পুলিশ ওই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি জানত না বলে জানিয়েছে।
এখানে সাংবাদিকের অনুসন্ধান হবে—
কে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল?
কখন করেছিল?
বিদ্যুৎ অফিসের রেকর্ডে ওই সময় কোনো outage ছিল কি?
মিটার সচল ছিল কি?
মেইন লাইনের অবস্থার ছবি কী বলে?
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হয়েছিল কি?
কেউ কি সেই সময় বিদ্যুৎ লাইনের কাছে গিয়েছিল?
এটি যদি পরিকল্পিতভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রমাণ দেয়, তাহলে পুলিশের ঘটনাপ্রবাহে সেটির অবস্থান কী— সেটিও জানতে হবে।
পঞ্চম কাজঃ চারটি মোবাইল—কোথায়?
প্রতিবেদনে পুলিশের একটি বক্তব্য এসেছে— দুটি ফোন ডিটারজেন্ট পানিতে ভিজিয়ে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
কিন্তু পরিবারের ব্যবহৃত মোট চারটি ফোনের মধ্যে বাকি দুটি ফোন কোথায়— এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একজন সাংবাদিকের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ evidence trail।
চারটি ফোনের IMEI নম্বর কী?
কোন ফোন কার?
শেষ কখন কোন ফোন সক্রিয় ছিল?
শেষ কল কার সঙ্গে?
শেষ SMS/WhatsApp/Messenger যোগাযোগ কার সঙ্গে?
ফোনগুলো কোথায় পাওয়া গেছে?
কোন ফোন পানিতে পাওয়া গেছে?
কোন ফোনের SIM কোথায়?
কোন ফোন থেকে শেষবার মোবাইল ডাটা ব্যবহার হয়েছে?
এগুলোর উত্তর পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডের আগের কয়েক ঘণ্টার একটি শক্তিশালী ডিজিটাল timeline তৈরি হতে পারে।
ষষ্ঠ কাজঃ ‘একই শার্ট’— রহস্য নয়, যাচাইযোগ্য প্রশ্ন
এই হত্যাকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো একই ধরনের শার্ট।
প্রকাশিত ভিডিও ও ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা ডিবির এক কর্মকর্তাকে যে ধরনের প্রিন্টের শার্টে দেখা যায়, গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ দাসের গায়েও একই ধরনের শার্ট দেখা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, একই শার্ট অনেকেরই থাকতে পারে।
এখানে সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় ভুল হবে—
“একই শার্ট মানেই যোগসাজশ।”
এটা বলা যাবে না।
বরং করতে হবে image verification।
দুটি ছবির high-resolution version সংগ্রহ করতে হবে।
তারপর দেখতে হবে—
- কাপড়ের মূল রং একই কি না;
- প্রিন্টের pattern একই কি না;
- collar-এর ধরন;
- বোতামের সংখ্যা ও অবস্থান;
- বুকের pocket আছে কি না;
- sleeve-এর design;
- কাপড়ের fold বা stitching;
- brand/tag-এর কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন আছে কি না।
তারপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তারের সময় তার পরনে আসলে কী ছিল?
তার বাবার দাবি, পুলিশকে দেওয়ার সময় তার ছেলের গায়ে শুধু ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল; পরে কীভাবে ওই শার্ট এল, তা তিনি জানেন না। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, গ্রেপ্তারের সময়ও আসামির গায়ে ওই শার্টই ছিল।
এই দুই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।
কারণ গ্রেপ্তারের সময়ের ভিডিও, থানায় নেওয়ার ভিডিও, পুলিশ ভ্যানের ভিডিও এবং প্রথম ছবি— সবগুলো পাশাপাশি বসালে পোশাক পরিবর্তন হয়েছিল কি না, অন্তত সেই প্রশ্নের একটি তথ্যভিত্তিক উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
সপ্তম কাজঃ ‘ছবির বাইরে’ ভিডিও খুঁজতে হবে
সাংবাদিকের জন্য স্থানীয় Facebook Live ভিডিওগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কারণ সংবাদমাধ্যমের edited video-তে কয়েক সেকেন্ড থাকতে পারে, কিন্তু Facebook Live-এ অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগের ও পরের দীর্ঘ দৃশ্য থাকে।
সেখান থেকে খুঁজতে হবে—
কে প্রথম বাড়িতে ঢুকল?
কোন কর্মকর্তা কখন এলেন?
কে কোন সিঁড়ি দিয়ে উঠলেন?
কার হাতে কী ছিল?
ঘরের দরজা কখন খোলা হলো?
বিদ্যুৎ তখন ছিল কি না?
কোন ব্যক্তি কখন ঘটনাস্থল ছাড়লেন?
এগুলোকে frame-by-frame যাচাই করে একটি visual timeline বানানো যেতে পারে।
এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওকে সরাসরি সত্য ধরে নেওয়া যাবে না। মূল ভিডিও, upload time, metadata এবং একই দৃশ্যের একাধিক recording মিলিয়ে authenticity যাচাই করতে হবে।
অষ্টম কাজঃ দুই আসামির স্বীকারোক্তিও স্বাধীনভাবে যাচাই
দুই আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও বলেছে, তাদের জবানবন্দির সঙ্গে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের বর্ণনার মিল রয়েছে, তবে কিছু নতুন তথ্যও তাঁরা দিয়েছেন।
এখানে সাংবাদিকের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বীকারোক্তি আছে— তাই ঘটনা সত্য।
এমন সরল সমীকরণ সাংবাদিকের অনুসন্ধানে গ্রহণযোগ্য নয়।
বরং জবানবন্দির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের পাশে বসাতে হবে—
CCTV
মোবাইল ডাটা
ময়নাতদন্ত
ঘটনাস্থলের আলামত
প্রতিবেশীর বক্তব্য
সময়
বিদ্যুৎ সংযোগ
মরদেহের অবস্থান
যে বক্তব্যের সঙ্গে স্বাধীন প্রমাণ মিলে যাবে, সেটি শক্তিশালী হবে।
যেটির সঙ্গে কোনো স্বাধীন প্রমাণ মিলবে না, সেটি আরও যাচাই করতে হবে।
নবম কাজঃ ‘কেন’ প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক শুধু “কে করেছে?” প্রশ্ন করলে তদন্তের একটি অংশই অনুসরণ করেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
কেন?
পুলিশের তত্ত্ব যদি হয় ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ড, তাহলে প্রশ্ন হবে—
দুই যুবক কেন ওই বাড়ির ছাদে গেল?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— পাশেই নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ও ফাঁকা জায়গা থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেল?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু অনুমান দিয়ে নয়, ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখে বের করতে হবে।
কোন ছাদ থেকে কোন ছাদে যাওয়া সম্ভব?
দূরত্ব কত?
দেয়ালের উচ্চতা কত?
সিঁড়ি কোথায়?
রাতে সেখানে ওঠা-নামা কতটা সহজ?
বাড়ির বাসিন্দারা শব্দ শুনতে পেতেন কি?
এই physical reconstruction অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দশম কাজঃ পুলিশের তত্ত্বকে সত্য বা মিথ্যা নয়— পরীক্ষা করতে হবে
এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হবেঃ
সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন না; সাংবাদিক পুলিশের তদন্তকে যাচাই করবেন।
যদি পুলিশের তত্ত্বের সঙ্গে ২০টি তথ্য মিলে যায়, সাংবাদিক সেটিও প্রকাশ করবে।
কিন্তু যদি ২০টির মধ্যে ৫টি তথ্য না মেলে, সেই ৫টি প্রশ্নও জনগণের সামনে আনতে হবে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে ইতিমধ্যেই কয়েকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—
ময়নাতদন্ত বনাম পুলিশের বর্ণনা।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ।
চারটি মোবাইলের অবস্থান।
আসামির পোশাক নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য।
দুই আসামির গতিবিধির সময়সূচি।
ঘটনার পর তাঁদের দীর্ঘ সময় বাড়িতে থাকার দাবি।
ছাদে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা।
এবং চারজনকে হত্যার মোট সময়।
এসব প্রশ্নের বেশ কয়েকটি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন এবং বিক্ষোভও হয়েছে। মামলাটিও ইতোমধ্যে অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তাহলে কি একজন সাংবাদিক রংপুরের চার খুনের রহস্যের জট খুলতে পারেন?
হ্যাঁ— চেষ্টা করতে পারেন।
তবে সাংবাদিকের হাতে পুলিশের মতো ক্ষমতা নেই। তার হাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস আছে—
স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার সুযোগ।
একটি বাড়ির floor plan।
চারটি মৃতদেহের অবস্থান।
চারটি মোবাইল ফোন।
বিদ্যুতের main connection।
CCTV।
স্থানীয় Facebook Live।
ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও।
ময়নাতদন্ত।
আসামিদের জবানবন্দি।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য।
পরিবারের বক্তব্য।
এবং পুলিশের প্রতিটি দাবি।
এসব আলাদা আলাদা তথ্য নয়।
এগুলো একই ঘটনার আলাদা আলাদা টুকরো।
সাংবাদিকের কাজ হলো সেই টুকরোগুলোকে একটি timeline-এ বসানো।
যেখানে মিলবে— সেখানে ঘটনার একটি অংশ শক্ত হবে।
যেখানে মিলবে না— সেখানেই থাকবে রহস্যের জট।
কোনো সাংবাদিকের অনুসন্ধান শুরু হতে পারে একটি প্রশ্ন দিয়ে—
“পুলিশ যা বলছে, তা যদি সত্য হয়— তাহলে প্রতিটি প্রমাণ কি সেই গল্পই বলে?”
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পারলেই হয়তো রংপুরের চার খুনের রহস্যের প্রথম গিঁটটি খোলা সম্ভব।
আর যদি উত্তর না মেলে— তাহলে প্রশ্নটি আরও জরুরি হয়ে উঠবে: পুলিশের গল্পের বাইরে আর কী আছে?
