Headlines

ঘুষ ছাড়া কাউকেই ছাড়তে চায় না সরহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খসরুজ্জামান, মাসে ৮/১০ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

সহাকারী রাজস্ব কর্মকর্তা

বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীদের নানা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন সভা, সেমিনার এবং গণমাধ্যমে প্রায়ই কর প্রশাসনের হয়রানি, অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ, অনানুষ্ঠানিক অর্থের দাবি এবং জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠে আসে। যদিও সব অভিযোগের সত্যতা এক নয়, তবুও এ ধরনের অভিযোগ রাজস্ব প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

এমন প্রেক্ষাপটে খুলনার বড় বাজার ও হেলাতলা এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খসরুজ্জামান-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি কাজের নামে এমন চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক বোঝা তৈরি করে।

ফলোআপ নিউজের নিজস্ব অনুসন্ধানে অভিযোগের বাইরে আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে সার্কেল ১-এর একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মাসে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার সন্দেহভাজন অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই তথ্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই সম্পন্ন হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তও হয়নি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খসরুজ্জামান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ “সম্পূর্ণ বানোয়াট”। তার দাবি, তিনি কেবল আইন অনুযায়ী সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। ভ্যাট আইন কার্যকর করতে গিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অসন্তুষ্ট হতে পারেন, তবে কোনো ধরনের অবৈধ সুবিধা দাবি বা গ্রহণের অভিযোগের ভিত্তি নেই।

ব্যবসায়ীরা অবশ্য তাঁদের অভিযোগে অনড় রয়েছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও অনানুষ্ঠানিক ব্যয়ের আশঙ্কা ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়িয়ে দেয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যায়, তার একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে অভিযোগ উঠলেই নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অধিকার ও বক্তব্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দুর্বল কর প্রশাসন, কর ফাঁকি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত। কর আদায় বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের অভিমত। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার।

ফলোআপ নিউজ এ বিষয়টিও প্রতিষ্ঠিত করার মতো যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত পেয়েছে— যাতে বলা যায় বাংলাদেশে বাজেট ঘাটতি যতটুকু রাজস্ব খাতে ঘুষ বাণিজ্য তার চেয়ে অনেক বেশি। উল্লেখ্য,

বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হবে।