স্টাফ রিপোর্টার | ফলোআপ নিউজ
সরকারি চাকরিজীবীদের একাংশ সরকারি পরিচয় গোপন করে সাধারণ (Ordinary) পাসপোর্ট গ্রহণ করছেন— এমন একাধিক ঘটনার তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে ফলোআপ নিউজ। অনুসন্ধানে চিকিৎসক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ভূমি প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তার বিষয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ফলোআপ নিউজের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকর্তা পাসপোর্ট আবেদনের সময় নিজেদের সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে উল্লেখ না করে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আবেদন করেছেন। এর ফলে তাদের নামে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও এমন কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার তথ্য পাওয়া গেছে, যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় তাদের বিদেশ যাতায়াতের তথ্য মিললেও প্রতিটি সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিচয় গোপন করে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের ফলে বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
এ বিষয়ে ফলোআপ নিউজের সঙ্গে কথা হয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সরকারি পরিচয় গোপন করে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। জাতীয় পরিচয়পত্রে আবেদনকারীর পেশাগত পরিচয় উল্লেখ না থাকা এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় আগের মতো পুলিশ ভেরিফিকেশন না থাকায় এ ধরনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা আবেদনপত্রে নিজের চাকরিগত পরিচয় উল্লেখ না করেন, তাহলে বিদ্যমান ব্যবস্থায় সব ক্ষেত্রে তা ধরা সম্ভব হয় না। বিষয়টি উদ্বেগের এবং এর ব্যাপ্তি আরও বড় হতে পারে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আবেদনকারীর চাকরিগত তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ডাটাবেসের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যথায় পরিচয় গোপন করে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের সুযোগ থেকে গেলে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা— উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে পেশাগত তথ্য না থাকা, আবেদন প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এ ধরনের ঘটনার সুযোগ সৃষ্টি করছে। তারা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পৃথক ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছেন।
এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংস্করণে যুক্ত করা হবে।
ফলোআপ নিউজের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সরকারি পরিচয় গোপন করে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ, বিদেশ ভ্রমণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
