নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারে মাদক কারবারিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের কথিত যোগসাজশ নিয়ে অতীতে যেসব প্রশ্ন উঠেছিলো, সেসব আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাঙামাটিতেও মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও একাধিক অভিযোগকারীর দাবি, জেলার কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কম হলেও মাদকসেবী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বেশি। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পুলিশ পরিদর্শক ধনঞ্জয় চন্দ্র দেবনাথের নাম।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাদকসেবনের অভিযোগে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মাদক সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, অথচ দুর্বল অবস্থানে থাকা ব্যক্তিরাই বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ বারবার সামনে আসছে কেন? মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
একাধিক অভিযোগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় সাধারণ মানুষকেই চাপের মুখে ফেলা হয়। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যায়।”
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান অবশ্যই প্রয়োজন; তবে সেই অভিযান হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বৈষম্যহীন। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা মাদক কারবারিদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ উঠলে তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পরিদর্শক ধনঞ্জয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
রাঙামাটির সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্ত সংস্থার। তবে জনস্বার্থে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। কারণ মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে—
* প্রকৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কতটি বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে?
* অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়েছে কি?
* মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের তুলনায় সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
* মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?
* এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি?
রাঙামাটিবাসী এখন এসব প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে।
