নিজস্ব প্রতিবেদক
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরুতেই ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেন, সুবিধা নেন। এরপর নিজেদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত অন্যত্র বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান —ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধানে এমন অভিযোগই উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর কিছু কর্মকর্তা পুরোনো হিসাব-নিকাশ খতিয়ে দেখে বড় অঙ্কের বকেয়া ভ্যাট, মামলা কিংবা জরিমানার আশঙ্কা দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই চাপের একপর্যায়ে অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক লেনদেনে বাধ্য হন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব লেনদেনের পরও পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যান। ফলে নতুন কর্মকর্তা এসে আবারও একই ধরনের চাপ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেন। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার পরিবর্তে একটি পুনরাবৃত্ত চক্র তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে অনুসন্ধানে অভিযোগ পাওয়া গেছে, খুলনা সার্কেল-১-এ দায়িত্ব পালনকালে রাজস্ব কর্মকর্তা নাদিম আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছিলেন একাধিক ব্যবসায়ী। অভিযোগকারীদের দাবি, পরে তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে যান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
একইভাবে, প্রায় এক বছর আগে মোংলা কাস্টমস হাউসের মেশিনারি আমদানি শাখায় দায়িত্ব পালনকারী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পলাশ রায়ের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাদের দাবি, অভিযোগ ওঠার পর তিনি বদলি নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে অন্যত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সহকারী কমিশনার মনিষ আগরওয়ালার বিরুদ্ধেও স্বাভাবিক আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। একই সূত্রের দাবি, পলাশ রায় তার আর্থিক বিষয়াদি দেখভাল বা সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেছেন এবং নিজের সম্পদের একটি অংশ আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। ফলোআপ নিউজ স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে মনিষ আগরওয়ালা ও পলাশ রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘন ঘন বদলির কারণে একই প্রতিষ্ঠানে বারবার নতুন কর্মকর্তার মুখোমুখি হতে হয়। প্রত্যেক নতুন কর্মকর্তা নতুনভাবে নথিপত্র পর্যালোচনা করেন, নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আগের সমঝোতা বা নিষ্পত্তিকেও গুরুত্ব দেন না। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের স্থায়ী অনিশ্চয়তা ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাদিম আহমেদ একজন রাজস্ব কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে বিভাগীয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস, নারায়ণগঞ্জে কর্মরত আছেন। পূর্বে তিনি খুলনায় সার্কেল-১-এ কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কাস্টম হাউস আইসিডি, কমলাপুর, ঢাকা এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)-তে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে— খুলনার দু’জন রাজস্ব কর্মকর্তা খুলনায় চাকরি করে আবার দ্রুত ঢাকার আশেপাশে চলে আসলে কীভাবে? প্রশ্ন উঠেছে— উপরে ঘুষ দিয়ে সুবিধামতো পোসিং নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে। ফলোআপ নিউজ অনুসন্ধান করছে ঢাকাতেই বেশি চাকরি করেছেন, এবং ঘুরেফিরে ঢাকা অধবা ঢাকার আশেপাশে পোস্টিং পেতে পছন্দ করেন এমন রাজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়ে।
