Headlines

পদাবনতি ও লাইফ সাপোর্ট কোর্সে ফেল গোপন, যুক্তরাজ্যে বাতিল চিকিৎসকের নিবন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

পদাবনতি, পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ এবং লাইফ সাপোর্ট কোর্সে ব্যর্থতার তথ্য নতুন কর্মস্থলের কাছে গোপন করার ঘটনায় যুক্তরাজ্যে এক চিকিৎসকের মেডিকেল নিবন্ধন বাতিল করেছে দেশটির মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল। চিকিৎসকটির নাম ডা. সুরাইয়া কামাল নাজিব (Surrayya Kamal Najeeb)। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাকে মেডিকেল রেজিস্টার থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় Medical Practitioners Tribunal Service (MPTS)।

ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের University of Karachi-এর Sindh Medical College থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন নাজিব। তিনি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের মেডিকেল রেজিস্টারে ছিলেন। তার বিশেষত্ব ছিল respiratory medicine।

ঘটনার সূত্রপাত ব্ল্যাকপুলে। ২০২১ সালের জুনে তিনি Blackpool Teaching Hospitals NHS Foundation Trust-এ locum consultant হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২২ সালে সেখানে তার consultant পর্যায়ের কাজের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে consultant পদ থেকে registrar পর্যায়ের দায়িত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, ওই পদাবনতি ও তার পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তিনি পরবর্তী চাকরির আবেদনে প্রকাশ করেননি। বরং ২০২২ সালের নভেম্বরে Queen Elizabeth Hospital (QEH), King’s Lynn-এ consultant পদে আবেদন করার সময় নিজেকে respiratory consultant হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাইব্যুনাল মনে করে, এভাবে তিনি নতুন নিয়োগদাতাকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরেকটি তথ্য গোপনের ঘটনা। QEH-তে সাক্ষাৎকারের মাত্র দুই দিন আগে তিনি Advanced Cardiovascular Life Support (ACLS) কোর্সে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হন। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চাকরির সাক্ষাৎকারের সময়ও তিনি এই তথ্য নিয়োগদাতাকে জানাননি।

পরে তিনি ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত King’s Lynn-এর QEH-তে locum consultant হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তার কাজ ও আগের কর্মস্থল নিয়ে উদ্বেগ সামনে আসে।

ক্লিনিক্যাল সক্ষমতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন

মামলায় শুধু তথ্য গোপনের বিষয়ই ছিল না; তার clinical performance নিয়েও আলাদা উদ্বেগ উঠে আসে।

২০২৪ সালের আগস্টে করা একটি GMC performance assessment-এ রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন ও clinical management-কে “unacceptable” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। রোগী ও সহকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপিত উদাহরণগুলোর মধ্যে ছিল গুরুতর অসুস্থ রোগীর গুরুত্বপূর্ণ clinical red flag শনাক্ত করতে না পারা এবং জরুরি মূল্যায়নের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ। একটি ঘটনায় পিঠের ব্যথায় ভোগা জীবনের শেষ পর্যায়ের এক রোগীর জন্য সম্পূর্ণ spinal MRI করার বিষয়ে তিনি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলে নথিতে উঠে আসে।

অন্য একটি ঘটনায়, গর্ভবতী এক নারীর pulmonary embolism-এর আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও sinusitis নিয়ে পরীক্ষা এবং facial X-ray করার বিষয়ে তিনি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

কেন কঠোর সিদ্ধান্ত

MPTS-এর সিদ্ধান্তে তার fitness to practise দুইটি ভিত্তিতে impaired বলে বিবেচিত হয়— dishonesty এবং deficient professional performance। ট্রাইব্যুনাল মনে করে, তার মধ্যে নিজের ভুল বা পেশাগত ঘাটতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত insight এবং তা সংশোধনের প্রমাণ ছিল না।

ট্রাইব্যুনাল শেষ পর্যন্ত মনে করে, শুধু শর্তসাপেক্ষে কাজের অনুমতি বা সাময়িক suspension রোগীর নিরাপত্তা যথেষ্টভাবে নিশ্চিত করবে না। ফলে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তার নাম মেডিকেল রেজিস্টার থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিক suspension-এর আদেশও জারি হয়।

শুনানিতে ডা. নাজিব নিজে উপস্থিত ছিলেন না এবং তার পক্ষে কোনো প্রতিনিধি ছিল না।

ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঘটনাগুলোতে গুরুতর ক্ষতি বাস্তবে ঘটেছে— এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি; তবে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা এবং পেশাগত ঘাটতি সংশোধনের পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসকদের পেশাগত সক্ষমতা ও নিবন্ধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব MPTS-এর। সংস্থাটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের fitness to practise নিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত দেয়।