Headlines

উপকমিশনার তানজিলা ইয়াসমীন বললেন, ভ্যাট আইন এবং আদায় প্রক্রিয়া নিয়ে তিনিও অস্বস্তিতে থাকেন

কাস্টমস্ কর্মকর্তা
উপ কমিশনার
উপ কমিশনার তানজিলা ইয়াসমীন; কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট, টঙ্গী বিভাগ।

গাজীপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের টঙ্গী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার তানজিলা ইয়াসমীন বলেছেন, দেশের বর্তমান ভ্যাট আইন এবং আদায় প্রক্রিয়া নিয়ে তিনিও অনেক সময় অস্বস্তি অনুভব করেন। সম্প্রতি FollowUpNews-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় তিনি বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো অধিকাংশ ব্যবসায়ীর আইন, বিধিমালা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকা।

তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী আইন অনুযায়ী চলার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে আগ্রহী হন। তাদের একটি অংশ মনে করেন, কর্মকর্তার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোই সহজ পথ। এই মানসিকতার সুযোগ কিছু অসাধু কর্মকর্তা বা মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ে থাকতে পারেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তার মতে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছায় আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

তবে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তাদের দাবি, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাট সংক্রান্ত নিবন্ধন, রিটার্ন, নিরীক্ষা কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘খুশি’ করতে হয়। তা না হলে নথিপত্রে ছোটখাটো বা কারিগরি ত্রুটি খুঁজে বের করে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আইন এতটাই জটিল যে কোনো না কোনো ভুল বের করার সুযোগ প্রায় সব সময়ই থেকে যায়। ফলে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার চেয়ে কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট রাখার চাপই অনেক সময় বেশি অনুভূত হয়।

ব্যবসায়ীদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে ভ্যাট ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য, জটিল আইন, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা এবং কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিবেচনাধিকার—এই তিনটি বিষয় মিলেই একটি অনানুষ্ঠানিক দর-কষাকষির সংস্কৃতি তৈরি করেছে, যা রাজস্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভ্যাট আইন সহজ করা, ডিজিটাল প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা, কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এ ধরনের অভিযোগ অনেকটাই কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ভ্যাট আদায় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেলে সরকারের রাজস্ব আহরণ যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আইন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।


কাস্টমস কর্মকর্তা তানজিলা ইয়াসমিনের কর্মজীবন ও স্টেশন পরিবর্তন

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডারের একজন দক্ষ কর্মকর্তা তানজিলা ইয়াসমিন। সরকারি দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাস্টম হাউস এবং ভ্যাট কমিশনারেটে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে বর্তমানে তিনি উপ-কমিশনার (ডেপুটি কমিশনার) পদে উন্নীত হয়েছেন।
১. মোংলা কাস্টম হাউস (সহকারী কমিশনার)
তানজিলা ইয়াসমিনের কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কাটে মোংলা কাস্টম হাউসে। ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সময় তিনি মোংলা পোর্টে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন।
২. কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনা (উপ-কমিশনার)
মোংলা কাস্টম হাউসে সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে পদোন্নতি ও নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে তিনি খুলনা অঞ্চলে বদলি হন। সেখানে তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনা-এ উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান। মোংলা ও খুলনার এই দুটি স্টেশনে কাজ করার মাধ্যমে তিনি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজস্ব আহরণ ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
৩. কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)
খুলনা অঞ্চলের পর তানজিলা ইয়াসমিনকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব খাত ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এ উপ-কমিশনার হিসেবে পদায়িত হন। এই স্টেশনে তার কাজের পরিধি ঢাকা এবং এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিস্তৃত ছিল।
৪. কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, গাজীপুর (বর্তমান কর্মস্থল)
ঢাকা উত্তর কমিশনারেটের অধীনে কর্মরত থাকাকালীনই তিনি মূলত গাজীপুর জোনের রাজস্ব তদারকির দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তীতে গাজীপুর অঞ্চল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ভ্যাট কমিশনারেট গঠিত হলে তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, গাজীপুর-এ উপ-কমিশনার হিসেবে যুক্ত হন।
৫. ২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রশাসনিক রদবদল
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাস্টমস প্রশাসনের শীর্ষ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ঘটায়। ৩ ও ৫ ফেব্রুয়ারিতে জারি করা পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৩ জন কমিশনার, ৮ জন উপ-কমিশনারসহ মোট ৩৮ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়। এই ৮ জন উপ-কমিশনারের তালিকায় তানজিলা ইয়াসমিন অন্যতম, যার মাধ্যমে তার কর্মস্থলে পুনরায় পরিবর্তন আনা হয়।