
যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যুদ্ধ বা যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে অস্ত্র, নজরদারি প্রযুক্তি, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক সফটওয়্যারের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, ততই প্রসারিত হয় এই বাজার।
সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতও সেই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই সংঘাত ইরানকে তার সামরিক সক্ষমতা নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে। প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার দিয়ে আধুনিক যুদ্ধ জেতা কঠিন—এ উপলব্ধি থেকে দেশটিকে আরও উন্নত ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যুদ্ধব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে। একই চাপ অনুভব করবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রও।
এখানেই প্রশ্ন ওঠে—এই প্রযুক্তির মূল মালিক কারা? আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি, সামরিক এআই, উন্নত সেন্সর, মাইক্রোচিপ, স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট পেটেন্টের বড় অংশ পশ্চিমা বিশ্বের করপোরেশন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। ফলে যুদ্ধ যত আধুনিক হবে, বিশ্ব তত বেশি নির্ভরশীল হবে তাদের প্রযুক্তির ওপর।
অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে এক দেশ হারুক বা জিতুক, অস্ত্র ও প্রযুক্তির বাজারে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেই শক্তিগুলোর, যারা যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি তৈরি করে। সংঘাতের প্রতিটি নতুন অধ্যায় ড্রোন, রোবটিক যুদ্ধব্যবস্থা ও সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য নতুন ক্রেতা তৈরি করছে।
তাই সমালোচকদের প্রশ্ন—বিশ্ব কি এমন এক যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী সৈন্য নয়, প্রযুক্তির পেটেন্টধারীরা? যেখানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও মুনাফা নিশ্চিত থাকে, কারণ প্রতিটি সংঘাত শেষ পর্যন্ত আরও উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তির চাহিদা সৃষ্টি করে?
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে এটুকু অস্বীকার করা কঠিন যে আধুনিক যুদ্ধ যত বেশি ড্রোন, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হচ্ছে, ততই বৈশ্বিক ক্ষমতার পাশাপাশি বৈশ্বিক মুনাফাও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে সেই শক্তিগুলোর হাতে, যারা এসব প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
