মাঠপর্যায়ে ভ্যাট আদায় ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবহন সংকটকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন রাজস্ব বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা। FollowUpNews-এর কাছে আক্ষেপ করে কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, একটি বিভাগে ন্যূনতম সরকারি গাড়ি না থাকলে নিয়মিত অভিযান, তদারকি ও রাজস্ব সংগ্রহের কাজ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশের বাস্তবতায় রিকশা বা সাধারণ গণপরিবহন ব্যবহার করে বাজার, শপিং কমপ্লেক্স কিংবা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভ্যাট আদায়ের কাজ করতে হলে অনেক সময় কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় মর্যাদা ও সহযোগিতা পান না। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গুরুত্ব দিতে চান না, যা রাজস্ব প্রশাসনের কার্যকারিতাকে দুর্বল করে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা যখন রিকশা থেকে নেমে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাই, তখন অনেকেই মনে করেন এটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযান নয়। এতে কেবল কাজের গতি কমে না, কখনো কখনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কও তৈরি হয়।”
আরেক কর্মকর্তা জানান, একটি গাড়ি থাকলে একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানে তদারকি, হঠাৎ পরিদর্শন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত উপস্থিত হওয়া সম্ভব হতো। বর্তমানে পরিবহন সংকটের কারণে সময় নষ্ট হচ্ছে, ব্যয় বাড়ছে এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের পরিধিও সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
রাজস্ব কর্মকর্তাদের মতে, ভ্যাট আদায় কেবল কাগজপত্রের বিষয় নয়; এটি একটি সক্রিয় মাঠভিত্তিক প্রশাসনিক কার্যক্রম। তাই প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজনীয় যানবাহন, জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা হলে রাজস্ব আহরণ আরও গতিশীল ও কার্যকর হতে পারে।
