Headlines

শ্যামা জুয়েলার্সের সঞ্জু কর্মকার কেন ফলোআপ নিউজের সম্পাদক দিব্যেন্দু দ্বীপের পেছনে এভাবে লেগে আছেন?

অভিযোগ

ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে স্বার্থের সংঘাত— প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।

মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র 

ফলোআপ নিউজের সম্পাদক দিব্যেন্দু দ্বীপকে ঘিরে শ্যামা জুয়েলার্সের সঞ্জু কর্মকারের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বছরখানেক আগে খুলনা সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ব্যবহার করে সঞ্জু কর্মকারের নেতৃত্বে দিব্যেন্দু দ্বীপকে হেনস্তা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং এর পেছনের কারণ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দিব্যেন্দু দ্বীপের সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানী কার্যক্রম কোনো না কোনোভাবে শ্যামা জুয়েলার্সের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে থাকতে পারে— এমন ধারণাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শ্যামা জুয়েলার্সকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এসব অভিযোগ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে দিব্যেন্দু দ্বীপকে কি একটি সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে?

অবশ্য এ ধরনের ধারণার পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়। সঞ্জু কর্মকারের বক্তব্য এবং শ্যামা জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রকৃতিও পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।

দিব্যেন্দু দ্বীপ: সাংবাদিকতার বাইরেও বহুমাত্রিক পরিচয়

দিব্যেন্দু দ্বীপ কেবল একজন লেখক কিংবা সাংবাদিক নন। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা, সামাজিক উদ্যোগ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তার বহুমাত্রিক পরিচয় রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি VAT ও Tax বিশ্লেষক হিসেবে তার পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত FollowUpNews-এর সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন। তার সাংবাদিকতার অন্যতম ক্ষেত্র কর-ভ্যাট, কাস্টমস, বন্ড ব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম, ব্যাংকিং খাত এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি।

তিনি Safe Food Movement-এর আহ্বায়ক। পাশাপাশি REcNU (Rehabilitation for Extraordinary Children & Neurodiverse Understanding)-এর মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রান্তিক শিশুদের পুনর্বাসন, সহায়তা, সচেতনতা এবং গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

লেখালেখি, গবেষণা, সামাজিক আন্দোলন এবং মানবিক উদ্যোগ— সব মিলিয়ে দিব্যেন্দু দ্বীপের পরিচয় বহুমাত্রিক। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে তাঁর কাজ তাকে সাংবাদিকতার প্রচলিত পরিচয়ের বাইরেও একটি সামাজিক ভূমিকা দিয়েছে।

সাংবাদিককে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা হলে প্রশ্ন উঠবে

একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কারও ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিপরীতে যেতে পারে। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়ায় কোনো সাংবাদিককে হয়রানি, হেনস্তা কিংবা চাপের মুখে ফেলার অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনস্বার্থে তথ্য অনুসন্ধানের পরিবেশের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

দিব্যেন্দু দ্বীপের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার আইনসম্মত প্রতিকার রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তাকে চাপে রাখার চেষ্টা হয়ে থাকলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সঞ্জু কর্মকারের কাছে প্রশ্ন— দিব্যেন্দু দ্বীপের সঙ্গে তার বিরোধের প্রকৃত কারণ কী? শ্যামা জুয়েলার্সকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে এই বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি? বছরখানেক আগের কথিত হেনস্তার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, নথি ও স্বাধীন অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

দিব্যেন্দু দ্বীপের মতো একজন লেখক, সাংবাদিক, গবেষণামুখী পেশাজীবী ও সমাজকর্মীকে ঘিরে কোনো বিরোধ থাকলে সেটির নিষ্পত্তি হওয়া উচিৎ তথ্য, যুক্তি ও আইনের ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত চাপ বা হয়রানির মাধ্যমে নয়। জনস্বার্থে সাংবাদিকতার প্রশ্নে একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর সমাজেরও বিষয়।