মাসে কোটি কোটি টাকা কোথায়, কাদের দিতে হয়— মালিকের বক্তব্যে উঠেছে প্রশ্ন। মডেল গ্রুপের শ্রমিকসংখ্যা, বন্ড সুবিধা ও আমদানি-রপ্তানির তথ্যেও রয়েছে অনুসন্ধানের সুযোগ।
ফলোআপ নিউজ | অনুসন্ধান
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে টাকা দিতে হয় বলে শ্রমিকদের বেশি বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না— এমন বক্তব্য দিয়েছেন মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তার দাবি, বিভিন্ন দপ্তরে বছরে লাখ লাখ থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। এসব অর্থ ব্যয় করতে না হলে শ্রমিকদের মাসে ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া সম্ভব হতো।
গত ৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভবনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ বক্তব্য দেন। পরদিন ৬ নভেম্বর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যের একটি অংশ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “অমুকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, অমুকের জন্মদিন, কাস্টমসের অমুক টাকা, এনবিআরের অমুক টাকা, যেখানেই কাগজ লাগে সেখানেই টাকা দিতে হয়। এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। … বছরে কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। এই টাকা আমার শ্রমিকদের দিতে পারতাম।”
প্রশ্ন হচ্ছে, কোন কোন দপ্তরে, কী খাতে, কাদের কাছে এবং কী ধরনের অর্থ দিতে হয়? এগুলো কি সরকারি নির্ধারিত ফি, কর, শুল্ক ও বৈধ সেবা-সংক্রান্ত ব্যয়, নাকি এর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন বা ঘুষও রয়েছে? যদি ঘুষ দিতে হয়, তাহলে সেই অর্থ গ্রহণ করেন কারা? আর যদি সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
একই সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও সামনে আসে— যে শিল্পমালিক শ্রমিকদের ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়ার সক্ষমতার কথা বলছেন, তার নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে কতজন শ্রমিক কাজ করেন? তাদের বেতন-ভাতা, কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক কল্যাণে প্রকৃত ব্যয় কত? প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড সুবিধা ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের তথ্য কী বলছে?
ফলোআপ নিউজের অনুসন্ধানে মডেল গ্রুপের প্রধান প্রতিষ্ঠান মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, গৌমতী নিটওয়্যারস লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকসংখ্যার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। আবার বন্ড ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যেও রয়েছে আরও অনুসন্ধানের অবকাশ।

১৩ হাজার কর্মীর তথ্য, কিন্তু কারখানাভিত্তিক হিসাব কত?
সিটিজেনস ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন ও প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইলে মাসুদুজ্জামানের বিভিন্ন উদ্যোগে প্রায় ১৩ হাজার কর্মীর কাজ করার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তার প্রতিষ্ঠিত বা পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর কথাও এসেছে।
অন্যদিকে, ২০২১ সালের কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মডেল গ্রুপে প্রায় আট হাজার কর্মীর কাজ করার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। দুটি তথ্যের সময়কাল ও পরিধি এক নয়। ফলে ১৩ হাজার কর্মীকে মডেল গ্রুপের বর্তমান পোশাক কারখানার শ্রমিকসংখ্যা হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে মালিকের নিজের বক্তব্যে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর সক্ষমতার প্রসঙ্গ আসায় কর্মীসংখ্যার নির্ভরযোগ্য হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তল্লা রোড, খাপুর, ফতুল্লার একটি কম্পোজিট কারখানায় মোট ৩ হাজার ২০৫ জন শ্রমিকের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ২৪৩ জন এবং নারী ৯৬২ জন। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নম্বর ৬৭-৫৮-১-০০১-০০০৮৪। ডাইফের তথ্য অনুযায়ী, এই নিবন্ধনের মেয়াদ ২২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
একই প্রতিষ্ঠানের নামে নারায়ণগঞ্জ সদরের ২ নম্বর হাজীগঞ্জ ঠিকানায় ডাইফের আরেকটি নিবন্ধনে ১১২ জন শ্রমিকের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৭৮ জন এবং নারী ৩৪ জন।
অন্যদিকে, সাদিয়া ফ্যাশন ওয়্যারস লিমিটেডের ডাইফ-প্রকাশিত তথ্যে ১ হাজার ৪৯ জন শ্রমিকের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৭৩৫ জন এবং নারী ৩১৪ জন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের মেয়াদ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে বলে ডাইফের তথ্যপৃষ্ঠায় দেখা যায়। বর্তমান নিবন্ধন বা নবায়নের অবস্থা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ডাইফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনটি নিবন্ধনের শ্রমিকসংখ্যা
| প্রতিষ্ঠান | পুরুষ | নারী | মোট শ্রমিক |
|---|---|---|---|
| মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (তল্লা রোড) | ২,২৪৩ | ৯৬২ | ৩,২০৫ |
| মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (হাজীগঞ্জ) | ৭৮ | ৩৪ | ১১২ |
| সাদিয়া ফ্যাশন ওয়্যারস লিমিটেড | ৭৩৫ | ৩১৪ | ১,০৪৯ |
| মোট | ৩,০৫৬ | ১,৩১০ | ৪,৩৬৬ |
এখানে উল্লেখিত ৪ হাজার ৩৬৬ জন তিনটি নিবন্ধনের শ্রমিকসংখ্যার যোগফল। এটি মডেল গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রমিকসংখ্যা নয়। একইভাবে, কোনো প্রতিষ্ঠানের একাধিক নিবন্ধন থাকলে সেগুলোকে আলাদা কারখানা বা ইউনিট হিসেবে গণ্য করার বিষয়টিও যাচাই করা জরুরি।

বিজিএমইএ ও ডাইফের তথ্যে শ্রমিকসংখ্যার পার্থক্য
মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্পর্কে বিজিএমইএর সদস্য-প্রোফাইলে কর্মীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ উল্লেখ রয়েছে। অথচ ডাইফের তল্লা রোডের নিবন্ধনে শ্রমিকসংখ্যা ৩ হাজার ২০৫।
একইভাবে, গৌমতী নিটওয়্যারস লিমিটেডের বিজিএমইএ প্রোফাইলে কর্মীর সংখ্যা ৩০০ উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, একটি বেসরকারি তথ্যভান্ডার BayX Bengal-এ ডাইফের নিবন্ধন উদ্ধৃত করে গৌমতীর শ্রমিকসংখ্যা ২ হাজার ৫০০ বলা হয়েছে। সেখানে নিবন্ধনের মেয়াদ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উল্লেখ করে লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তথ্যও দেখানো হয়েছে।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, বিজিএমইএর সদস্য-প্রোফাইলের কর্মীসংখ্যা এবং ডাইফের নিবন্ধিত শ্রমিকসংখ্যা একই সময়ে হালনাগাদ হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি তথ্যভান্ডারের ২ হাজার ৫০০ শ্রমিকের তথ্যও ডাইফের মূল নথি দিয়ে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
তাই কোনো একটি সংখ্যাকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিজিএমইএ এবং ডাইফের কাছে একই তারিখভিত্তিক কারখানাওয়ারি কর্মীসংখ্যা চাওয়া জরুরি।
শ্রমিকদের প্রত্যেকের বেতন ১০ হাজার টাকা বাড়ালে মাসে কত লাগবে?
মাসুদুজ্জামান বলেছেন, বিভিন্ন দপ্তরে অর্থ ব্যয় না করতে হলে শ্রমিকদের ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া সম্ভব হতো। তার বক্তব্যের আলোকে শ্রমিকসংখ্যা ধরে একটি সরল হিসাব করা যায়।
সিটিজেনস ব্যাংকের প্রোফাইলে উল্লিখিত ১৩ হাজার কর্মীকে যদি কেবল উদাহরণ হিসেবে ধরা হয় এবং প্রত্যেকের মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা বাড়ানো হয়, তাহলে—
| হিসাবের ভিত্তি | কর্মীসংখ্যা | প্রত্যেকের বেতন বৃদ্ধি | মাসিক অতিরিক্ত ব্যয় |
|---|---|---|---|
| বিভিন্ন উদ্যোগে উল্লেখিত কর্মী | ১৩,০০০ | ১০,০০০ টাকা | ১৩ কোটি টাকা |
| ডাইফের তিনটি নিবন্ধনের শ্রমিক | ৪,৩৬৬ | ১০,০০০ টাকা | ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা |
১৩ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাড়াবে ১৫৬ কোটি টাকা। আর ডাইফের উল্লিখিত তিনটি নিবন্ধনের ৪ হাজার ৩৬৬ জন শ্রমিকের ক্ষেত্রে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৫২ কোটি ৩৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।
তবে এ হিসাব কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বেতন-ব্যয়ের হিসাব নয়। এটি কেবল প্রত্যেক কর্মীর বেতন ১০ হাজার টাকা বাড়ানোর একটি গাণিতিক উদাহরণ। ১৩ হাজার কর্মীর তথ্যটি বিভিন্ন উদ্যোগের সম্মিলিত প্রোফাইল থেকে নেওয়া; সেখানে সবাই পোশাক কারখানার শ্রমিক কিনা, তা নিশ্চিত নয়। আবার বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত ব্যয় নিরূপণে বর্তমান বেতন, পদ, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও বিবেচনায় নিতে হবে।
তবু হিসাবটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে: মালিক যদি শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর সক্ষমতার কথা বলেন, তাহলে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত শ্রমিকসংখ্যা, বেতন কাঠামো এবং শ্রমিক কল্যাণে ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে আপত্তি কোথায়?

প্রধান দুই প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধা: সরকারি নথিতে কী আছে?
মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বন্ড-সংক্রান্ত তথ্য কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা দক্ষিণের প্রকাশিত এনটাইটেলমেন্ট তালিকায় পাওয়া গেছে।
তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম রয়েছে ‘MODELE DE CAPITAL INDUSTRIES LIMITED (CONTINUOUS BOND)’ হিসেবে। লাইসেন্স নম্বর ৯২০/CUS-SBW/2008। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লাইসেন্সটি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইস্যু করা হয়েছে এবং মেয়াদ ২৩ জুন ২০২৭ পর্যন্ত।
অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সরকারি তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির বন্ড-সুবিধার একটি সক্রিয় মেয়াদসংবলিত রেকর্ড রয়েছে।
গৌমতী নিটওয়্যারস লিমিটেডের ক্ষেত্রেও কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা দক্ষিণের প্রকাশিত তথ্য থেকে লাইসেন্স নম্বর ১৫৫/CUS-SBW/2002 এবং সক্রিয় বন্ড-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ এনটাইটেলমেন্ট, নবায়ন, ব্যবহার ও অডিটের বিস্তারিত নথি আলাদাভাবে সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
বন্ড সুবিধা পোশাকশিল্পের রপ্তানিমুখী উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে নির্ধারিত শর্তে রপ্তানির উদ্দেশ্যে কাঁচামাল শুল্কমুক্ত বা শুল্ক-সুবিধায় আমদানি করা যায়। কিন্তু সেই সুবিধার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কাঁচামালের হিসাব, উৎপাদন, রপ্তানি, মজুত, অপচয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব সমন্বয়ের বাধ্যবাধকতা।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যে মডেল ডি ক্যাপিটালের অবস্থান
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যভান্ডারেও মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের রেকর্ড পাওয়া যায়।
Trademo-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নামে ১১ হাজার ২৭২টি আমদানি চালানের বিপরীতে ঘোষিত মূল্য প্রায় ৩০৯ দশমিক ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে ১৬ হাজার ৭৯৫টি রপ্তানি চালানের বিপরীতে ঘোষিত মূল্য প্রায় ৩৪৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
| সূচক | চালানসংখ্যা | ঘোষিত মূল্য |
|---|---|---|
| আমদানি | ১১,২৭২ | ৩০৯.৮০ মিলিয়ন ডলার |
| রপ্তানি | ১৬,৭৯৫ | ৩৪৮.২৮ মিলিয়ন ডলার |
| রপ্তানি ও আমদানির ঘোষিত মূল্যের পার্থক্য | — | ৩৮.৪৮ মিলিয়ন ডলার |
এই ডেটাবেজের হিসাবে রপ্তানির ঘোষিত মূল্য আমদানির ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ৩৮ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার বেশি। তবে এটিকে সরাসরি মুনাফা, বন্ড-সমন্বয় বা শুল্ক-ফাঁকির প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
Volza-র তথ্যভান্ডারে প্রতিষ্ঠানটির নামে ২৩ হাজার ৭৮১টি রপ্তানি চালান এবং ১২ হাজার ৩৮৩টি আমদানি চালানের রেকর্ড দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, NBD ট্রেড ডেটাবেজে বছরভিত্তিক চালানসংখ্যায় ওঠানামা রয়েছে। এসব ডেটাবেজের সংখ্যা একে অপরের সঙ্গে যোগ করা যাবে না; কারণ তাদের তথ্য সংগ্রহের উৎস, সময়সীমা ও কভারেজ এক নয়।
আন্তর্জাতিক ডেটাবেজের তথ্য অনুসন্ধানের সূত্র হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের কাস্টমসের প্রত্যয়িত বিল অব এন্ট্রি, এক্সপি ও বন্ড রেজিস্টারের বিকল্প নয়।
গৌমতী নিটওয়্যারস লিমিটেডের ক্ষেত্রেও Volza-তে রপ্তানি ও আমদানি চালানের তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে Primark-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি বিদেশি ক্রেতার নাম দেখা যায়। তবে আন্তর্জাতিক ডেটাবেজে ক্রেতা বা চালানের তথ্য থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট পণ্যের চূড়ান্ত রপ্তানি মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন কিংবা বন্ড হিসাব সমন্বয় নিশ্চিত হয়েছে— এমন নয়।

বছরে কোটি কোটি টাকা কোথায় দিতে হয়— মালিকের কাছে প্রশ্ন
মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যে কাস্টমস, এনবিআর, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জন্মদিনের প্রসঙ্গ এসেছে। তিনি বলেছেন, যেখানেই কাগজ লাগে সেখানেই টাকা দিতে হয়। বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। শ্রমিকসংখ্যা হিসেবে বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশী! এই টাকা তিনি কোথায় দেন?
তার বক্তব্যে অর্থের নির্দিষ্ট খাত, দপ্তর, কর্মকর্তা, ব্যক্তি, সময়কাল কিংবা অর্থের পরিমাণ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তার বক্তব্যকে সরাসরি ঘুষ দেওয়ার স্বীকারোক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নেই।
তবে বক্তব্যটি এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই। একজন বড় শিল্পমালিক যদি প্রকাশ্যে বলেন যে বিভিন্ন দপ্তরে বছরে কোটি কোটি টাকা দিতে হয়, তাহলে সেই অর্থের প্রকৃতি ও গন্তব্য সম্পর্কে তার কাছ থেকেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া প্রয়োজন।
মাসুদুজ্জামানের কাছে ফলোআপ নিউজের প্রশ্ন—
১. বছরে কোটি কোটি টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় হয়?
২. কাস্টমস ও এনবিআরের কোন কোন দপ্তরে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হয়?
৩. এসব অর্থ কি সরকারি চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়, নাকি নগদে বা অন্য কোনো মাধ্যমে?
৪. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জন্মদিন উপলক্ষে যেসব অর্থ দেওয়ার কথা বলেছেন, সেগুলো কাদের দেওয়া হয় এবং কী উদ্দেশ্যে?
৫. কোনো কর্মকর্তা বা মধ্যস্থতাকারী কি অনানুষ্ঠানিক অর্থ দাবি করেন? করলে তাদের নাম, পদবি, দপ্তর ও ঘটনার বিবরণ কী?
৬. এসব লেনদেনের কোনো হিসাব, রসিদ, ব্যাংক লেনদেন, বার্তা বা অন্য কোনো প্রমাণ তার কাছে রয়েছে কি?
৭. সরকারি দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তিনি কি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন?
৮. শ্রমিকদের বেতন ১০ হাজার টাকা বাড়ানোর সক্ষমতার যে কথা বলেছেন, তার সব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শ্রমিকসংখ্যা ও বেতন কাঠামো প্রকাশ করবেন কি?

সরকারি কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে
শিল্পমালিকদের বক্তব্যে সরকারি দপ্তরে ঘুষ, হয়রানি ও অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতারাও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানি ও অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন। প্রেস নারায়ণগঞ্জের ৬ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের পাশাপাশি মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও বন্ড অডিটে অর্থ দেওয়ার অভিযোগের কথা বলেছেন। একটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বন্ড অডিটের সময় ২৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীমও নতুন কারখানার অনুমোদনসংক্রান্ত কাজে অর্থ দাবির অভিযোগ প্রকাশ্যে তুলেছেন।
এ ধরনের অভিযোগ গুরুতর। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগ, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রয়োজন।
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সেবা দেওয়া। কোনো লাইসেন্স, বন্ড অডিট, অনুমোদন বা কাগজপত্রের জন্য কত টাকা সরকারি ফি দিতে হবে, তা প্রকাশ্যে থাকা উচিত। কোন কাজ কত দিনে সম্পন্ন হবে, কোন পর্যায়ে কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন এবং ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ হলে কোথায় প্রতিকার পাওয়া যাবে— এসব তথ্যও নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য সহজলভ্য হওয়া দরকার।
অন্যদিকে, কোনো শিল্পমালিক যদি অবৈধ অর্থ দিয়ে থাকেন, তাহলে শুধু অর্থ গ্রহণকারীকেই নয়, অর্থদাতার ভূমিকা ও উদ্দেশ্যও তদন্তের আওতায় আসা উচিৎ। ঘুষের অভিযোগে অর্থদাতা নিজেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত দাবি করতে পারেন না। একইভাবে, ঘুষ দাবি বা গ্রহণের অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তারাও দায় এড়াতে পারেন না।
এখানে মূল প্রশ্ন— কেউ কি অবৈধ অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছেন, নাকি সুবিধা আদায়, ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি কিংবা অনিয়ম আড়াল করার জন্য নিজেরাই অর্থ দিয়েছেন? অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে হলে উভয় পক্ষের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করতে হবে।
বন্ড সুবিধা ও শ্রমিকের বেতনের সম্পর্ক কোথায়?
মডেল গ্রুপের প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড সুবিধা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং শ্রমিকসংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সামনে আসে। রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক-সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করে উৎপাদন ও রপ্তানি করে। এই ব্যবস্থায় সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং সুবিধার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
কোনো প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য থাকলেই অনিয়ম প্রমাণ হয় না। তবে আমদানি করা কাঁচামাল কোথায় ব্যবহৃত হলো, কত পণ্য উৎপাদিত হলো, কত রপ্তানি হলো, কত অপচয় হলো, কত অবশিষ্ট রইল এবং কোনো পণ্য অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে কিনা— এসব প্রশ্নের উত্তর বন্ড অডিটে পাওয়া সম্ভব।
একই গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলে আন্তপ্রতিষ্ঠান কাঁচামাল স্থানান্তর, সাবকন্ট্রাক্টিং, উৎপাদন ও রপ্তানির হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। এক প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা কাঁচামাল অন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হলে তার আইনগত ভিত্তি ও অনুমোদনের নথি থাকতে হবে।
তাই মডেল ডি ক্যাপিটাল ও গৌমতী নিটওয়্যারসের ক্ষেত্রে শুধু আমদানি-রপ্তানির মোট সংখ্যা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বন্ড রেজিস্টার, ইউডি, বিল অব এন্ট্রি, এক্সপি, স্টক ও অডিট আপত্তির তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
বন্ড কমিশনারেটের কাছে ফলোআপ নিউজের প্রশ্ন
মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও গৌমতী নিটওয়্যারস লিমিটেডের বিষয়ে গত পাঁচ বছরের তথ্য জানতে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা দক্ষিণের কাছে ফলোআপ নিউজের প্রশ্ন—
১. গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এআরও/আরও এবং ডিসি/এসি কর্মকর্তারা কারা ছিলেন? কোন কর্মকর্তা কত তারিখ থেকে কত তারিখ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন?
২. প্রতিষ্ঠান দুটির নামে গত পাঁচ বছরে কতটি বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়েছে এবং আমদানির মোট মূল্য কত?
৩. একই সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটির নামে কতটি এক্সপি দাখিল হয়েছে এবং রপ্তানির মোট মূল্য কত?
৪. আমদানি করা কাঁচামালের বিপরীতে উৎপাদন ও রপ্তানির হিসাব কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে?
৫. প্রতিষ্ঠান দুটির বন্ড অডিট কতবার সম্পন্ন হয়েছে? কোনো অডিট আপত্তি, শুল্ক-কর দাবি, জরিমানা বা মামলা রয়েছে কি?
৬. কোনো কাঁচামাল ঘাটতি, অতিরিক্ত মজুত, অপচয় কিংবা অনুমোদনবহির্ভূত ব্যবহার শনাক্ত হয়েছে কি?
৭. প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে অথবা একই গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাঁচামাল স্থানান্তর বা সাবকন্ট্রাক্টিংয়ের অনুমোদন রয়েছে কি?
৮. গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ, তদন্ত বা বিশেষ নজরদারি পরিচালিত হয়েছে কি?
৯. বন্ড লাইসেন্স ও এনটাইটেলমেন্ট নবায়নের সময় কী কী শর্ত যাচাই করা হয়েছে?
১০. বন্ড-সংক্রান্ত সেবা, অডিট, অনুমোদন ও অন্যান্য কাজের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি বা চার্জের তালিকা কী?
শ্রমিকের বেতন বাড়ানোর কথা বললে হিসাবও প্রকাশ করা উচিৎ
মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ব্যাখ্যা যাই হোক, শ্রমিকদের বেতন ও জীবনমানের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকশ্রমিকেরা উৎপাদন ও রপ্তানি আয়ের বড় অংশের ভিত্তি তৈরি করেন। অথচ তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসস্থান, চিকিৎসা, খাদ্য ও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বিবেচনায় ন্যায্য মজুরি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের।
কোনো মালিক যদি বলেন, অনানুষ্ঠানিক অর্থ ব্যয় বন্ধ হলে শ্রমিকদের বেতন ৪০ হাজার টাকা করা সম্ভব, তাহলে সেই বক্তব্যের পক্ষে তার নিজের প্রতিষ্ঠানের হিসাব প্রকাশ করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শ্রমিকসংখ্যা, গড় বেতন, সর্বনিম্ন বেতন, ওভারটাইম, বার্ষিক মুনাফা, শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় এবং সরকারি দপ্তরে পরিশোধিত ফি-কর-শুল্কের হিসাব প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
একইভাবে, সরকারি দপ্তরগুলো যদি নির্ধারিত ফি, সেবা প্রদানের সময়সীমা, অডিট আপত্তি ও কর্মকর্তা-দায়িত্বের তথ্য প্রকাশ করে, তাহলে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ যাচাই করা সহজ হবে।
শুধু ‘ঘুষ দিতে হয়’ বলে বক্তব্য দিলেই শিল্পমালিকের দায় শেষ হয় না। আবার ‘ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন’ বলে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়ও শেষ হয় না। অর্থের উৎস, গন্তব্য, লেনদেনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা— সবকিছুই তদন্তের আওতায় আসতে হবে।
মাসুদুজ্জামান মাসুদের বক্তব্য তাই শুধু শ্রমিকের বেতন বাড়ানোর সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; এটি সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা, শিল্পমালিকের দায়বদ্ধতা এবং বন্ড সুবিধার জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে এনেছে।
ফলোআপ নিউজের অবস্থান স্পষ্ট: ঘুষ দাবি করলে সরকারি কর্মকর্তাকে জবাব দিতে হবে; আর ঘুষ দিলে শিল্পমালিককেও তার ভূমিকা ও লেনদেনের ব্যাখ্যা দিতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো পক্ষের দায় এড়ানোর অজুহাত হতে পারে না।
তথ্যসূত্র ও অনুসন্ধানের ভিত্তি
১. সিটিজেনস ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৪ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল—মাসুদুজ্জামানের বিভিন্ন উদ্যোগে প্রায় ১৩ হাজার কর্মীর তথ্য।
২. কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ)—মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, তল্লা রোড, ফতুল্লা; লাইসেন্স নম্বর ৬৭-৫৮-১-০০১-০০০৮৪; শ্রমিক ৩,২০৫ জন।
৩. কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর—মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, হাজীগঞ্জ; শ্রমিক ১১২ জন।
৪. কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর—সাদিয়া ফ্যাশন ওয়্যারস লিমিটেড; শ্রমিক ১,০৪৯ জন।
৫. বিজিএমইএ সদস্য-প্রোফাইল—মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও গৌমতী নিটওয়্যারস লিমিটেড।
৬. কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা দক্ষিণ—প্রকাশিত এনটাইটেলমেন্ট তালিকা; মডেল ডি ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লাইসেন্স নম্বর ৯২০/CUS-SBW/2008।
৭. কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা দক্ষিণ—গৌমতী নিটওয়্যারস লিমিটেডের বন্ড লাইসেন্স-সংক্রান্ত তথ্য।
৮. Trademo, Volza ও NBD—প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি চালানের তথ্য। এগুলো তৃতীয় পক্ষের বাণিজ্য-তথ্যভান্ডার; চূড়ান্ত কাস্টমস নথির বিকল্প নয়।
৯. Bangla Tribune, ৬ নভেম্বর ২০২৬—মাসুদুজ্জামান মাসুদের বক্তব্য।
১০. Channel i Online, ৬ নভেম্বর ২০২৬—শ্রমিকদের বেতন ও সরকারি দপ্তরে অর্থ ব্যয় নিয়ে মাসুদুজ্জামানের বক্তব্য।
১১. প্রেস নারায়ণগঞ্জ, ৬ নভেম্বর ২০২৬—সরকারি দপ্তরে হয়রানি ও অর্থ দাবির অভিযোগ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতাদের বক্তব্য।
সম্পাদনা নোট: এ প্রতিবেদনে শ্রমিকসংখ্যা ও বাণিজ্য-তথ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উৎসের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়েছে। মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যে উল্লিখিত অর্থকে প্রমাণ ছাড়া ঘুষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, এনবিআর, ডাইফ ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
