চামড়া, জুতার সোল ও উৎপাদন-উপকরণের আমদানি-রপ্তানির হিসাব একসঙ্গে যাচাইয়ের প্রয়োজন; প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী কিনা, সেটিও স্পষ্ট নয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ফলোআপ নিউজব
ঢাকার সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় অবস্থিত আরকোবলিনো ফুটওয়্যার লিমিটেড জুতা উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) রপ্তানিকারক ডেটাবেজে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য হিসেবে বিভিন্ন ধরনের জুতা ও জুতার অংশের উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা উপকরণের বিপরীতে কী পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, কতটা রপ্তানি হচ্ছে এবং বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানির হিসাব কীভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে— এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর পেতে আরও নথি যাচাই প্রয়োজন।

প্রকাশ্য বাণিজ্যিক চালান-তথ্যে প্রতিষ্ঠানটির নামে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ আমদানির রেকর্ড পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে চামড়া, জুতার সোল, পলিইউরেথেন বা পিইউ-জাতীয় উপকরণ, আঠালো টেপ এবং জুতার অন্যান্য আনুষঙ্গিক অংশ।
প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত ডেটাবেজে প্রকাশিত চালানের বিবরণ থেকে কয়েকটি উপকরণের নাম পাওয়া যায়:
- চামড়া: বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত চামড়ার চালানের উল্লেখ রয়েছে।
- জুতার সোল: বিভিন্ন ধরনের আউটসোল আমদানির রেকর্ড দেখা যায়।
- পিইউ ও অন্যান্য সিনথেটিক উপকরণ: জুতা তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন উপকরণের উল্লেখ রয়েছে।
- আঠালো টেপ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক উপকরণ: একটি প্রকাশিত চালানে ২৩৩ রোল আঠালো টেপ আমদানির বিবরণ পাওয়া যায়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ডেটাবেজে আরকোবলিনো ফুটওয়্যার লিমিটেডের পণ্য-শ্রেণিতে HS 6402, 6403, 6404 ও 6406 রয়েছে। এর মধ্যে রাবার বা প্লাস্টিকের সোল ও আপারযুক্ত জুতা, চামড়ার আপারযুক্ত জুতা এবং জুতার বিভিন্ন অংশ অন্তর্ভুক্ত।
একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির জুতা ও স্যান্ডেল রপ্তানির তথ্যও রয়েছে।
আমদানি-রপ্তানির প্রকাশ্য হিসাব
প্রকাশ্য তথ্য থেকে পাওয়া আমদানি-সংক্রান্ত একটি হিসাব। এগুলো পূর্ণাঙ্গ সরকারি বন্ড হিসাব নয়; প্রকাশিত বাণিজ্যিক চালানভিত্তিক তথ্য।
| বিষয় | পরিমাণ/মূল্য | তথ্যের ধরন | সীমাবদ্ধতা |
|---|---|---|---|
| আঠালো টেপ | ২৩৩ রোল | প্রকাশিত আমদানি চালান | এটি একটি চালানের তথ্য; মোট আমদানির হিসাব নয় |
| আঠালো টেপের চালানমূল্য | ৯৯৪.৮৯ মার্কিন ডলার | প্রকাশিত আমদানি চালান | বন্ড সুবিধার আওতায় ছিল কিনা, নিশ্চিত নয় |
| চামড়া | পরিমাণ প্রকাশ্য তথ্যে নির্দিষ্ট নয় | বিভিন্ন চালানে আমদানির উল্লেখ | মোট পরিমাণ ও মূল্য যাচাই করা যায়নি |
| জুতার সোল/আউটসোল | পরিমাণ প্রকাশ্য তথ্যে নির্দিষ্ট নয় | বিভিন্ন চালানে আমদানির উল্লেখ | মোট আমদানি ও ব্যবহার-হিসাব পাওয়া যায়নি |
| পিইউ ও অন্যান্য সিনথেটিক উপকরণ | পরিমাণ প্রকাশ্য তথ্যে নির্দিষ্ট নয় | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যভিত্তিক রেকর্ড | সরকারি বন্ড হিসাব হিসেবে নিশ্চিত নয় |
| জুতা ও স্যান্ডেল রপ্তানি | জোড়া ও মূল্য প্রকাশ্য তথ্যে নির্দিষ্ট নয় | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম | বাংলাদেশের কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষিত হিসাব নয় |
| EPB পণ্য-শ্রেণি | HS 6402, 6403, 6404 ও 6406 | রপ্তানিকারক ডেটাবেজ | শ্রেণি উল্লেখ থাকলেও অর্থবছরভিত্তিক রপ্তানি পরিমাণ নেই |
অতএব, প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে আমদানি করা কাঁচামালের মোট পরিমাণ, উৎপাদিত জুতার সংখ্যা এবং রপ্তানি হওয়া জোড়ার মধ্যে সরাসরি হিসাব মেলানো যাচ্ছে না।
প্রকাশ্য বাণিজ্যিক চালান-তথ্য প্রতিষ্ঠানটির সম্পূর্ণ আমদানি তালিকা নয়। এসব রেকর্ডের সবগুলো বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। একটি চালানের তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মোট আমদানি বা বন্ড সুবিধায় আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে না।
একইভাবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের চালানসংখ্যা বা পণ্য-তথ্যকে বাংলাদেশের কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ ও নিরীক্ষিত রপ্তানি হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।
প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী কিনা, তার উত্তরও এখনো নথিভিত্তিকভাবে নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ কাস্টমসের নিয়মে বন্ড সুবিধা সরাসরি রপ্তানিকারক ও নির্দিষ্ট শর্তে পরোক্ষ রপ্তানিকারক— উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান পেতে পারে। তাই বন্ড সুবিধা রয়েছে বলেই কোনো প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী, অথবা তার সব উৎপাদন বিদেশে যায়— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
প্রয়োজনীয় নথি
চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজন:
১. প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বন্ড লাইসেন্স ও অনুমোদিত কার্যক্রমের বিবরণ।
২. ২০২২–২৩ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণ ও মূল্য।
৩. একই সময়ের রপ্তানি চালান, পণ্যের পরিমাণ এবং FOB মূল্য।
৪. স্থানীয় বাজারে বিক্রি থাকলে তার পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট হিসাব।
৫. বন্ড অডিটের ফলাফল, অনুমোদিত ইনপুট-আউটপুট অনুপাত এবং কাঁচামালের মজুত ও ব্যবহারের হিসাব।
আরকোবলিনো ফুটওয়্যারের বন্ড সুবিধার প্রকৃত ব্যবহার মূল্যায়নে মূল প্রশ্নগুলো হলো— প্রতিষ্ঠানটি কত টাকার চামড়া, সোল, আঠা ও অন্যান্য উপকরণ আমদানি করেছে; এসব উপকরণ দিয়ে কত জোড়া জুতা তৈরি করেছে; কতটা বিদেশে রপ্তানি করেছে; এবং অবশিষ্ট কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের হিসাব কীভাবে সমন্বয় করেছে।
এই তথ্যের সঙ্গে কাস্টমসের বন্ড অডিটের ফলাফল মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে হিসাবের কোথাও উল্লেখযোগ্য অসংগতি রয়েছে কিনা।
অনুসন্ধানের মূল বিষয় তাই অভিযোগ নয়— বন্ড সুবিধায় আমদানি করা উপকরণ, উৎপাদিত জুতা এবং রপ্তানির হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই।
তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর রপ্তানিকারক ডেটাবেজ; বাংলাদেশ কাস্টমসের বন্ডেড ওয়্যারহাউস নির্দেশনা; আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-চালান তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের প্রকাশিত রেকর্ড।
