রাজস্ব কর্মকর্তা ধীমান চন্দ্র দাস → ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের কমিশনারের কার্যালয় থেকে বদলি → মোহাম্মদপুর বিভাগ → রাজাবাজার সার্কেল।
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনের রাজস্ব কর্মকর্তা ধীমান চন্দ্র দাসকে ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের কমিশনারের কার্যালয় থেকে বদলি করে মোহাম্মদপুর বিভাগের রাজারবাগ সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।
কমিশনারের কার্যালয়ের মতো কেন্দ্রীয় দপ্তরে দায়িত্ব পালনের পর এবার তাকে মাঠপর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব সার্কেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে রাজারবাগ সার্কেলের অধীন ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে হবে তাকে। তবে এর আগেও একই ধরনের কাজে তার বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিভিন্ন দপ্তর ও সার্কেলে দায়িত্ব
ধীমান চন্দ্র দাসের চাকরিজীবনে বিভিন্ন সময়ে মাঠপর্যায়ের সার্কেল ও দপ্তরে দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে। তার পূর্ববর্তী পোস্টিংগুলোর মধ্যে বুড়িমারী স্থল বন্দর, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, ঢাকা পূর্বের দনিয়া সার্কেল অন্যতম।
পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের কমিশনারের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকেই এবার তাকে মোহাম্মদপুর বিভাগের রাজারবাগ সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।
এনবিআরের প্রকাশিত নথিতেও ধীমান চন্দ্র দাসকে রাজস্ব কর্মকর্তা (চঃদাঃ) হিসেবে পাওয়া যায়। তার নামে ২০২৪ সালে একাধিক বহিঃবাংলাদেশ ছুটির অফিস আদেশও প্রকাশ করে এনবিআর। একই বছরে দুইবার বহিঃবাংলাদেশ ছুটির অফিশ আদেশ থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
১০ মার্চ ২০২৪ তার বহিঃবাংলাদেশ ছুটি মঞ্জুরের একটি অফিস আদেশ প্রকাশ করা হয়। একই বছরের ৩০ মে তার নামে আরও একটি বহিঃবাংলাদেশ ছুটি মঞ্জুরের অফিস আদেশ প্রকাশিত হয়।
তবে প্রকাশ্য সার্চ তালিকায় ওই দুই বহিঃবাংলাদেশ ছুটির ক্ষেত্রে কোন দেশে, কী উদ্দেশ্যে এবং কত দিনের জন্য তিনি বিদেশ গিয়েছিলেন— সে বিষয়টি বিস্তারিত দেখা যাচ্ছে না।
রাজাবাজার সার্কেলে নতুন দায়িত্ব
রাজাবাজার সার্কেল ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের মোহাম্মদপুর বিভাগের অধীন একটি রাজস্ব সার্কেল। এ অঞ্চলে আবাসিক এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, বিপণন ও সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ফলে রাজাবাজার সার্কেলের দায়িত্বে থাকা একজন রাজস্ব কর্মকর্তার কাজের মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল, আইন পরিপালন, রাজস্ব আদায় এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কমিশনারের কার্যালয়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব থেকে এবার সরাসরি মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে আসায় ধীমান চন্দ্র দাসকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভ্যাট প্রশাসনের সঙ্গে আগের মতো সরাসরি কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য, পশ্চিম কমিশনারেটে তিনি নিরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
নতুন দায়িত্বে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ভ্যাট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ, ব্যবসায়ীদের হয়রানিমুক্ত সেবা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নাকি পূর্বের মতো একই পথে তিনি হাঁটবেন? দেখার বিষয়।
বিভিন্ন দপ্তর ও সার্কেলে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজাবাজার সার্কেলে তার নতুন পদায়নের পর তার কার্যক্রমের দিকে এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের— ফলোআপ নিউজের।
