Headlines

মোহরার বিপ্লবই অভয়নগর সাবরেজিস্টার অফিসের দুর্নীতির প্রধান দূতিয়াল

যশোরের অভয়নগর সাবরেজিস্টার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির একটি সুসংগঠিত চক্রের কেন্দ্রে রয়েছে এক নীরব প্রভাবশালী মোহরার— ‘বিপ্লব’। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই ব্যক্তি কেবল একজন দালাল নন, বরং ঘুষ লেনদেনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চার বছরের অধিককাল ধরে অভয়নগরে অবস্থান করে বিপ্লব একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যা সাবরেজিস্টার অফিসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমকে কার্যত প্রভাবিত করছে। জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও দলিল সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে নিয়মে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভয়নগর সাবরেজিস্টার অফিস। ছবিঃ ফলোআপ নিউজ।

বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সংগৃহীত এই অবৈধ অর্থ নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও পালন করছেন বিপ্লব। ফলে তার মাধ্যমে লেনদেন ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার বদৌলতে অভয়নগরের সাবরেজিস্টার ঠিকমতো অফিসও করেন না। ঘরে বসেই সুবিধা পান। জমানো সই একদিন এসে সারলেই হয়।

একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “সরকারি ফি দিয়ে কখনই কাজ হয় না, আলাদা করে ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। আর এই ম্যানেজমেন্টের কেন্দ্রেই থাকে বিপ্লব।”
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া, ফলোআপ নিউজের হাতে যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত আরো কয়েকজন মোহরারের তথ্য এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অর্থে ভারতে বাড়ি নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এদের একজন হচ্ছেন যশোর সদরের মোহরার-পেশকার ভৈরব চক্রবর্তী। তারা হুন্ডি করে ভারতে নিয়মিত টাকা পাঠায়। এসব তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দুর্নীতি কোনো একক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয় না; বরং এটি একটি সমন্বিত চক্রের ফল, যেখানে অফিসের ভেতর-বাইরের একাধিক পক্ষ জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সচেতন মহল বলছে, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে এই দুর্নীতির চক্র ভেঙে দেওয়া জরুরি। অন্যথায় সরকারি সেবাখাতে জনসাধারণের আস্থা আরো তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।