Headlines

পানগাঁও কাস্টমস হাউজ: তথ্য চাইতে গিয়ে ফলোআপ নিউজ পড়লো প্রশাসনিক গোলকধাঁধায়

পানগাঁও কাস্টমস্ হাউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | FollowUpNews

সরকারি দপ্তরগুলোতে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চিত্রটি ভিন্ন। পানগাঁও কাস্টমস হাউজে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ফলোআপ নিউজ-এর সম্পাদক এমনই এক প্রশাসনিক গোলকধাঁধার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে এক কর্মকর্তা আরেক কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি।

অনুসন্ধানের শুরুতে পানগাঁও কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনেই রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধানী কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। কিন্তু কমিশনারের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে তথ্য সংগ্রহের পথ আরও জটিল হয়ে ওঠে।

কমিশনার (পানগাঁও কাস্টমস্ হাউজ) মোহাম্মদ বশির আহমেদ।

তথ্য সংগ্রহের জন্য হেডকোয়ার্টার আরও হিসেবে মনোনিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের খোঁজ করা হলে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অফিসে নেই। তিনি ছুটিতে না থাকলেও ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। একই ইউনিটের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার অবস্থান বা দায়িত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি একই ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তারা মিজানুর রহমান নামটিও সহজে চিনতে পারেন না।।

পরে তথ্যের জন্য রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল কাসেম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সহকারী প্রোগ্রামার মোয়াজ্জেম হোসেন-এর কাছে পাঠান। কিন্তু মোয়াজ্জেম হোসেন স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এ ধরনের কোনো তথ্য দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না।

এরপর ফোনে যোগাযোগ করা হয় যুগ্ম কমিশনার হাসনাইন মাহমুদ-এর সঙ্গে। তিনি পুনরায় হেডকোয়ার্টারের এআরও ও সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি “নিয়মমাফিক” তথ্য চাওয়ার কথা বলেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর অধীনে আবেদন করার কথা বলছেন? উত্তরে তিনি বলেন, করতে পারেন।

এদিকে, খাদ্য আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য জানতে এর আগে ফলোআপ নিউজ যোগাযোগ করেছিল রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম মনিরুল ইসলাম-এর সঙ্গে। তিনি জানান, মাত্র দশ দিন আগে তিনি এ দপ্তরে যোগ দিয়েছেন। পূর্বের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরোনো কেউ বর্তমানে কর্মরত নেই। একজন পুরোনো কর্মকর্তা রয়েছেন, তবে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে— কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী “অনলাইনে রয়েছে”, সেই তথ্যের উৎস, ব্যাখ্যা কিংবা প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি সম্পর্কে জানতে চাইলে কেন একজন সাংবাদিককে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে, এক কর্মকর্তা থেকে আরেক কর্মকর্তার কাছে ঘুরতে হয়?

তথ্য অধিকার আইন নাগরিক ও গণমাধ্যমকে তথ্যপ্রাপ্তির একটি আইনি কাঠামো দিয়েছে। তবে যে তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশযোগ্য, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কিংবা প্রশাসনিকভাবে সহজেই সরবরাহ করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রেও যদি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে সরকারি দপ্তরের স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ এবং গণমাধ্যমবান্ধব প্রশাসনের লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে— সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ফলোআপ নিউজ বিশ্বাস করে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য জনগণের সম্পদ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হওয়া জরুরি। পানগাঁও কাস্টমস হাউজের এই অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিচ্ছবি, যেখানে সহযোগিতার আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে তথ্যের পথ এখনো বহু ক্ষেত্রে জটিল, ধীর এবং আমলাতান্ত্রিক।