Headlines

মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় জবাবদিহির সংকট: গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো ঘিরে প্রশ্ন

সিলেট

বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্থাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন—সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, টেকনাফ, কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, যশোর ও নোয়াখালী সহ আরো কয়েকটি স্টেশন নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব এলাকার একটি বড় অংশ সীমান্ত, সমুদ্রপথ, শিল্পাঞ্চল কিংবা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় মাদক চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্যের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ফলে এসব স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিলেট

গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন কেন আলোচনায়?

টেকনাফ ও কক্সবাজার
দীর্ঘদিন ধরেই টেকনাফ ও কক্সবাজারকে ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনা ঘটেছে। তবে মাদক কারবার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে অভিযুক্ত হয়ে এই স্টেশন ছেড়েছেন। তিনিই আবার নিজের অন্দর সুরক্ষিত রাখতে বসিয়েছেন আস্থাভাজন কাউকে। টেকনাফ এবং সিলেট জেলা সাম্প্রতিক সময়ে যোগসাজশ এবং ম্যানেজ সংস্কৃতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

নারায়ণগঞ্জ
দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল ও নৌপথকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় নারায়ণগঞ্জকে মাদক পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন সময়ে অভিযানের পাশাপাশি মাদক নেটওয়ার্কের বিস্তারের অভিযোগও সামনে এসেছে। কিন্তু এখানে ডিডি হয়ে আসতে হলে পরম্পরা মেনে চলতে হয়। এটি অলিখিত সত্য।

সিলেট
সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় সিলেটেও মাদক ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময় মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নজরদারি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফেন্সিডিল পাচার হয়ে আসার একটু বড় রুট হচ্ছে সিলেট সীমান্ত।

নোয়াখালী
উপকূলীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক পরিবহন নেটওয়ার্কের কারণে নোয়াখালীতেও মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদারের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে এখানে পর পর দুজন পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গুরুতরো অভিযোগ রয়েছে।

পদায়ন ও বদলি নিয়ে প্রশ্ন
সুশাসন নিয়ে কাজ করা পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং তদন্ত চলাকালে তার দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে স্বচ্ছ নীতি থাকা প্রয়োজন।

তাদের ভাষ্য, অভিযোগ, তদন্ত, বদলি এবং পুনঃপদায়নের তথ্য যদি জনসমক্ষে আরও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হয়, তাহলে সংস্থার প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
* অভিযোগ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা;

* গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে নিয়মিত অডিট;

* কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাত্রার নিরীক্ষা;

* পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা;

* স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ;

* সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়।

মাদকবিরোধী লড়াই শুধু অভিযাননির্ভর নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রতিষ্ঠানগত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনআস্থা। সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, টেকনাফ, কক্সবাজার ও নোয়াখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে কার্যকর মাদক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগ ও প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।