বিশেষ অনুসন্ধান | ফলোআপ নিউজ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন দেশে ঢোকে বিপুল পরিমাণ পণ্য, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, পার্সেল ও ব্যক্তিগত মালামাল। এর বড় একটি অংশের শুল্ক-কর নির্ধারণ, আদায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আটক, খালাস ও নিষ্পত্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ঢাকা কাস্টমস হাউস।
কুর্মিটোলায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ওয়েবসাইটেই দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর কাস্টমস স্টেশন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কিন্তু এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে আসলে কতগুলো ইউনিট বা কার্যক্ষেত্র রয়েছে? কোন ইউনিটের হাতে কী ক্ষমতা? কারা এসব দায়িত্ব পালন করছেন? আর কোন কোন জায়গায় দুর্নীতি, ঘুষ, হয়রানি কিংবা সিন্ডিকেটের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি ওঠে?
ফলোআপ নিউজের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা কাস্টমস হাউসকে শুধু ‘কাস্টমস অফিস’ হিসেবে দেখলে এর কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বোঝা যাবে না। বিমানবন্দর, এয়ারফ্রেইট, কুরিয়ার, যাত্রী ব্যাগেজ, রপ্তানি, নিলাম, বিচার, মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায়—বিভিন্ন কার্যক্রমের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এর বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো।
অর্গানোগ্রামে ৩১৭ কর্মকর্তার পদ
ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রকাশিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানে কমিশনারের একটি পদ, অতিরিক্ত কমিশনারের দুটি, যুগ্ম কমিশনারের পাঁচটি, উপ-কমিশনারের ১০টি, সহকারী কমিশনারের ১৬টি, রাজস্ব কর্মকর্তার ২৪টি এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার ২৫৭টি পদ রয়েছে। এর সঙ্গে একজন প্রোগ্রামার ও একজন সহকারী প্রোগ্রামারের পদও রয়েছে।
অর্গানোগ্রামের হিসাব অনুযায়ী মোট পদ ৩১৭টি। এর মধ্যে কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনার ও রাজস্ব কর্মকর্তার সব পদ পূর্ণ দেখানো হলেও সহকারী কমিশনারের ১৬টি পদের মধ্যে ৬টি এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার ২৫৭টি পদের মধ্যে ২১৫টি পূর্ণ দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ওই তালিকায় যথাক্রমে ১০টি ও ৪২টি পদ শূন্য।

তবে এখানেই একটি প্রশ্ন তৈরি হয়।
ঢাকা কাস্টমসের বর্তমান অনলাইন কর্মকর্তা তালিকায় কমিশনার হিসেবে মো. মসিউর রহমানের নাম রয়েছে। একই তালিকায় অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে আয়েশা আক্তার, মুহাম্মদ কামরুল হাসান ও মোহিব্বুর রহমান ভূঁইয়ার নাম দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ অর্গানোগ্রামে অতিরিক্ত কমিশনারের দু’টি পদের বিপরীতে ওয়েবসাইটের কর্মকর্তা তালিকায় তিনজনের নাম রয়েছে।
এটি প্রশাসনিক পরিবর্তন, অতিরিক্ত দায়িত্ব নাকি ওয়েবসাইট হালনাগাদের অসামঞ্জস্য— তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
কারা কোন স্তরে?
ঢাকা কাস্টমসের কাঠামোর শীর্ষে কমিশনার। তার নিচে অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার ও উপ-কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ইউনিট ও কার্যক্রম তদারক করেন।
বর্তমান অনলাইন তালিকায় যুগ্ম কমিশনার হিসেবে ফাতেমা খাইরুন নূর, আয়েশা তামান্না ও ফেরদৌসী মাহবুবের নাম রয়েছে। উপ-কমিশনার হিসেবে মো. মাহবুবুর রহমান, মো. নেয়ামুল হাসান, মো. আমিনুল ইসলাম ও মোকিতুল হাসানের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক সহকারী কমিশনারের নামও তালিকায় রয়েছে।
তবে কর্মকর্তা তালিকা আর দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণাঙ্গ হালনাগাদ তালিকা এক জায়গায় না থাকায় কোন কর্মকর্তা কোন ইউনিটের দায়িত্বে— তা প্রতিটি ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
চার শিফটে বিমানবন্দর কাস্টমস
বিমানবন্দরের কাস্টমস কার্যক্রম দিন-রাত চলমান। ঢাকা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে চারটি শিফট— এ, বি, সি ও ডি— এর শিফট ইনচার্জের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
এ শিফটে আছেন সহকারী কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান, বি শিফটে উপ-কমিশনার মো. নেয়ামুল হাসান, সি শিফটে সহকারী কমিশনার মো. শরিফুল ইসলাম এবং ডি শিফটে সহকারী কমিশনার মো. মাহবুব আলম।
শিফটভিত্তিক দায়িত্বের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ বিমানবন্দরে যাত্রী, লাগেজ, আটক পণ্য ও তাৎক্ষণিক শুল্ক-কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এসব দায়িত্ব জড়িত।
ফলে প্রশ্ন হচ্ছে— একেক শিফটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটুকু? কোন পর্যায়ে ফাইল বা পণ্য আটকে যায়? এবং দ্রুত নিষ্পত্তির নামে কোনো অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয় কি না?
ব্যাগেজ ইউনিটঃ সাধারণ যাত্রীর সবচেয়ে কাছের কাস্টমস
বিমানবন্দরে কাস্টমসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি সরাসরি যোগাযোগ হয় ব্যাগেজ সংক্রান্ত কার্যক্রমে।
যাত্রীর সঙ্গে থাকা পণ্য, স্বর্ণ, ইলেকট্রনিকস, বাণিজ্যিক পরিমাণের পণ্য বা শুল্কযোগ্য সামগ্রী নিয়ে কাস্টমসের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। কোনো পণ্য আটক হলে বিষয়টি আরও জটিল হয়।
ঢাকা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে বিমানবন্দর অংশে ব্যাগেজ ফ্যাসিলিটি, শিফট ইনচার্জ, ফর্ম ডিক্লারেশন ও FAQ আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যাত্রীসেবা ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষেত্র।
এই জায়গায় দুর্নীতির ঝুঁকি যাচাইয়ের প্রশ্ন হতে পারে— আটক পণ্যের মূল্যায়ন কীভাবে হয়, যাত্রীকে কী লিখিত কারণ জানানো হয়, কোন পণ্য কোন পর্যায়ে যায় এবং নিষ্পত্তির সময় কত লাগে?
এয়ারফ্রেইটঃ কাগজের পণ্যের সঙ্গে কোটি টাকার হিসাব
বিমানবন্দরের কার্গো বা এয়ারফ্রেইট অংশটি সাধারণ যাত্রীর চোখের আড়ালে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি।
আমদানি করা পণ্যের ঘোষণা, ইনভয়েস, মূল্য, পণ্যের ধরন, শুল্কযোগ্যতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খালাস— এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে এয়ারফ্রেইট কার্যক্রম সরাসরি সম্পর্কিত।
ঢাকা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে এয়ারফ্রেইট ইউনিটের কার্যক্রমকে পৃথক সেবা হিসেবে রাখা হয়েছে।
এই অংশে প্রশ্ন ওঠে— একই ধরনের পণ্যের মূল্যায়নে কি পার্থক্য হয়? আমদানিকারকের ঘোষিত মূল্য এবং কাস্টমসের নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান কোথায় তৈরি হয়? আর সেই মূল্যায়ন পরিবর্তনের সুযোগ কার হাতে?
কুরিয়ার ইউনিটঃ দ্রুত খালাসের আড়ালে কী?
DHL, FedEx, Aramexসহ আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসা পণ্যও কাস্টমস প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ঢাকা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে কুরিয়ার ইউনিটের জন্য পৃথক Rules, কুরিয়ার কোম্পানির তালিকা এবং কুরিয়ার ট্যাক্স সংক্রান্ত ব্যবস্থা রয়েছে।
কুরিয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্যের প্রকৃতি, মূল্য, ঘোষণার যথার্থতা এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ওঠে— কোন ধরনের পণ্য বেশি আটক হয়, কতগুলো চালান নিয়মিতভাবে পরীক্ষার আওতায় আসে, কার্গো ছাড়তে কত সময় লাগে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী কাজ করে কি না।
রপ্তানি মূল্যায়নঃ রাজস্বের পাশাপাশি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ
ঢাকা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে Export Assessment-এর জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।
রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ঘোষণার সঠিকতা, পণ্যের শ্রেণীকরণ, প্রয়োজনীয় নথি এবং সংশ্লিষ্ট কাস্টমস প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে দুর্নীতির অভিযোগের ধরন আমদানি খাতের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। তাই অনুসন্ধানে দেখতে হবে— রপ্তানি চালান দ্রুত ছাড়ানোর নামে কোনো অনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয় কি না, কিংবা পণ্যের ঘোষণা ও নথিপত্র নিয়ে অযথা জটিলতা তৈরি করা হয় কি না।
বিচার শাখাঃ আটক পণ্য থেকে নিষ্পত্তি
ঢাকা কাস্টমসের সবচেয়ে সংবেদনশীল কার্যক্ষেত্রগুলোর একটি বিচার বা Adjudication কার্যক্রম।
কোনো পণ্য আটক হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া, কারণ দর্শানো, শুনানি, সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী নিষ্পত্তির সঙ্গে এ কার্যক্রম যুক্ত।
ঢাকা কাস্টমসের ২০২৫ সালের একটি সরকারি নথিতে ‘রাজস্ব কর্মকর্তা (বিচার)’ এবং নিলাম ও পণ্য নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখার উল্লেখ রয়েছে। একই নথিতে এয়ারপোর্ট ইউনিট, কুরিয়ার ইউনিট এবং নিলাম ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
এই শাখা নিয়েই অতীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘুষ, যাত্রী হয়রানি, আটক পণ্য ছাড়ানো এবং দালালচক্রের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইতেও একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শাখায় কর্মরত অবস্থায় এসব ধরনের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এগুলো অভিযোগ— প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল প্রয়োজন।
নিলাম ও পণ্য নিষ্পত্তিঃ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন স্বচ্ছতা
কাস্টমসের হাতে আটক বা আইনগতভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য পণ্য এক পর্যায়ে নিলামে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় পণ্যের তালিকা তৈরি, মূল্য নির্ধারণ, নিলাম, দরপত্র, বিক্রয় অনুমোদন ও পণ্য হস্তান্তরের মতো একাধিক ধাপ রয়েছে।
ঢাকা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে নিলাম তালিকা ও অনলাইন নিলামের পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইতেও বিশেষ ই-নিলাম ০২-২০২৬-এর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এখানে অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলো হলো—
একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কি বারবার নিলামে বিজয়ী হচ্ছে?
মূল্যায়িত দামের তুলনায় কত দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে?
নিলাম বিজ্ঞপ্তি থেকে পণ্য হস্তান্তর পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কারা যুক্ত?
নিলামের আগে পণ্যের তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার সুযোগ আছে কি না?
দুর্নীতির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি কোথায়?
ঢাকা কাস্টমসকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলোকে মোটামুটি কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাগ করা যায়—
১. পণ্য মূল্যায়ন: আমদানি পণ্যের মূল্য কম-বেশি নির্ধারণের অভিযোগ।
২. পণ্য খালাস: ফাইল বা চালান দ্রুত ছাড়ানোর নামে অবৈধ অর্থ দাবি করার অভিযোগ।
৩. আটক পণ্য: জব্দ বা আটক পণ্য ছাড়ানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও মধ্যস্থতাকারী ব্যবহারের অভিযোগ।
৪. বিচার শাখা: নথি নিষ্পত্তি, শুনানি ও পণ্য ছাড়ানোর প্রক্রিয়ায় ঘুষের অভিযোগ।
৫. ব্যাগেজ: বিমানযাত্রীদের হয়রানি, আটক পণ্য ও শুল্ক নির্ধারণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ।
৬. কুরিয়ার ও এয়ারফ্রেইট: দ্রুত খালাস এবং চালান নিষ্পত্তিতে অনিয়মের অভিযোগ।
৭. নিলাম: পণ্যের মূল্যায়ন, নিলাম প্রক্রিয়া ও বারবার একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন।
এসব অভিযোগের সবগুলো সত্য— এমন দাবি করার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগের ধরনগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে বিচার শাখায় ঘুষ ও দালালচক্রের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল; ২০২৩ সালেই ৫৫ কেজি স্বর্ণ গায়েবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কাস্টমস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
‘দালাল’ প্রশ্নটিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই
কাস্টমসের মতো জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় C&F Agent, আমদানিকারক, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু বৈধ প্রতিনিধিত্ব আর অবৈধ মধ্যস্থতার পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তালিকায় বিপুলসংখ্যক C&F প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রকাশিত রয়েছে।
প্রশ্ন ওঠে— কোন কর্মকর্তা বা ইউনিটের সঙ্গে কোন C&F এজেন্টের নিয়মিত যোগাযোগ, কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি চালান খালাস করে এবং কোন এজেন্টের ফাইল অস্বাভাবিক দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।
বড় প্রশ্ন— দায়িত্বের সঙ্গে জবাবদিহি কতটা?
ঢাকা কাস্টমস হাউসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর রাজস্ব-গুরুত্ব। আবার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও এখানেই।
একজন কর্মকর্তা একটি চালানের মূল্যায়ন করছেন, অন্যজন সেটি তদারক করছেন, আরেকজন আটক পণ্য নিয়ে কাজ করছেন, বিচার শাখা তার আইনগত নিষ্পত্তি করছে এবং শেষ পর্যন্ত নিলাম শাখা সেই পণ্য নিষ্পত্তি করছে— এই পুরো চেইনের কোথাও যদি স্বচ্ছতা দুর্বল হয়, তাহলে এক জায়গার অনিয়ম অন্য জায়গায় গিয়ে আড়াল হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তাই প্রশ্নটি শুধু ‘কোন কর্মকর্তা ঘুষ নেন’— এত ছোট করে দেখলে চলবে না।
প্রশ্ন হওয়া উচিৎ—
একটি পণ্য কাস্টমসের দরজায় প্রবেশ থেকে বের হওয়া পর্যন্ত কতজনের হাতে যায়?
প্রতিটি ধাপে সিদ্ধান্তের লিখিত রেকর্ড আছে কি?
কোন ইউনিটে ফাইল সবচেয়ে বেশি আটকে থাকে?
কোন কর্মকর্তা বা ইউনিটের কাছে অস্বাভাবিক সংখ্যক ফাইল জমে?
কোন C&F এজেন্ট বা আমদানিকারকের চালান অস্বাভাবিক দ্রুত ছাড়ে?
নিলামে কারা বারবার জয়ী হয়?
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
অভিযোগ উঠলে তদন্তের ফলাফল কী হয়?
ঢাকা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত নিলাম, নিয়োগ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মকর্তাদের ছুটি/NOC-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্য নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
তবে জনস্বার্থে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য হতে পারে আরও একটি— কোন কর্মকর্তা কোন ইউনিটে, কতদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার দায়িত্বে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
কারণ কাস্টমসের দুর্নীতি যদি সত্যিই ব্যক্তি নয়, বরং প্রক্রিয়াগত দুর্বলতার সুযোগে তৈরি হয়, তাহলে শুধু কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করে সমস্যার সমাধান হবে না।
