১. মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।”
— কাজী নজরুল ইসলাম, মানুষ কবিতা।
২. ধর্মের নামে মানুষকে ঘৃণা করার বিরুদ্ধে
“মানুষেরে ঘৃণা করি ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি।”
— কাজী নজরুল ইসলাম, মানুষ কবিতা।
৩. ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে
“গাহি সাম্যের গান— যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান, যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রিশ্চান।”
— কাজী নজরুল ইসলাম, সাম্যবাদী কবিতা।
৪. মানবিকতাই সর্বোচ্চ—এই বোধ সম্পর্কে
“মসজিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়,”
— কাজী নজরুল ইসলাম, সাম্যবাদী কবিতা।
৫. মানুষের হৃদয়ের মহত্ত্ব সম্পর্কে
“মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।”
— কাজী নজরুল ইসলাম, সাম্যবাদী কবিতা।
৬. সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবতা
“হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন? কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার!”
— কাজী নজরুল ইসলাম, কাণ্ডারী হুঁশিয়ার কবিতা।
৭. জাতপাত ও পরিচয়ভিত্তিক বিভেদের বিরুদ্ধে
“জাতের নামে বজ্জাতি সব, জাত-জালিয়াত খেলছ জুয়া।”
— কাজী নজরুল ইসলাম।
৮. ধর্মকে স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার বানানোর বিরুদ্ধে
“কাটায়ে উঠেছি ধর্ম-আফিম নেশা, ধ্বংস করেছি ধর্ম-যাজকী পেশা,”
— কাজী নজরুল ইসলাম, বিংশ শতাব্দী কবিতা।
৯. ধর্মীয় কর্তৃত্বের নামে মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে
“তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী, মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি।”
— কাজী নজরুল ইসলাম, মানুষ কবিতা।
১০. সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে
নজরুলের মন্দির ও মসজিদ প্রবন্ধের মূল ভাবনা— ধর্মের নামে মানুষের ওপর আঘাত ও রক্তপাত মানবতার পরাজয়।
— কাজী নজরুল ইসলাম, মন্দির ও মসজিদ প্রবন্ধের ভাবার্থ।
নজরুলের মানবতাবাদী দর্শনের মূল কথাঃ
ধর্ম মানুষের জন্য, মানুষ ধর্মের জন্য নয়। ধর্মের নামে ঘৃণা, বিভেদ, নিপীড়ন ও সহিংসতা ছড়ানো মানবতার আদর্শের পরিপন্থী।

