Headlines

বিভাগ ভাগে কমেছে কথিত ‘টেবিল মানির’ পরিধি? লালবাগ–কেরাণীগঞ্জ পুনর্গঠনে ভ্যাট প্রশাসনে নতুন আলোচনা

কাস্টমস্

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন লালবাগ ভ্যাট বিভাগ বিভক্ত করে নতুন কেরাণীগঞ্জ ভ্যাট বিভাগ গঠনের পর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আর্থিক সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, করদাতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত অনানুষ্ঠানিক ‘টেবিল মানি’র পরিধিও কমেছে। আর এটিকেই অভ্যন্তরীণভাবে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ‘সক্ষমতা কমে যাওয়া’ বলে উল্লেখ করছেন।

একাধিক সূত্র জানায়, বিভাগ পুনর্গঠনের আগে লালবাগ বিভাগের অধীনে প্রায় ২০ হাজার ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (BIN) ছিল। নতুন কেরাণীগঞ্জ বিভাগ চালু হওয়ার পর সেই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে বিভাগের আওতাধীন করদাতা ও কার্যপরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঢাকার একটি ভ্যাট বিভাগ থেকেই প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার কথিত ‘টেবিল মানি’ বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে। তবে এসব অর্থের কোনো সরকারি হিসাব না থাকায় এর প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, লালবাগ বিভাগ বিভক্ত হওয়ার পর এই অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ভ্যাট প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এখানে ‘সক্ষমতা কমেছে’ বলতে সরকারি রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বোঝানো হচ্ছে না। বরং কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনৈতিক আর্থিক সুবিধা বা কথিত ‘টেবিল মানি’ সংগ্রহের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টিই ইঙ্গিত করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে নেই।

কর প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, একটি বিভাগ পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত করদাতাদের আরও সহজ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা, নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং রাজস্ব আদায় আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা। কিন্তু যদি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে, তবে তা কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে। আবার এটাও আলোচনায় এসেছে— কমিশারেট এবং বিভাগ বাড়লে অস্বস্তিতে পড়বে মূলত উপরের সারির কর্মকর্তারা। রাজস্ব কর্মকর্তা এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য বিষয়টি একই থাকবে। যদিও ভিন্ন প্রজ্ঞাপনে তিন মাস পর পর ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার নতুন এক আইন করে তাদের অলিখিত সুযোগের লাগামও কিছুটা টেনে ধরা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে বিশ্লষকরা বলছে, কিছুতেই কিছু হবে না। পুরো সংস্কৃতি না বদলালে আইন বদলিয়ে কিছু হবে না।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।