কিস্তিভিত্তিক স্মার্টফোন বিক্রির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম PalmPay-এর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ উঠছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, কিস্তিতে মোবাইল ফোন দেওয়ার নামে প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত মূল্য আদায়, জোরপূর্বক কিস্তি আদায়ের চাপ এবং কিস্তি বকেয়া হলে ফোনের ব্যবহার বন্ধ করার মতো পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাজারে যে মোবাইল ফোন নগদে কম দামে পাওয়া যায়, PalmPay সেটি কিস্তিতে অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি করছে। গ্রাহকদের দাবি, ফোনের প্রকৃত নগদ মূল্য এবং মোট কিস্তি মূল্য— এই দুইয়ের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই অতিরিক্ত অর্থকে সুদ, সার্ভিস চার্জ বা অন্যান্য ফি হিসেবে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয় না।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, কিস্তি পরিশোধে দেরি হলে গ্রাহকের ফোনে স্ক্রিন লক বা ডিভাইস লক কার্যকর করা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, ফোন ব্যবহার অক্ষম করে দেওয়া ভোক্তাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলার একটি কৌশল। একই সঙ্গে বকেয়া কিস্তির ওপর পুনরায় অতিরিক্ত চার্জ বা সুদ আরোপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কয়েকজন গ্রাহক FollowUpNews-কে জানান, কিস্তি আদায়ে যুক্ত কিছু প্রতিনিধির আচরণও প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের দাবি, ফোন কল ও সরাসরি যোগাযোগের সময় অপেশাদার ও দুর্ব্যবহারমূলক আচরণ করা হয়েছে।
আইন কী বলে?
বাংলাদেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পণ্য বা সেবার মূল্য, চার্জ, শর্ত ও আর্থিক দায় স্পষ্টভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। এছাড়া কোনো আর্থিক সেবায় গোপন চার্জ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করা হলে তা তদন্তের বিষয় হতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বা ডিভাইস ব্যবস্থাপনার শর্ত রেখেছে কি না, তা নির্ভর করে গ্রাহক চুক্তির ভাষা ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিস্তিভিত্তিক স্মার্টফোন বিক্রির ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণঃ
-
নগদ মূল্য ও মোট কিস্তি মূল্য আলাদাভাবে উল্লেখ করা;
-
সুদ, সার্ভিস চার্জ ও বিলম্ব ফি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা;
-
বকেয়া আদায়ে আইনসম্মত ও মানবিক পদ্ধতি অনুসরণ করা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি দাবি
গ্রাহকদের একটি অংশ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিটিআরসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, PalmPay কী ধরনের আর্থিক অনুমোদনের ভিত্তিতে কিস্তি সুবিধা দিচ্ছে, ডিভাইস লক করার প্রযুক্তিগত ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করছে এবং অতিরিক্ত চার্জ আরোপের পদ্ধতি আইনসম্মত কি না— এসব বিষয় তদন্ত করা উচিত।
PalmPay-এর বক্তব্য কী?
এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে PalmPay-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা হুবহু প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদকীয় নোটঃ FollowUpNews অভিযোগগুলোকে জনস্বার্থে প্রকাশ করছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ, কিস্তি চুক্তি, পেমেন্ট রসিদ, স্ক্রিনশট ও অডিও প্রমাণ থাকলে সেগুলো যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
৩০/০৭/২০২৬ তারিখে গুলশান-১-এর লোটাস কামাল টাওয়ার-এর ১৭ তম তলায় অবস্থিত অফিসে PalmPay কতৃপক্ষের সাথে ফলোআপ নিউজ-এর কথা হয়। মিটিং-এ ফলোআপ নিউজ জানতে চেয়েছিলো— ফোনের স্ক্রিনলক করার প্রযুক্তি ব্যবহার করে PalmPay গ্রাহক হয়রানি করছে কিনা, একইসাথে ফোনের উচ্চমূল্য, উচ্চসুদহার, গ্রাহককে নীতিমালা সঠিকভাবে অবহিত না করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়। PalmPay-এর বক্তব্য— তারা আইন মেনেই সবকিছু করছে, এবং বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য এনওসি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য ফলোআপ নিউজ হাতে পায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য হাতে পেলে সংযুক্ত করা হবে।
ফলোআপ নিউজ-এর এই নিউজের প্রেক্ষিতে একইদিন PalmPay তাদের মিডিয়া সেল থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বক্তব্য পাঠায়। বক্তব্যটি যুক্ত করা হলো।
PalmPay-এর লিখিত বক্তব্যঃ
কিস্তিতে মোবাইল ফোন বিক্রির নামে গ্রাহকদের জিম্মি করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর।
পামপে বাংলাদেশ ব্যাংকের No Objection Certificate (NOC) প্রাপ্তির পর অনুমোদিত নীতিমালা ও প্রযোজ্য সকল বিধিবিধান অনুসরণ করে কিস্তিভিত্তিক মোবাইল ফোন বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিস্তি সুবিধার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুদের হার, প্ল্যাটফর্ম ফি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক চার্জ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত এনওসিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং এসব তথ্য গ্রাহকদের যথাযথভাবে অবহিত করার পরই সেবা প্রদান করা হয়।
PalmPay সর্বোচ্চ কর্পোরেট কমপ্লায়েন্স, স্বচ্ছতা ও নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। একই সঙ্গে গ্রাহকসেবাসংক্রান্ত প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করে। গ্রাহকদের প্রতি আন্তরিক, পেশাদার ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
PalmPay-এর সুবিধা ব্যবহার করে মোবাইল কিনেছে এমন কয়েকজন গ্রাহকের বক্তব্য, এবং PalmPay অনুমোদিত আউটলেট থেকে কিনেছে কিনা, এবং ক্রয়কৃত মোবাইলটি বৈধ কিনা এ সংক্রান্ত কাগজপত্র দ্রুতই এই নিউজে সংযুক্ত করা হবে।
