Headlines

তথ্য চাইতে গিয়ে উল্টো প্রশ্নের মুখে সাংবাদিকরাঃ সরকারি দপ্তর কেন উল্টে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘গোয়েন্দাগিরি’ শুরু করে?

নিজস্ব প্রতিবেদক | FollowUpNews


সরকারি দপ্তরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে উল্টো জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ছেন সাংবাদিকরা— এমন অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। তথ্য অধিকার আইন কার্যকর থাকার পরও অনেক দপ্তরে তথ্য চাওয়া মাত্রই শুরু হয় সাংবাদিকের ব্যক্তিগত পরিচয়, বসবাস, শিক্ষাগত পটভূমি ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন।

“বাড়ি কোথায়?”, “কোন জেলায়?”, “কোথায় পড়াশোনা করেছেন?”, “ঢাকায় কোথায় থাকেন?”, “কার মাধ্যমে এসেছেন?”, “কেন এই তথ্য চান?” —এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজধানী ও জেলা পর্যায়ের একাধিক সাংবাদিক।

একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক বলেন, “আমি একটি সরকারি প্রকল্পের ব্যয়ের তথ্য চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তার আগ্রহ ছিল আমি কোন জেলার লোক, কোথায় থাকি, কোথায় পড়েছি—এসব জানার দিকে। তখন মনে হয়েছে, তথ্য দেওয়ার চেয়ে আমাকে যাচাই করাই যেন মূল উদ্দেশ্য।”

আরেকজন টেলিভিশন সাংবাদিকের ভাষায়, “প্রশ্ন করতে গেলেই তারা পাল্টা প্রশ্ন শুরু করেন। কখনও মনে হয়, আমি সাংবাদিক নই, যেন কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি।”

গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সাধারণত নাম, গণমাধ্যমের নাম, পদবি ও প্রয়োজনে অফিসিয়াল পরিচয়পত্র যথেষ্ট। এর বাইরে ব্যক্তিগত বাসার ঠিকানা, জেলার পরিচয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পারিবারিক তথ্য জানতে চাওয়া সবসময় প্রয়োজনীয় নয়, যদি না তা কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বা আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হয়।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রশ্ন তথ্য যাচাইয়ের জন্য নয়; বরং মানসিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে জেলার নাম বলার পর আরও প্রশ্ন, ঢাকার বাসার অবস্থান জানতে চাওয়া, এমনকি ব্যক্তিগত যোগাযোগের সূত্র খোঁজার চেষ্টা সাংবাদিকদের অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তার সম্পর্ক প্রতিপক্ষের নয়; এটি জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক। সাংবাদিকের কাজ প্রশ্ন করা, আর কর্মকর্তার দায়িত্ব আইনের সীমার মধ্যে তথ্য দেওয়া অথবা তথ্য না দেওয়ার বৈধ কারণ ব্যাখ্যা করা।

তথ্য অধিকার আইনের মূল চেতনা হলো— রাষ্ট্রের তথ্য জনগণের, আর সাংবাদিক সেই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গণমাধ্যম-সংবেদনশীল আচরণবিধি ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন। তথ্য চাইতে আসা সাংবাদিককে সন্দেহভাজন হিসেবে নয়, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই— একজন সাংবাদিক যখন সরকারি দপ্তরে গিয়ে বলেন, “আমি এই তথ্যটি জানতে চাই”, তখন কি তার পেশাগত পরিচয় যথেষ্ট, নাকি তার ব্যক্তিগত জীবন খুঁটিয়ে দেখাও রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠছে?