Headlines

রাজস্ব কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম: এমনকি অফিসের নাস্তাটাও করেন মাসে নিজের পকেট থেকে ৩,০০০ টাকা দিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফলোআপ নিউজ

বাংলাদেশে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। কর আদায়, হয়রানি কিংবা অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই মাঝে মাঝে এমন কিছু কর্মকর্তার দেখা মেলে, যারা নিজেদের ব্যক্তিগত আচরণ ও সততার মাধ্যমে একটি ভিন্ন উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করেন। তেমনই একজন কর্মকর্তা ধানমন্ডি ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম। ফলোআপ নিউজ অ্ন্য কারো কাছ থেকে শোনেনি। তিনি নিজেকে এভাবেই তুলে ধরলেন ফলোআপ নিউজ-এর কাছে।

সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ, ধানমন্ডি কার্যালয়ে যায় ফলোআপ নিউজ। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে অফিসে আসেন রাজস্ব কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম। সকাল ১১টার দিকে তার কক্ষে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়।

আলাপচারিতার শুরুতেই তিনি নিজের কর্মজীবনের একটি ব্যতিক্রমী দিক তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, অফিসে যে নাস্তার ব্যবস্থা থাকে, সেটিও তিনি সরকারি বা অন্য কোনো উৎস থেকে গ্রহণ করেন না। বরং প্রতি মাসে নিজের পকেট থেকে ৩,০০০ টাকা জমা দিয়ে সেই ব্যয় বহন করেন।

যেখানে রাজস্ব প্রশাসনকে ঘিরে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ শোনা যায়, সেখানে মঈনুল ইসলামের এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করে। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা রক্ষা করাকেও তিনি সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

ফলোআপ নিউজ যখন তার কক্ষে প্রবেশ করে, তখন তিনি আম খাচ্ছিলেন। ঘ্রাণ ও রং দেখে সেটি আম্রপালি জাতের আম বলেই প্রতিবেদকের ধারণা হয়। যদিও তিনি আমের জাত নিয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য করেননি।

আলোচনার এক পর্যায়ে ধানমন্ডি সার্কেলের ভ্যাট কাঠামো নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার দাবি, এই সার্কেলে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২,৫০০। তবে এর মধ্যে স্টার কাবাব ছাড়া উল্লেখযোগ্য ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান খুব বেশি নেই।

ফলোআপ নিউজ মনে করে, একটি সার্কেলের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে শুধু বড় করদাতাদের দিকে তাকালে চলবে না। ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, তাদের ভ্যাট পরিশোধের ধারা, রিটার্ন দাখিলের অবস্থা, অনিয়ম, রাজস্ব সম্ভাবনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ— সবকিছুই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।