ঢাকা: দেশের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানিতে কারসাজি, ভ্যাট হয়রানি/সমঝোতা এবং অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগে শতাধিক রাজস্ব কর্মকর্তার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে FollowUpNews। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, ভুক্তভোগী ব্যক্তি এবং গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা সরকারি চাকরির সীমিত বেতনের বাইরে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক কমিয়ে দেওয়া, অবৈধ পণ্য খালাস, আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের সুযোগ করে দেওয়া, ভ্যাট ফাইল আটকে রাখা এবং অডিটের ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ আদায় করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অবৈধ অর্থ আদায় করছে। পদ্ধতিগত ফাঁকফোকড়, এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চললেও নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়, আবার মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে অনেক অনিয়ম সহজেই “ম্যানেজ” হয়ে যায়।
FollowUpNews-এর অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত বিদেশ সফর, বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান, দামি গাড়ি ব্যবহার এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তাদের বিদেশ ভ্রমণ, অভিজাত রিসোর্টে অবস্থান এবং উচ্চ ব্যয়ের নানা ছবি ও তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা, যে ছবিগুলো FollowUpNews-এর হাতে এসেছে। সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব জীবনযাপনের বিশাল অসামঞ্জস্য নিয়ে জনমনে আলোচনা বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তা বিদেশে অর্থ পাচার, বেনামে ফ্ল্যাট ও জমি ক্রয়, আত্মীয়স্বজনের নামে ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর একই গুরুত্বপূর্ণ পদে পূর্বের স্টেশন থেকে আরো ভালো স্টেশনে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, বিমানবন্দর এবং বড় কর অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
FollowUpNews জানিয়েছে, ইতোমধ্যে শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের সম্পদের বিবরণ, কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
অনুসন্ধান টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “জনস্বার্থে দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করাই আমাদের উদ্দেশ্য। দেশের রাজস্ব খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হলে কাস্টমস ও ভ্যাট খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ করা জরুরি।”
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব প্রশাসনের দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাতে থাকবে, বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত স্বাধীন তদন্ত, সম্পদের হিসাব যাচাই এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।
