মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হত্যাকাণ্ড, সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রাণহানি, মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ— একই সময়ে বাড়ছে মাদকসংক্রান্ত মামলা; অপরাধের সঙ্গে মাদকের সম্পর্ক কতটা গভীর?
নিজস্ব প্রতিবেদক | FollowUpNews
মাদককে ঘিরে সংঘটিত অপরাধের ভয়াবহতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজধানী থেকে জেলা শহর— কোথাও মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় হত্যাকাণ্ড, কোথাও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুলি ও প্রাণহানি, আবার কোথাও মাদকাসক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
গত ৪ আগস্ট থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনায় এমন একাধিক ঘটনা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের অপরাধ পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৭২টি। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৫০টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ১৪ হাজার ৩২২টি।
অন্যদিকে, একই বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৫ হাজার ৩৮১টি। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১১০টি। অর্থাৎ ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ১ হাজার ২৭১টি।
তবে এই দুটি পরিসংখ্যানের মধ্যে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ সব ধর্ষণ বা হত্যাকাণ্ড মাদক সংশ্লিষ্ট— এমন দাবি করার সুযোগ নেই। কিন্তু মাদকসংক্রান্ত অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং মাদককে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো আলাদাভাবে অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

তিন মাসের কয়েকটি নৃশংস ঘটনা
১. সূত্রাপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় পোশাককর্মীকে হত্যা
ঘটনা: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | স্থান: ইস্ট বেঙ্গল মার্কেট, সূত্রাপুর, ঢাকা
রাজধানীর সূত্রাপুরের ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ১৮ বছর বয়সী পোশাককর্মী মিতুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে ১৯ আগস্ট বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়।
২. মাদকের স্পটের নিয়ন্ত্রণ নিতে গুলি করে হত্যা
ঘটনা: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | স্থান: ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে ইমরান ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে।
এ ঘটনাটি মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘবদ্ধ সহিংসতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
৩. মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা
ঘটনা: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | স্থান: কদমতলা, কালিয়া, নড়াইল
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মানসুর মোল্যা (৪৬) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আগেই বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই বিরোধের জেরে মানসুর ও নূর ইসলাম হামলার শিকার হন। মানসুরের মৃত্যু হয় এবং নূর ইসলাম আহত হন।
২৭ সেপ্টেম্বর আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
৪. মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মাকে হত্যার অভিযোগ
ঘটনা: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | স্থান: সরদারপাড়া, মোহনপুর, রাজশাহী
রাজশাহীর মোহনপুরে জান্নাতুন (৫৫) নামের এক নারীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার ছেলে আমিনুল ইসলামের (৩২) বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ ছিল আমিনুল মাদক সেবন করতেন এবং এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধে জড়াতেন।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বাবাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
৫. মাদকসংক্রান্ত বিরোধে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ঘটনা: ৬ অক্টোবর ২০২৬ | স্থান: আকুয়া ভাঙারপুল, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া ভাঙারপুল এলাকায় মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে সাদ্দাম হোসেন (৩৪) নামের এক যুবক নিহত হন।
ইউএনবির প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে বলা হয়, সাদ্দাম ও অন্তর নামের এক ব্যক্তির মধ্যে মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে অন্তর তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদ্দামের মৃত্যু হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে।
৬. স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মাদকাসক্তির তথ্য
ঘটনা: ৭–৮ অক্টোবর ২০২৬ | স্থান: লালমাই, কুমিল্লা
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়।
এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ অক্টোবর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
১১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, সুমন দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের দিনও নেশাগ্রস্ত ছিলেন।
এ ঘটনায় মাদকাসক্তির তথ্য তদন্তে উঠে এলেও ধর্ষণ ও হত্যার দায় সম্পূর্ণভাবে অভিযুক্তের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাদকাসক্তি কোনোভাবেই যৌন সহিংসতার দায় কমায় না।
সরকারি পরিসংখ্যান কী বলছে?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর সময়ের তুলনামূলক অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
| অপরাধের ধরন | ২০২৫ (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) | ২০২৬ (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা | ৩৯,০৫০ | ৫৩,৩৭২ | +১৪,৩২২ |
| ধর্ষণ মামলা | ৪,১১০ | ৫,৩৮১ | +১,২৭১ |
| হত্যা মামলা | ২,৯১৩ | ২,৬৫৯ | -২৫৪ |
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: মাদকসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৬.৭ শতাংশ। ধর্ষণ মামলা বেড়েছে প্রায় ৩০.৯ শতাংশ। অন্যদিকে হত্যা মামলা কমেছে প্রায় ৮.৭ শতাংশ।
এখানে উল্লেখ্য, এগুলো পুলিশে নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা; প্রকৃত অপরাধের মোট সংখ্যা নয়।
তিন মাসে ধর্ষণের চিত্রও উদ্বেগজনক
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (HRSS) জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৬ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে অন্তত ২৫৩ নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫৪ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। ৪২ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এবং ধর্ষণের পর ১২ জনকে হত্যা করা হয়।
সংগঠনটি ১৬টি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ হিসাব তৈরি করেছে।
তবে এ ২৫৩টি ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতার কোনো পৃথক হিসাব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল গ্রেপ্তার, তবু থামছে না বিস্তার
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
ইউএনবির ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এ সময়ে ৫ হাজার ২৬৪টি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৯ জন শীর্ষ মাদক কারবারি ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ১১ জনকে গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করে ডিএনসি।
অভিযানে ৩ লাখ ৯ হাজার ১০১ পিস ইয়াবা, ৩.৭৬০ কেজি হেরোইন, ১.১ কেজি আইস, ৬৬৪.২ কেজি গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।
অর্থাৎ অভিযান, গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের পরও মাদক সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গ্রেপ্তার বাণিজ্যের কথাও উঠে থাকে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান কি যথেষ্ট?
পরিসংখ্যান ও ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় সামনে আসে।
প্রথমত, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা এক বিষয় নয়। আসক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও পুনর্বাসন যেমন জরুরি, তেমনি মাদক সরবরাহকারী, অর্থদাতা, পরিবহনকারী ও সংঘবদ্ধ কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে শুধু মাঠপর্যায়ের বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অর্থের উৎস, সরবরাহের পথ এবং পৃষ্ঠপোষকতার নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি।
তৃতীয়ত, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কারবারিদের প্রভাব ও সামাজিক প্রতিরোধের দুর্বলতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
চতুর্থত, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। আসক্তিকে অপরাধের সমার্থক না করে অপরাধী ও আসক্ত ব্যক্তির মধ্যে আইনগত ও সামাজিক পার্থক্য বজায় রাখতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রশ্ন
১. ২০২৬ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে কতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে?
২. গত তিন মাসে মাদকাসক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার কতটি মামলা হয়েছে?
৩. মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কতটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে?
৪. মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কারবারি ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কতটি মামলা হয়েছে?
৫. মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন আগে হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন?
৬. মাদক ব্যবসার অর্থের উৎস ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কী ধরনের তদন্ত চলছে?
৭. মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি পর্যায়ে কতটি কার্যকর কেন্দ্র রয়েছে এবং সেখানে মাসিক কতজন চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন?
মাদককে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতার প্রতিটি ঘটনার পেছনে একই কারণ কাজ করে না। কিন্তু মাদক ব্যবসার বিস্তার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, নেশাজনিত বিরোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধান করা এখন জরুরি।
একদিকে নয় মাসে মাদকসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ৫৩ হাজার ছাড়িয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে ধর্ষণের মামলা ৫ হাজারের বেশি। এসব পরিসংখ্যানকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে অপরাধের ধরন, অপরাধীর পূর্ব ইতিহাস, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও তদন্তের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
মাদকবিরোধী অভিযান কতটি হলো, কতজন গ্রেপ্তার হলো— শুধু সেই হিসাব দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণের সাফল্য পরিমাপ করা যাবে না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক ভাঙা, অপরাধ কমানো, আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ওপর।
মাদক কারবারের বিস্তার রোধে রাষ্ট্র কতটা সফল— এ প্রশ্নের উত্তর এখন শুধু অভিযানের পরিসংখ্যানে নয়, মানুষের জীবনের নিরাপত্তায় খুঁজতে হবে।
