মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিএমডি ড. তাপস চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন; সিএফও হিসেবে পেশাগত অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা ও ডক্টরেট ডিগ্রির নথিসহ অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট পদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের সকল শর্ত প্রতিপালন করা হয়েছিল বলে ব্যাংকসূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলো ডক্টর তাপস পালের বক্তব্য ছেপেছেও। এরপরও কেন তাকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচার?

নিজস্ব প্রতিবেদক | FollowUpNews
একটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) কীভাবে এককভাবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেন— অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেন, নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও অর্থের গন্তব্যের প্রমাণ কোথায়? মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ডিএমডি ড. তাপস চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে এমন প্রশ্ন সামনে আসছে বিশেষজ্ঞ মহল থেকে। নিউজের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এটি করাচ্ছে বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
ব্যাংকিং খাতের মতো নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন সাধারণত এক ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে সম্পন্ন হয় না। ব্যাংকের হিসাবরক্ষণ, অনুমোদনপ্রক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির মতো একাধিক স্তর থাকে। ফলে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে প্রথমেই জানতে হবে, অর্থটি কোন হিসাব থেকে, কী প্রক্রিয়ায়, কার অনুমোদনে এবং কার কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে।
ড. তাপস চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে সারাবাংলা, ডেইলি বাংলাদেশ, বাহান্ন নিউজ, করাপশন ওয়াচ বাংলাদেশ, ইকোনোমি পোস্ট, শেয়ারনিউজ২৪ ও বিজনেস মিররের প্রতিবেদন রয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই অভিযোগ প্রকাশিত হলেও সবার মধ্যে একই অসারবস্তু! কারো নিউজে ভিন্ন কোনো অনুসন্ধান নেই।
হাজার কোটি টাকার অভিযোগে লেনদেনের হিসাব কোথায়?
ব্যাংকের সাসপেন্স হিসাব, ব্যয়, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, সিএসআর কিংবা কেনাকাটাসংক্রান্ত লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর প্রতিটির আলাদা হিসাব থাকা উচিৎ। কোনো হিসাবে ঘাটতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলেই পুরো অর্থ একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আত্মসাৎ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট লেজার, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অনুমোদনপত্র, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং অর্থের চূড়ান্ত সুবিধাভোগীর তথ্য। পাশাপাশি দেখতে হবে, কথিত লেনদেনের সময় ড. তাপস চন্দ্র পাল কোন পদে ছিলেন, তার দায়িত্ব ও অনুমোদনক্ষমতার পরিধি কতটুকু ছিল এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকার প্রমাণ কী।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সত্য হিসেবে প্রচার করা সমীচীন নয়। আর “অভিযোগ” হলে কে অভিযোগ করেছে সেটি সুস্পষ্টভাবে জানানো সাংবাদিকতার দায়।
সিএফওর দায়িত্ব মানেই কি সব অর্থের দায়?
একটি ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা বা সিএফও আর্থিক প্রতিবেদন, হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ব্যাংকের সব লেনদেনের অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং তদারকি সাধারণত বিভিন্ন বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে বণ্টিত থাকে।
তাই সিএফও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন— এ কারণেই কোনো কর্মকর্তাকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য দায়ী করা যায় না। ব্যাংকের ক্ষেত্রে সবকিছু যেহেতু নথিভিত্তিক, ফলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের উচিৎ নথির ভিত্তিতে বলা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডক্টরেট নিয়ে প্রশ্নের জবাব
ড. তাপস চন্দ্র পালের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সিএফও হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং ডক্টরেট ডিগ্রির প্রমাণসহ অভিযোগের জবাব সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোকে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সিএফও হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য যেসব যোগ্যতার কথা সার্কুলারে বলে থাকে তার সবগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা হয়েছিলো বলে ব্যাংকসংশ্লিষ্ট বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে।
ব্ল্যাকমেইল করছে কারা?
ড. তাপস চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে অভিযোগের পেছনে কোনো মহলের ব্যক্তিগত স্বার্থ, চাপ সৃষ্টি কিংবা ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, তা তদন্তের দাবি রাখে।
অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট নথি না থাকলে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার জবাবদিহি হওয়া উচিৎ।
সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হোক
ঘটনাটিকে কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কিনা, তা নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। অভিযোগের ভাষা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রচারের ধরন এবং তুলনীয় ঘটনায় আচরণের পার্থক্য যাচাই করা যেতে পারে।
কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় যেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড না হয়।
