Headlines

মডস জোন-৩–এ অনিয়মের অভিযোগঃ কী বলছেন নির্বাহী প্রকৌশলী সালেহ মোহাম্মদ তাওসিফ?

ঢাকা: ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-৩–এ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলো ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে জোনটির বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সালেহ মোহাম্মদ তাওসিফের ভূমিকা নিয়েও। মাত্র ৫ মাস দায়িত্ব না নিতেই তিনি কাঠামোগত দুর্নীতির অংশ হয়ে গিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের অপমান অপদস্থ করার অভিযোগও রয়েছে। এ কাজে তিনি ব্যবহার করেন অফিস স্টাফ  /// কে।

একাধিক অভিযোগকারী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মডস জোন-৩–এ দীর্ঘদিন ধরেই কমিশনভিত্তিক অনিয়ম, ঠিকাদারি কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, বিল অনুমোদনে অনিয়ম, নতুন সংযোগ ও বিভিন্ন সেবা প্রদানে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সালেহ মোহাম্মদ তাওসিফ এই অনিয়মগুলো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি; বরং আগের প্রশাসনিক ব্যবস্থাই বহাল রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঠিকাদারি কার্যক্রম, বিল প্রক্রিয়াকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কমিশননির্ভর একটি সংস্কৃতি বিদ্যমান। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে এবং সেগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে কি না— তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সালেহ মোহাম্মদ তাওসিফের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বেশিদিন যোগদান করেননি বলে জানালেন।

অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন নিরীক্ষা এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা ওয়াসায় (DWASA) একজন নির্বাহী প্রকৌশলী (Executive Engineer) এমন একটি পদে থাকেন, যেখানে একই সঙ্গে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, তদারকি, বিল অনুমোদন এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষমতা থাকে। ফলে যদি কার্যকর জবাবদিহি না থাকে, তাহলে দুর্নীতির একাধিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে সকল ধরনের দুর্নীতিই বিদ্যমান রয়েছে ঢাকা ওয়াসা-এর মডস্ জোন-৩-এ।

মডস্ জোন-৩
ঢাকা ওয়াসা. মডস্ জোন-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সালেহ মোহাম্মদ তাওসিফ।

ঢাকা ওয়াসায় সম্ভাব্য দুর্নীতির সুযোগগুলো সাধারণত নিম্নোক্ত পর্যায়ে তৈরি হতে পারে—

১. প্রকল্পের ব্যয় (Estimate) ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো

  • প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণ পাইপ, ভালভ বা অন্যান্য উপকরণ দেখানো।
  • বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে এস্টিমেট তৈরি করা।
  • অপ্রয়োজনীয় কাজ অন্তর্ভুক্ত করা।

২. টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব

  • নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের শর্ত সাজানো।
  • প্রতিযোগিতা কমিয়ে আনা।
  • দরপত্রের গোপন তথ্য ফাঁস করা।
  • সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দর নিয়ন্ত্রণ।

৩. নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার

  • টেন্ডারে উচ্চমানের উপকরণ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের পাইপ বা যন্ত্রাংশ ব্যবহার।
  • ল্যাব টেস্ট বা মান যাচাইয়ে অনিয়ম।

৪. কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিল প্রদান

  • প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ না হলেও সম্পূর্ণ বিল ছাড় করা।
  • মাঠপর্যায়ে যাচাই ছাড়া Measurement Book (MB) অনুমোদন।

৫. ভুয়া পরিমাপ (Measurement Fraud)

  • ৫০০ মিটার পাইপ বসিয়ে ৭০০ মিটার দেখানো।
  • খননের গভীরতা বা প্রস্থ বেশি দেখানো।
  • অতিরিক্ত আইটেম যুক্ত করা।

৬. Variation Order-এর অপব্যবহার

চুক্তি হওয়ার পর কাজের পরিমাণ বা ব্যয় বাড়ানোর অনুমোদন নেওয়া হয়।

  • শুরুতে কম দামে কাজ নিয়ে পরে Variation-এর মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো।
  • এতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের উদ্দেশ্য নষ্ট হতে পারে।

৭. জরুরি ক্রয়ের (Emergency Procurement) অপব্যবহার

জরুরি পরিস্থিতির অজুহাতে:

  • উন্মুক্ত টেন্ডার এড়িয়ে যাওয়া।
  • সীমিত প্রতিযোগিতায় কেনাকাটা করা।
  • বেশি দামে পণ্য ক্রয়।

৮. নতুন সংযোগ ও অনুমোদন

  • নতুন পানির সংযোগ দ্রুত দেওয়ার নামে ঘুষ।
  • অবৈধ সংযোগ বৈধ করে দেওয়া।
  • সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিনিময়ে অর্থ আদায়।

৯. অবৈধ পানির সংযোগ

  • বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবৈধ লাইন উপেক্ষা করা।
  • মিটার বাইপাসের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া।

১০. ঠিকাদারের বিল আটকে রাখা

বিল অনুমোদনের ক্ষমতা ব্যবহার করে—

  • কমিশন দাবি।
  • নির্দিষ্ট শতাংশ ঘুষ ছাড়া বিল না দেওয়া।

১১. রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ে অনিয়ম

  • একই রাস্তা বা একই লাইনে বারবার মেরামতের বিল।
  • কাগজে-কলমে মেরামত দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন।

১২. স্ক্র্যাপ ও উদ্ধারকৃত মালামাল

  • পুরোনো পাইপ বা যন্ত্রাংশ বিক্রিতে অনিয়ম।
  • প্রকৃত মূল্য গোপন করা।

১৩. বদলি ও পদায়ন

যদি কোনো এলাকা “লাভজনক” হিসেবে পরিচিত হয়, তাহলে:

  • সেখানে পদায়নের জন্য তদবির বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠতে পারে।
  • দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন করলে স্থানীয় স্বার্থগোষ্ঠীর সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্ক তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

১৪. ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি

  • মিটার পরিবর্তন।
  • বিল সংশোধন।
  • সংযোগ পুনঃস্থাপন।
    এসব সেবায় অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠতে পারে।

কোন জায়গাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?

আন্তর্জাতিকভাবে পানি সরবরাহ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে দুর্নীতির উচ্চ-ঝুঁকির ক্ষেত্র হিসেবে ধরা হয়:

  • Procurement (ক্রয়)
  • Construction (নির্মাণ)
  • Contract Management
  • Asset Management
  • Metering & Billing
  • New Connections