প্রেস বিজ্ঞাপ্তি + ফলোআপ নিউজ ডেস্ক
শিরোমণি থেকে কয়রা— অনিবন্ধিত ব্যবসা খুঁজতে মাঠে রাজস্ব কর্মকর্তারা।

খুলনার পশ্চিমাঞ্চলে অনিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনতে আবারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট খুলনা কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাঁচ দিনের জন্য খুলনার রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয়, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেল-৫ (পশ্চিম) থেকে বিশেষ ‘নিবন্ধন সেবা কেন্দ্র’ চালু করা হচ্ছে।
সার্কেল কার্যালয়ের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, শিরোমণি, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও কয়রা এলাকার আওতাধীন অনিবন্ধিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ। প্রচারপত্রে ব্যবসায়ীদের সময়মতো নিবন্ধন নিয়ে সঠিকভাবে ভ্যাট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, এবার শুধু খুলনা শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়— উপজেলা ও অপেক্ষাকৃত প্রান্তিক বাজারগুলোকেও ভ্যাটের আওতায় আনার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ নয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশব্যাপী বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে। ওই ক্যাম্পেইনে এক লাখ অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত ও নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মাস শেষে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া হয় বলে এনবিআর জানিয়েছে।
এনবিআরের হিসাবে, ওই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আগে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার। পরে তা বেড়ে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজারে দাঁড়ায়।
২০২৫ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এনবিআরের তথ্যের ভিত্তিতে দেশে বিপুলসংখ্যক ভ্যাটযোগ্য কিন্তু অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সন্ধানের কথা উঠে আসে। একটি প্রতিবেদনে প্রায় ২০ লাখ নিবন্ধনযোগ্য প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভ্যাটের আওতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে জরিপ ও অভিযান জোরদারের তথ্যও প্রকাশিত হয়।
এনবিআরের নিজস্ব নথিতেও দেখা যায়, নতুন ভ্যাট নিবন্ধন বাড়াতে শিল্পাঞ্চল, বাজার ও ব্যবসা এলাকায় বিশেষ টিম গঠন এবং সেবা কেন্দ্র/হেল্পডেস্ক চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
ফলে খুলনা পশ্চিম সার্কেল-৫-এর নতুন পাঁচ দিনের উদ্যোগকে বৃহত্তর জাতীয় ভ্যাট সম্প্রসারণ কর্মসূচির স্থানীয় বাস্তবায়ন হিসেবেই দেখা যাচ্ছে।
বদলেছে নিবন্ধনের আইনি সীমাও। ভ্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তির সংজ্ঞা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে নিবন্ধন সীমা ৫০ লাখ টাকা এবং তালিকাভুক্তি সীমা ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
অর্থাৎ, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ১২ মাসের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভার সংশ্লিষ্ট আইনি সীমা অতিক্রম করলে তার ভ্যাট নিবন্ধন বা টার্নওভার কর তালিকাভুক্তির বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে।
