Headlines

নাহিদুজ্জামানই সেই কর্মকর্তা? চকরিয়ায় ঘুষের অর্থসহ গ্রেপ্তার, পরে বোয়ালখালী হয়ে ডুমুরিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার

সাবরেজিস্টার নাহিদুজ্জামান

দুদকের অভিযানে ৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা ও ৪১টি স্লিপ উদ্ধারের দাবি; পরবর্তী সময়ে একই সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ার উল্লেখ।

সাবরেজিস্টার
এক ক্লিকে সাবরেজিস্টার নাহিদুজ্জামান।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামানকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগে কক্সবাজারের চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষের অর্থ ও লেনদেনের স্লিপসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে পরবর্তী সময়ে একই সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

দুদক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নাহিদুজ্জামানের কাছ থেকে ৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং ৪১টি স্লিপ উদ্ধারের দাবি করা হয়। ওই সময় অভিযোগ ওঠে, দলিল নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট সেবার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছিল।

অভিযানের পর নাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনাটি তখন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসন ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়।

তবে মামলার তদন্ত শেষে দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে প্রাথমিক অভিযানের সময় উদ্ধার করা অর্থ ও স্লিপের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান ও গ্রেপ্তার হলেও তদন্তের শেষ পর্যায়ে কীভাবে প্রমাণের ঘাটতি দেখা দিল— এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে নাহিদুজ্জামান ডুমুরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা পুরোনো অভিযোগ এবং তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা নথি পর্যালোচনা ছাড়া বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় দলিল লেখক ও সেবা নিতে আসা কয়েকজনের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা লিখিত অভিযোগ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সেবাগ্রহীতা বলেন, দলিল নিবন্ধনের সময় সরকারি ফি ও অন্যান্য খরচের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও হয়রানি বা কাজ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চান না। নাহিদুজ্জামান ডুমুরিয়াতে আরো বেপরোয়া বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্থা করার অভিযোগও আছে।

অন্যদিকে, সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো অভিযানে অর্থ বা নথি উদ্ধার হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে— এমন নয়। তদন্তে উদ্ধার করা অর্থের উৎস, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া জরুরি। তবে প্রাথমিক অভিযানের দাবি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য থাকলে এ বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে শেষ করা দরকার। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সুনাম রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। আর অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি থাকলে তদন্তের ফলাফল ও সিদ্ধান্তের কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করা উচিত।

নাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে চকরিয়ায় অভিযান, গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডুমুরিয়ায় তার বর্তমান দায়িত্ব পালনের সময়ও এ বিষয়ে কী কী নতুন অভিযোগ আছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল মো. নাহিদুজ্জামান ডুমুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব নেন— ডুমুরিয়া নিয়ে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে তার যোগদানের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব, তার কর্মস্থলের ধারাবাহিকতা দাঁড়াচ্ছে—
চকরিয়া → বোয়ালখালী → ডুমুরিয়া