স্টাফ রিপোর্টার | FollowUpNews
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর অধীন বংশাল ভ্যাট সার্কেলে গত পাঁচ বছরে কর্মরত কয়েকজন রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা। অভিযোগকারীদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট, সিমেন্ট, সাইকেল আমদানিকারক, রড ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের দাবি, ভ্যাট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, পরিদর্শন, নির্ধারণ, নিবন্ধন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে অবৈধ অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি ফি বা করের বাইরে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক ক্ষেত্রে ফাইল আটকে রাখা, অযথা নোটিশ প্রদান, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয় বলে তারা দাবি করেন। ফলে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে অনেককে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অর্থ দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে— প্রতি মাসে সংগৃহীত অবৈধ অর্থের পরিমাণ বিশাল একটি অংক।
তাদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও প্রতিশোধমূলক হয়রানির আশঙ্কায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। সম্প্রতি শতাধিক ব্যবসায়ী একই ধরনের অভিযোগ তুললেও তারা বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা বলতে চান না, তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে বেশি আগ্রহী। রাজস্ব কর্মকর্তারা বলেছেন ব্যবসায়ীরা ফাঁকির আগ্রহ থেকে অনেক রাজস্ব কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফলে। তাদের দুর্নীতি নিয়ে আপনাদের নিউজ করা উচিৎ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বংশাল ভ্যাট সার্কেলে রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুশফিকুর রহমান, ইমাম হোসেন, এম. এ. কাসেম, জাহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মোফিজুর রহমান (জোসেফ), মো. নূরে আলম এবং সুব্রত চন্দ্র সরকার। তবে FollowUpNews স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি যে অভিযোগগুলো উল্লিখিত কর্মকর্তাদের মধ্যে কার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে প্রযোজ্য। এ কারণে এই প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বংশাল ভ্যাট সার্কেলের বর্তমান রাজস্ব কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, “আমি শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই।”
অভিযোগে যেসব বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তার নাম এসেছে, তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
এরকম একটি প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে অনুসন্ধান পরিচালনা করছে ফলোআপ নিউজ।

