ইংরেজি সাহিত্যের বহুল পরিচিত ক্লাসিক শিরোনাম “Happy the Man” ব্যবহার করে বই প্রকাশ করায় কাস্টমস কর্মকর্তা অরুণ কুমার বিশ্বাসকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সাহিত্যবোদ্ধা ও সচেতন পাঠকদের একাংশের মতে, “Happy the Man” নামটি ইংরেজি সাহিত্যে দীর্ঘদিন ধরে সুপরিচিত; জন ড্রাইডেন এবং অ্যালেক্সান্ডার পোপের মতো কবিদের রচনার সঙ্গে এই শিরোনামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে একজন শিক্ষিত সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বইয়ের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাঠকদের কাছে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে পারতেন।

সমালোচকদের প্রশ্ন, তিনি কি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক শিরোনামের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করেছেন, নাকি এটি নিছক কাকতালীয়? তাদের মতে, বইটির ভূমিকায় বা প্রকাশনা-সংক্রান্ত অংশে শিরোনামের উৎস, অনুপ্রেরণা বা সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা হলে বিতর্কের অনেকটাই এড়ানো যেত।
আরও একটি অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে— অরুণ কুমার বিশ্বাস নাকি নিজের বই ও ব্যক্তিগত পরিচিতি বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বইটির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অর্থ ব্যয় করছেন। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, ডিজিটাল প্রচারণা বর্তমানে অনেক লেখক ও প্রকাশকের সাধারণ কৌশল হলেও, সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নটি বেশি গুরুত্ব পায়।
তবে FollowUpNews মনে করে, ব্যক্তিগত প্রচার, বই প্রকাশ বা ডিজিটাল উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য অর্থ ব্যয় করা নিজেই অপরাধ নয়। কেউ যদি সাহিত্যচর্চা, প্রকাশনা বা আত্মপ্রচারের পেছনে বিনিয়োগ করেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা যায় না। সমালোচনার মধ্যেও একটি বাস্তবতা হলো— এই বিনিয়োগ কোনো অবৈধ মাদক ব্যবসা বা সমাজবিরোধী কার্যক্রমে নয়, বরং বইকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে।
এ বিষয়ে অরুণ কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তিনি যদি শিরোনাম নির্বাচনের পেছনের ভাবনা, সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট এবং প্রচারণা-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন, তাহলে বিতর্কের বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হতে পারে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পাঠক মহলে আলোচনা মূলত দুটি প্রশ্নকে ঘিরেই—একটি সাহিত্যিক দায়বদ্ধতার, অন্যটি আত্মপ্রচারের সীমারেখার।
