একটি রাষ্ট্র যখন দুর্বলভাবে পরিচালিত হয়, তখন তার সবচেয়ে বড় ক্ষতি শুধু অর্থের অপচয় বা দুর্নীতির বিস্তার নয়। আরও গভীর একটি পরিবর্তন ঘটে— দায়িত্ব ও সুবিধার সম্পর্কটি উল্টে যায়।

যার হাতে দায়িত্ব, তার কাজ কমতে থাকে। আর যারা তার অধীনে কাজ করে, কিংবা যে বহিরাগতরা তার অফিসের ওপর নির্ভরশীল, তারা ধীরে ধীরে তার কাজের বড় একটি অংশ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। বিনিময়ে তৈরি হয় পারস্পরিক স্বার্থের একটি ব্যবস্থা। নাগরিক সেখানে আর সেবার অধিকারী থাকে না; হয়ে যায় সেই ব্যবস্থার ‘কাস্টমার’।
বাংলাদেশের সরকারি অফিসগুলোতে এই চিত্রটি একেবারে অচেনা নয়।
ভূমি অফিসে দালাল জানে কোন টেবিলে কখন যেতে হবে। হাসপাতালের ভেতরে বহিরাগত চক্র জানে কোন রোগীকে কার কাছে নিতে হবে। ব্যাংকে একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কর, কাস্টমস, লাইসেন্স, নিবন্ধন কিংবা অন্যান্য সেবা— অসংখ্য ক্ষেত্রে নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি সম্পর্কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায় একটি অনানুষ্ঠানিক স্তর।
এই স্তরটি কেবল ‘দালাল’ নয়। অনেক সময় এটি হয়ে ওঠে একটি পূর্ণাঙ্গ ছায়া প্রশাসন।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশসংক্রান্ত গবেষণায় বহু বছর আগেই দেখা হয়েছিল, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্য দিয়ে কাজ করাতে নাগরিকদের দালাল বা তদবিরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এমনকি সাধারণ সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনানুষ্ঠানিক অর্থ প্রদান বা মধ্যস্থতার প্রয়োজন তৈরি হতে পারে।
সমস্যাটি এখানেই শেষ নয়।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ‘কাজ’ যখন অন্যরা করে দেয়
একজন অফিসপ্রধানের হাতে সাধারণত অনুমোদন, প্রত্যয়ন, নির্দেশনা কিংবা স্বাক্ষরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থাকে। কিন্তু তার হাতে যদি বিপুল সংখ্যক ফাইল, আবেদনকারী, কর্মচারী ও বহিরাগত স্বার্থগোষ্ঠী এসে জমা হয়, তখন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামোয় তাকে নিয়মিতভাবে তদারকি করতে হয়।
দুর্নীতির একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবেশে ঠিক উল্টো ঘটনাও ঘটতে পারে।
নিম্নপদস্থ কর্মচারী বলে দেয়— কোন ফাইল আগে যাবে, কোনটি পরে যাবে।
বহিরাগত বলে দেয়— কোন আবেদনকারীকে কোথায় পাঠাতে হবে।
দালাল বলে দেয়— কার কাজ ‘ম্যানেজ’ করা সম্ভব।
কর্মচারী অনেক সময় কর্মকর্তার কাছে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করে, যাতে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনও কমে যায়।
ফলে কর্মকর্তার কাজ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে দাঁড়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়— অনুমোদন, নির্দেশ এবং স্বাক্ষর।
এখানেই তৈরি হয় বিপজ্জনক একটি প্রশাসনিক ভারসাম্যহীনতা।
যে কর্মকর্তা পুরো প্রক্রিয়াটি জানেন না, তিনি হয়তো কেবল শেষ ধাপটিতে সই করছেন। অথচ তার স্বাক্ষরই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বৈধতা দিচ্ছে।
অর্থাৎ, কাজের ভার অন্যরা বহন করছে, কিন্তু ক্ষমতার শেষ দরজাটি কর্মকর্তার হাতেই থাকছে।
দুর্নীতির চক্র কেন কর্মকর্তাকে ‘কম কাজ’ করতে উৎসাহিত করে?
কারণ সক্রিয় ও অনুসন্ধিৎসু কর্মকর্তা এই চক্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি যদি প্রতিটি ফাইল নিজে দেখেন, নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, কর্মচারীর সিদ্ধান্ত যাচাই করেন, দালালকে অফিস থেকে দূরে রাখেন, নথি মিলিয়ে দেখেন এবং নিয়মিত প্রশ্ন করেন —তাহলে অনানুষ্ঠানিক আয়ের পথ সংকুচিত হয়।
তাই একটি পরিণত দুর্নীতিচক্রের স্বার্থ অনেক সময় কর্মকর্তাকে দুর্বল করা নয়; বরং তাকে আরামে রাখা।
তিনি যেন বেশি প্রশ্ন না করেন।
প্রতিটি ফাইলের ভেতরে না ঢোকেন।
কর্মচারীদের ওপর আস্থা রাখেন।
বহিরাগত ‘সহযোগীদের’ কাজ করতে দেন।
এবং শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জায়গায় স্বাক্ষর করেন।
এভাবে কর্মকর্তার জন্য একটি অদ্ভুত সুবিধা তৈরি হয়— তিনি কম কাজ করছেন, কিন্তু তার ক্ষমতা কমছে না।
বরং তার ক্ষমতা আরও মূল্যবান হয়ে উঠছে।
কারণ শেষ সইটি তার।
‘ভাগ’ তখন শুধু টাকা নয়
এই ব্যবস্থায় দুর্নীতির অংশীদারিত্ব কেবল নগদ অর্থে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো টাকা, কখনো উপহার, কখনো আপ্যায়ন, কখনো ব্যক্তিগত সুবিধা— বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ক্ষমতার কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হতে পারে।
এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌন সুবিধা বা নারী সরবরাহের মতো গুরুতর ও অপরাধমূলক ব্যবস্থাও ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে— যদিও এগুলোকে কোনোভাবেই সাধারণ প্রশাসনিক আচরণের অংশ হিসেবে দেখা উচিৎ নয়।
মূল বিষয় হলো, চক্রটি কর্মকর্তাকে বোঝাতে চায়— আপনি আমাদের কাজে বাধা দেবেন না, আমরা আপনার জীবন সহজ করে দেব।
এটি একটি বিপজ্জনক সামাজিক চুক্তি।
কারণ এতে দুপক্ষই স্বল্পমেয়াদে লাভবান হয়।
কর্মচারী বা বহিরাগত চক্র লাভ করে অবৈধ আয় ও প্রভাব।
কর্মকর্তা পান অর্থ, সুবিধা, আরাম এবং কম প্রশাসনিক ঝামেলা।
আর নাগরিক?
নাগরিক পান দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি, অতিরিক্ত খরচ এবং অনিশ্চয়তা।
তখন অফিস আর অফিস থাকে না
একটি সরকারি অফিসের স্বাভাবিক কাঠামো হওয়ার কথা—
রাষ্ট্র → কর্মকর্তা → কর্মচারী → নাগরিক।
কিন্তু দুর্নীতির ছায়া প্রশাসন তৈরি হলে কাঠামোটি বদলে যায়—
ক্ষমতাবান কর্মকর্তা ↔ অভ্যন্তরীণ কর্মচারী ↔ বহিরাগত দালাল/স্বার্থগোষ্ঠী → নাগরিক।
রাষ্ট্রের প্রতিনিধি তখন নাগরিকের কাছে জবাবদিহির পরিবর্তে নিজের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ নিয়ে গবেষণায়ও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়— সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি অনেক সময় নাগরিকের পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে কেন্দ্রীভূত থাকে। স্বাস্থ্যখাতের ক্ষেত্রেও বহিরাগত ‘দালাল’ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যস্থতা এবং দুর্বল জবাবদিহির কথা গবেষণায় উঠে এসেছে।
এ কারণেই সমস্যাটিকে শুধু ‘ঘুষ নেওয়া’ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়।
এটি আসলে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার বেসরকারিকরণ।
সরকারি অফিসের ক্ষমতা সরকারি থাকে, কিন্তু সেই ক্ষমতা ব্যবহারের অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ চলে যায় একটি ছোট নেটওয়ার্কের হাতে।
কেন দরিদ্র দেশে এই সমস্যা বেশি ভয়ংকর?
দুর্বল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, জটিল নিয়ম, সীমিত জনবল, দুর্বল তদারকি, তথ্যের অসমতা এবং নাগরিকের বিকল্প সেবার অভাব —সব মিলিয়ে দুর্নীতির জন্য একটি উর্বর পরিবেশ তৈরি হয়।
বিশেষ করে দরিদ্র মানুষ সরকারি সেবার ওপর বেশি নির্ভরশীল। তাদের হাতে বিকল্প থাকে কম।
একজন ধনী মানুষ ভূমি অফিসে ঝামেলা হলে আইনজীবী রাখতে পারেন। হাসপাতালে সমস্যা হলে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে পারেন। কোনো প্রশাসনিক কাজে পরিচিত বা প্রভাবশালী কাউকে ব্যবহার করতে পারেন।
কিন্তু দরিদ্র মানুষ?
তার সামনে অনেক সময় একটিই দরজা।
আর সেই দরজার সামনে যদি একজন দালাল দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে রাষ্ট্রীয় সেবা পাওয়ার অধিকারটিই একটি পণ্য হয়ে যায়।
Transparency International-এর বিশ্লেষণও দেখায়, সেবা পাওয়ার জায়গায় ঘুষ বিশেষভাবে ক্ষতিকর হয় যখন নাগরিকের বিকল্প সেবাদাতা বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।
সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গাটি হলো— সবাই যেন স্বাভাবিক ধরে নেয়
একসময় মানুষ বলতে শুরু করে—
‘ওখানে কাজ করতে হলে অমুকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।’
‘ওই অফিসে সরাসরি গেলে কাজ হবে না।’
‘আগে লোক ধরেন।’
‘কিছু খরচ আছে।’
‘স্যারের সঙ্গে দেখা করার দরকার নেই, আমরা করে দেব।’
এই ভাষাগুলোই আসলে একটি বিকল্প প্রশাসনের জন্মের লক্ষণ।
দুর্নীতি তখন আর বিচ্ছিন্ন অপরাধ থাকে না।
এটি হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক operating system।
কে ফাইল তুলবে, কে আবেদনকারী সামলাবে, কে টাকা নেবে, কে ভাগ দেবে, কে কর্মকর্তার কাছে যাবে, কে শেষ মুহূর্তে সই করাবে— সবকিছুর একটি অদৃশ্য নিয়ম তৈরি হয়।
আর এই নিয়ম যত শক্তিশালী হয়, অফিসপ্রধান তত ‘রাজা’ হয়ে ওঠেন।
কারণ তার কাছে সবাই আসে।
কিন্তু তিনি নিজে খুব কম মানুষের কাছে জবাব দেন।
একেক অফিসে একেক রাজত্ব
রাষ্ট্রের শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী রাজা নন— তিনি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ।
কিন্তু নাগরিকের বাস্তব জীবনে রাষ্ট্রের যে ছোট ছোট দরজা দিয়ে তাকে ঢুকতে হয়, সেখানেই কখনো কখনো একেকজন কর্মকর্তা যেন নিজস্ব রাজ্যের শাসক হয়ে ওঠেন।
ভূমি অফিসে এক ধরনের রাজত্ব।
হাসপাতালে আরেক ধরনের।
কর অফিসে আরেক ধরনের।
কাস্টমসে আরেক ধরনের।
ব্যাংকে আরেক ধরনের।
লাইসেন্স, নিবন্ধন, অনুমোদন কিংবা বিভিন্ন সরকারি সেবার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
প্রতিটি জায়গায় ক্ষমতার কেন্দ্র একটিই— ‘আমার সই ছাড়া হবে না।’
আর সেই সইকে ঘিরেই তৈরি হয় বাজার।
নাগরিক তখন জিম্মি
দুর্নীতির সবচেয়ে বড় শিকার রাষ্ট্র নয়— নাগরিক।
কারণ রাষ্ট্রের টাকা চুরি হলে রাষ্ট্র পরে আরও টাকা সংগ্রহ করতে পারে।
কিন্তু একজন দরিদ্র নাগরিকের কাছ থেকে একটি ছোট ঘুষ নেওয়া মানে তার খাবারের টাকা কমে যাওয়া, সন্তানের পড়াশোনার টাকা কমে যাওয়া, চিকিৎসা পিছিয়ে যাওয়া কিংবা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়া।
সেবা পাওয়ার অধিকার যখন অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়, তখন দরিদ্র মানুষ শুধু টাকা হারায় না— রাষ্ট্রের ওপর তার অধিকারবোধও হারায়।
সে ভাবতে শেখে, সরকার তাকে সেবা দেয় না; কেউ একজন ‘দয়া করে’ কাজটি করে দেয়।
এটাই সবচেয়ে বড় পরাজয়।
সমাধান শুধু কর্মকর্তা বদলানো নয়
একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে বদলি করলে যদি একই কাঠামো থেকে যায়, তাহলে নতুন কর্মকর্তা এসে একই ব্যবস্থার অংশ হয়ে যেতে পারেন।
কারণ সমস্যাটি ব্যক্তি যতটা, তার চেয়ে বেশি incentive structure-এর।
দালালমুক্ত অফিস, প্রত্যেক সেবার নির্দিষ্ট সময় ও খরচ প্রকাশ, ফাইলের ডিজিটাল ট্র্যাকিং, কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের অডিট ট্রেইল, নাগরিক অভিযোগের কার্যকর ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের সুযোগ কমানো— এসব তাই শুধু প্রযুক্তিগত সংস্কার নয়; এগুলো ক্ষমতার অনানুষ্ঠানিক বাজার ভাঙার উপায়।
গবেষণাতেও দেখা গেছে, যথাযথভাবে প্রয়োগ করা ই-গভর্ন্যান্স নাগরিক ও street-level কর্মকর্তা সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কমিয়ে petty corruption কমাতে পারে। তবে শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না; ব্যবস্থাটির নকশা ও জবাবদিহিও গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সরল।
সরকারি অফিস কার জন্য?
কর্মকর্তার জন্য?
কর্মচারীর জন্য?
দালালের জন্য?
নাকি নাগরিকের জন্য?
যেদিন একটি অফিসে কর্মকর্তার আরাম, কর্মচারীর আয় এবং দালালের ব্যবসা— তিনটি জিনিস একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু নাগরিকের অধিকার সেই সমীকরণের বাইরে চলে যাবে, সেদিন সেই অফিস আর জনসেবা প্রতিষ্ঠান থাকে না।
সেটি হয়ে যায় একটি ছোট্ট ব্যক্তিগত রাজ্য।
আর সেখানে কর্মকর্তা রাজা নন— তার চেয়েও ভয়ংকর কিছু।
তিনি এমন এক ব্যবস্থার কেন্দ্র, যেখানে অন্যরা তার হয়ে কাজ করে, অন্যরা তার হয়ে আয় করে, অন্যরা তার হয়ে নাগরিক সামলায়— আর শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের ক্ষমতার বৈধতা আসে শুধু তার একটি স্বাক্ষর থেকে।
এই ব্যবস্থাই ভাঙতে না পারলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যত অভিযানই হোক, এক রাজাকে সরিয়ে আরেক রাজা বসবে।
প্রশ্ন তাই শুধু— কত টাকা ঘুষ নেওয়া হচ্ছে?
প্রশ্ন হওয়া উচিৎ—
কেন একটি সরকারি অফিস এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাজ কমিয়ে দিয়ে তার ক্ষমতার মূল্য আরও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে?
