কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারে সরকারি জমি, খাসজমি, অধিগ্রহণের জমি কিংবা পর্যটন এলাকার মূল্যবান ভূমি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় চলে যায়— এ প্রশ্নে বছরের পর বছর ধরে নানা অভিযোগ ও অনুসন্ধান হয়েছে। কোথাও জাল খতিয়ান, কোথাও অস্তিত্বহীন খতিয়ান, কোথাও ভুয়া মালিকানা; আবার কোথাও সরকারি জমি ব্যক্তি নামে নিবন্ধনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
কিন্তু জমি বেহাতের পুরো প্রক্রিয়ায় যে দপ্তরটির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের গত এক দশকের কার্যক্রম নিয়ে সমন্বিত অনুসন্ধান খুব কমই হয়েছে।
কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গত ১০ থেকে ১৫ বছরে কারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সময়ে কী ধরনের বিতর্ক বা অভিযোগ উঠেছে, কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতি তদন্তে বা মামলায় নাম পেয়েছেন কি না, কিংবা তাদের সময়ে সন্দেহজনক সরকারি জমির দলিল হয়েছে কি না— এসব প্রশ্ন সামনে রেখে অনুসন্ধান শুরু করেছে FollowUpNews।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা পুরো বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখার দাবি রাখে।
পর্ব–১ : ১০ বছরের চেয়ারে কারা ছিলেন?
কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা অনলাইনে সহজলভ্য নয়। বর্তমান সরকারি ওয়েবপোর্টালেও কর্মকর্তাদের তথ্য সীমিত এবং আর্কাইভে পুরোনো দায়িত্বকাল ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান পোর্টালে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তবে সরকারি গেজেট ও বদলি-প্রজ্ঞাপন থেকে কয়েকজনের দায়িত্বের তথ্য নিশ্চিত করা যায়।
২০১৭ সালের এপ্রিলের সরকারি প্রজ্ঞাপনে মো. আব্দুল মালেক, সাব-রেজিস্ট্রার, সদর, কক্সবাজারকে জেলা রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
এরপর ২০১৭ সালের জুনে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, আব্দুল মালেক পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হওয়ার পর কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রারের শূন্য পদে মাজেদা বেগম নিয়োগ পান। তার আগে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন।
অর্থাৎ ২০১৭ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কক্সবাজার সদর অফিসে আব্দুল মালেকের পর মাজেদা বেগম দায়িত্ব নেন।
পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন— সরকারি অফিসের ওয়েবপোর্টালের ২০২১ সালের হালনাগাদ তথ্যেও তার নাম রয়েছে।
আর ২০২৩ সালের সরকারি বদলি-প্রজ্ঞাপনে মো. রিয়াজুল ইসলামকে কচুয়া, চাঁদপুর থেকে সদর, কক্সবাজারে বদলির তথ্য পাওয়া যায়।
পরবর্তী এক প্রতিবেদনে রিয়াজুল ইসলামকে কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এবং পরে সোনারগাঁয়ের সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা দরকার; প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়।
অতএব ১০–১৫ বছরের পূর্ণ তালিকা চূড়ান্ত করতে ২০১১–২০২৬ সালের প্রতিটি বদলি/পদায়ন প্রজ্ঞাপন মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই তালিকা ছাড়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার দায়িত্বকালীন ঘটনার দায় আরোপ করা ঠিক হবে না।
পর্ব–২ : কার আমলে কত দলিল, কত রাজস্ব?
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল কাজ শুধু দলিল রেজিস্ট্রি করা নয়; জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব আদায়, দলিলের আইনগত শর্ত পূরণ, সম্পত্তির পরিচয় ও হস্তান্তরের রেকর্ড সংরক্ষণও এর সঙ্গে যুক্ত।
কক্সবাজারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জমির বাজারমূল্য দ্রুত বেড়েছে এবং সরকারি নির্ধারিত মৌজা রেইটও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।
২০২৫–২৬ সালের জন্য কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অধীন ১৯টি মৌজায় ৪২টি শ্রেণির জমির মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়। কক্সবাজার মৌজায় নাল জমির মূল্য প্রতি শতকে ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮৪ টাকা এবং দোকান শ্রেণির জমির মূল্য ৫৫ লাখ ৩২ হাজার ৮১৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯৫০ টাকা হয়েছে।
এ কারণে গত দশকে কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দিয়ে বিপুল অঙ্কের জমি হস্তান্তর হয়ে থাকলে তার সঙ্গে বড় অঙ্কের সরকারি রাজস্বও জড়িত।
এখন প্রশ্ন:
কোন সাব-রেজিস্ট্রারের সময়ে কতগুলো সাফ-কবলা দলিল হয়েছে?
কত টাকার জমি হস্তান্তর হয়েছে?
সরকার কত টাকা রাজস্ব পেয়েছে?
মৌজা রেইটের তুলনায় ঘোষিত দলিলমূল্য কত ছিল?
এই হিসাবগুলো বের করা গেলে প্রত্যেক সাব-রেজিস্ট্রারের আমলের একটি পৃথক আর্থিক চিত্র তৈরি করা সম্ভব।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে কক্সবাজারে জমি নিবন্ধনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পর সাফ-কবলা দলিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, বিকল্প হিসেবে বায়নানামা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, হেবা ও দানপত্রের ব্যবহার বেড়েছে।
অর্থাৎ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিলের ধরন ও সংখ্যা বিশ্লেষণ করলেও অনেক কিছু বেরিয়ে আসতে পারে
এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্ভবত এখানেই।
কক্সবাজারে সরকারি জমি নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ অতীতে প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ে ৭৯০০ নম্বর বিএস খতিয়ানের অস্তিত্ব না থাকার কথা উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খতিয়ানটি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হলো:
জাল খতিয়ান তৈরি হলো কোথায়?
তারপর—
সেই খতিয়ান দিয়ে দলিল হলো কীভাবে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ—
দলিল রেজিস্ট্রির সময় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা বা রেকর্ড যাচাইয়ের কোন পর্যায়ে বিষয়টি ধরা পড়ল না?
এই প্রশ্নের উত্তর বের করতে হলে ভূমি অফিসের খতিয়ান, নামজারি এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল— তিনটি রেকর্ড পাশাপাশি দেখতে হবে।
সরকারি জমি বেহাতের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য চেইন দাঁড়ায়:
জাল খতিয়ান → ভুয়া মালিকানা → দলিল → রেজিস্ট্রি → নামজারি → দখল
এই চেইনের কোথায় কী ঘটেছে, সেটাই মূল অনুসন্ধান।
পর্ব–৪ : দুদকের তদন্তে সাব-রেজিস্ট্রারের নাম
কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিভিত্তিক অভিযোগগুলোর একটি পাওয়া যায় ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত দুর্নীতির অনুসন্ধানে।
কক্সবাজারের পিবিআই প্রকল্প ঘিরে ভূমি অধিগ্রহণের অনিয়ম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত/প্রতিবেদন সংক্রান্ত সংবাদে সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মাজেদা বেগম এবং সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নাম এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় বিপুল অর্থের দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুদকের প্রতিবেদনে কারও নাম থাকা মানেই আদালতে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া নয়।
তাই FollowUpNews-এর অনুসন্ধানে অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন, সুপারিশ, মামলা এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত— প্রতিটি আলাদা করে দেখাতে চায়।
এখানে আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে:
যদি ভূমি অধিগ্রহণের কোনো ঘটনায় কোনো সাব-রেজিস্ট্রারের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত হয়ে থাকে, তাহলে—
তার কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রার থাকা সময়ের অন্য দলিলগুলোও কি পরীক্ষা করা হয়েছিল?
এটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রশ্ন।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে দলিল নিবন্ধনের সময় অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়ে।
কক্সবাজারের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা নিবন্ধন ব্যয় নিয়ে অভিযোগ সংবাদে এসেছে।
২০২৫ সালের কক্সবাজারের জমি নিবন্ধন-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে সেবাগ্রহীতাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন হচ্ছে— সরকারি ফি-এর বাইরে কোনো অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল কিনা।
২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং দলিলপ্রতি নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
কিন্তু এই অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ, তদন্ত এবং প্রমাণ যাচাই ছাড়া এগুলোকে সত্য ধরে নেওয়া যাবে না।
বরং অনুসন্ধানের প্রশ্ন হবে:
দলিলপ্রতি সরকারি ফি কত?
সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে বাস্তবে কত নেওয়া হয়?
সেরেস্তা/দলিল লেখক/মধ্যস্বত্বভোগী কারা?
অতিরিক্ত অর্থের কোনো রসিদ দেওয়া হয় কি না?
অভিযোগ করলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হয়েছে কি না?
জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিপুলসংখ্যক সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয়েছিল এবং পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ছিল।
এগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিযোগ— কক্সবাজার সদর অফিসের কোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এগুলো সরাসরি প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
তবে অনুসন্ধানের জন্য প্রশ্নটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ:
কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কে কতদিন ছিলেন?
একই কর্মকর্তা কি অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি হয়েছেন?
কোনো কর্মকর্তা আগে কক্সবাজারে ছিলেন, পরে আবার কক্সবাজারে ফিরেছেন কিনা?
বদলির আদেশ ও যোগদানের তারিখের মধ্যে অস্বাভাবিকতা ছিল কিনা?
২০১৭ সালে মাজেদা বেগমের কক্সবাজার সদর পদায়নের আদেশসহ সরকারি বদলি-প্রজ্ঞাপনগুলো দেখলে বোঝা যায়, এসব পোস্টিং প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমেই হয়েছে।
অতএব বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ যাচাই করতে হলে সংবাদ প্রতিবেদন নয়, প্রজ্ঞাপন + যোগদানপত্র + বদলির কারণ + দায়িত্বকাল— এই চারটি নথি পাশাপাশি রাখতে হবে।
কক অফিসের গত ১০–১৫ বছরের ইতিহাসকে কর্মকর্তাদের ‘আমলনামা’ ধরে অনুসন্ধানটি সম্পূর্ণ করতে হবে।
প্রত্যেক কর্মকর্তার সময়কে কক্সবাজারের জমির ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
অনুসন্ধানের প্রস্তাবিত ডাটাবেস
| কর্মকর্তা | দায়িত্বকাল | মোট দলিল | সাফ-কবলা | জমির ঘোষিত মূল্য | সরকারি রাজস্ব | অভিযোগ | দুদক/মামলা | সরকারি জমির দলিল |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| আব্দুল মালেক | যাচাইাধীন | — | — | — | — | — | — | অনুসন্ধানাধীন |
| মাজেদা বেগম | ২০১৭ থেকে দায়িত্ব নিশ্চিত | — | — | — | — | ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগ/তদন্তে নাম | দুদক-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে নাম | অনুসন্ধানাধীন |
| মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম | ২০২১ সালে দায়িত্বের সরকারি ওয়েব রেকর্ড | — | — | — | — | ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তদন্তে নাম | দুদক-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে নাম | অনুসন্ধানাধীন |
| মো. রিয়াজুল ইসলাম | ২০২৩ সালে সদর, কক্সবাজারে বদলির সরকারি প্রজ্ঞাপন | — | — | — | — | সংবাদে একাধিক অভিযোগ | যাচাইাধীন | অনুসন্ধানাধীন |
| পরবর্তী কর্মকর্তা/বর্তমান | পূর্ণাঙ্গ যাচাইাধীন | — | — | — | — | — | — | — |
এখানে ড্যাশের জায়গাগুলো অনুমান করে পূরণ করা হয়নি। কারণ এগুলো দলিল রেজিস্টার, বার্ষিক প্রতিবেদন, রাজস্ব বিবরণী এবং বদলি-প্রজ্ঞাপন থেকে বের করতে হবে।
স্ট্রি অফিসকে দায়ী করা যাবে না।
কারণ ভূমি ব্যবস্থাপনায় একাধিক দপ্তর যুক্ত:
জেলা প্রশাসন → ভূমি অধিগ্রহণ শাখা → ভূমি অফিস → খতিয়ান/রেকর্ড → নামজারি → সাব-রেজিস্ট্রি → দলিল → দখল
কোনো একটি পর্যায়ে জালিয়াতি ঘটলেই পরের পর্যায়ে সেটি ব্যবহার করা হতে পারে।
তাই কোনো সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে হলে সরাসরি প্রমাণ করতে হবে—
কোন দলিল তাঁর সময়ে হয়েছে, দলিলের জমি কী ছিল, মালিকানা কীভাবে দেখানো হয়েছিল এবং রেজিস্ট্রির সময় কোন তথ্য বা নথি উপেক্ষা করা হয়েছিবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ২০১১–২০২৬ সময়ের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিশেষ করে চাওয়া হবে—
১. গত ১৫ বছরের সব সাব-রেজিস্ট্রারের নাম ও দায়িত্বকাল
২. প্রত্যেক কর্মকর্তার যোগদান ও বদলি আদেশ
৩. বছরভিত্তিক নিবন্ধিত দলিলের সংখ্যা
৪. সাফ-কবলা দলিলের সংখ্যা
৫. দলিলমূল্যের মোট পরিমাণ
৬. আদায়কৃত সরকারি রাজস্ব
৭. সরকারি/খাস/অধিগ্রহণকৃত জমি সংক্রান্ত দলিলের তালিকা
৮. সন্দেহজনক/বিতর্কিত দলিলের তালিকা
৯. আদালতের নির্দেশে রেজিস্ট্রি হওয়া দলিল
১০. বাতিল বা সংশোধিত দলিল
১১. সাব-রেজিস্ট্রার ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ
১২. বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
১৩. দুদক থেকে চাওয়া/সরবরাহ করা রেকর্ডের তথ্য
১৪. সরকারি জমি সংক্রান্ত কোনো দলিল নিয়ে জেলা প্রশাসন বা কউকের চিঠিপত্র
১৫. দলিল লেখক ও ভেন্ডারদের লাইসেন্স এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ।
কক্সবাজারে ভূমি বেহাতের গল্প শুধু দখলদারদের গল্প নয়।
কোন জমি কার ছিল, কীভাবে মালিকানা বদলাল, কোন রেকর্ডের ভিত্তিতে বদলাল এবং সেই মালিকানা বদলের সরকারি দলিলটি কে নিবন্ধন করলেন— এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ভূমি বেহাতের পুরো চিত্র অসম্পূর্ণ।
গত এক দশকে কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নথি, তাদের সময়ে নিবন্ধিত গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে হয়তো বেরিয়ে আসবে আরও বড় একটি প্রশ্ন—
কক্সবাজারের জমি কি শুধু দখল হয়েছে, নাকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দখলের পথ তৈরি হয়েছে সরকারি দলিলের মাধ্যমেই?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে FollowUpNews খুঁজবে দলিল নম্বর, খতিয়ান নম্বর, রেজিস্ট্রির তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বকাল।
