সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় সহজলভ্য করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হলেও কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট (ঢাকা উত্তর)-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে মিলল উল্টো চিত্র। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা তো নেই-ই, বরং যে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের তথ্য ও ছবি প্রদর্শনে চরম অবহেলা ও বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে ওয়েবসাইটটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তালিকায় নাম থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ছবির ঘর ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে শুধু ব্রাউজারের ডিফল্ট ‘broken image’ আইকন বা ফাঁকা বক্স দৃশ্যমান। অথচ কিছু কর্মকর্তার রঙিন ও স্পষ্ট ছবি যুক্ত করা হয়েছে। একই দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তথ্যের এই দ্বিমুখী ও বৈষম্যমূলক উপস্থাপন নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের মাঝে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ওয়েবসাইটের কর্মকর্তাদের আংশিক তালিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কাদের ছবি আছে এবং কাদের ছবি উধাও— তার একটি খতিয়ান নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ডক্টর নাহিদা ফরিদী (কমিশনার)
২. কাঞ্চন রানী দত্ত (অতিরিক্ত কমিশনার)
৪. সানজিদা খানম (যুগ্ম কমিশনার)
৫. এইচ এম আহসানুল কবির (যুগ্ম কমিশনার)
৮. মো. রেদুয়ান সরদার (সহকারী কমিশনার)
যাদের নামের পাশে ছবি নেই (ফাঁকা বা ব্রাউজার আইকন):
৩. এ. কে. এম খায়রুল বাশার (যুগ্ম কমিশনার)
৬. শাকিরা খাতুন (উপ-কমিশনার)
৭. মো. আবুল কাসেম (উপ-কমিশনার)
৯. মো. নাজমুল আহসান (সহকারী কমিশনার)
১০. সায়েদ আল মামুন (সহকারী প্রোগ্রামার)
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিচিতি এভাবে অর্ধেক অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়াকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন সাধারণ নাগরিকরা? সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অনেক সময় সঠিক কর্মকর্তা চেনার জন্য বা জালিয়াতি রুখতে ওয়েবসাইটে ছবি দেখে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সাইটের এই ভগ্নদশার কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ছে। সাংবাদিকেরা বলছেন, ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার খুবই সংরক্ষিত। পাশাপাশি ওয়েবসাইটেও যদি কর্মকর্তা কর্মচারীদের তথ্য না থাকে তাহলে তথ্য অধিকার নিজ থেকেই লঙ্ঘিত হচ্ছে।

একটি দায়িত্বশীল সরকারি কমিশনারেটের পোর্টালে কেন এই দীর্ঘমেয়াদী অবহেলা এবং আইটি বিভাগের এমন উদাসীনতা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। দ্রুত এই তালিকাটি হালনাগাদ করে সকল কর্মকর্তার ছবি ও সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হবে— এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের।
