নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালী জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে উত্থাপিত কিছু অভিযোগ ও প্রশ্নের কেন্দ্রে উঠে এসেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলার পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নাম।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগকারী ও সচেতন নাগরিকের দাবি, জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও বড় সরবরাহকারী ও কারবারি চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মাদকসেবী বা অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেশি অভিযান পরিচালিত হলেও মাদকের উৎস ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অভিযোগকারীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ বারবার সামনে আসছে কেন? মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভাঙতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা কয়েকজন কর্মী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত বলেও তারা মত দেন।
এদিকে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
জনমনে যেসব প্রশ্ন
-
জেলার বড় মাদক সরবরাহকারী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কতটি উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে?
-
মাদকের উৎস ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্তে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
-
অভিযানের ফলাফল ও জব্দকৃত মাদকের তথ্য কতটা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়?
-
উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাইয়ে কোনো অভ্যন্তরীণ বা স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ রয়েছে কি?
-
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
স্থানীয়দের মতে, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে জনস্বার্থে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ মাদকবিরোধী কার্যক্রমের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখা আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
