Headlines

মহেশখালীতে ঘরে ঢুকে শিল্পী রানীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন

মহেশখালী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজারের মহেশখালীতে নিজ বাড়িতে ঢুকে শিল্পী রানী শীল নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালাগাজির পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিল্পী রানী শীলের বয়স বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৪৫ ও ৫০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী রবীন্দ্র লাল শীলের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের সন্তানরা পড়াশোনার কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থাকেন এবং ঘটনার সময় শিল্পী রানী বাড়িতে একাই ছিলেন।

মহেশখালী
মহেশখালীতে শিল্পী রানী হত্যাকাণ্ড: ঘরে ঢুকে নৃশংস হামলায় প্রাণ গেল এক নারীর। এটা কি সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক নৃশংসতার অংশ—ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী?

পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, চুরির উদ্দেশ্যে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে শিল্পী রানী বিষয়টি টের পান। তিনি ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করলে ওই ব্যক্তি তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের পেটের নিচে, বুকে ও দুই হাতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সুলতান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চুরির উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভিন্ন দাবি

এদিকে শিল্পী রানী শীলের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক আমিনুল হক পলাশের ফেসবুক পোস্ট উদ্ধৃত করে একটি দাবিতে বলা হয়েছে, নিহতের ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সে কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই পোস্টে নিহত নারী সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহতের ছেলের রাজনৈতিক পরিচয় বা তার ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনাটিকে চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ এবং বাধা দেওয়ার পর ছুরিকাঘাতের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের দাবিগুলোকে তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত অভিযোগ বা দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

নিজ বাড়িতে একজন নারীকে এভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় বসতবাড়িতে ঢুকে এমন হামলার ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এখন মূল প্রশ্ন—এটি কি কেবল চুরির সময় বাধা দেওয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? পুলিশি তদন্ত এবং গ্রেপ্তারের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় পরিচয়কে হত্যার কারণ হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রচার না করে, একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে উত্থাপিত দাবিগুলোও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।