Headlines

মাদকসেবী বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ কি মাদকের সহজলভ্যতা নয়? কেরানীগঞ্জের ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম এটিকে কারণ মনে করলেন না!

ইন্সপেক্টর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান বছরের পর বছর ধরে চললেও একটি মৌলিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর আজও পাওয়া যায়নি— সমাদক যদি সহজে পাওয়া যায়, তাহলে শুধু মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করে কীভাবে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব?

সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ সার্কেলের সার্কেল কর্মকর্তা (ইন্সপেক্টর) জাহিদুল ইসলামের কাছে এ প্রতিবেদক জানতে চান, “তরুণ সমাজ, এমনকি কিশোরদের মধ্যেও মাদকসেবনের প্রবণতা এত দ্রুত বাড়ার মূল কারণ কী?”

ইন্সপেক্টর
ফলোআপ নিউজ-এর প্রশ্নের মুখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সক্টের জাহিদুল ইসলাম।

প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক কারণের কথা উল্লেখ করলেও মাদকের সহজলভ্যতা বা সরবরাহব্যবস্থাকে প্রধান কারণ হিসেবে সরাসরি উল্লেখ করেননি। এমনকি “সহজলভ্যতার” বিষয়টি তার কাছে কোনো বিষয়ই মনে হলো না। কেনো? প্রশ্ন উঠেছে— নিজের দায়িত্বের জায়গাটিই কি তিনি এড়িয়ে গেলেন?

কিন্তু বাস্তবতা কি ভিন্ন কিছু বলছে?

ঢাকার চারপাশের কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা এবং মুন্সীগঞ্জের কিছু অংশে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজলভ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা জানালেও বহু এলাকায় বাসিন্দারা এখনও মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ করে আসছেন। এসব এলাকায় শিল্পাঞ্চল, ঘনবসতি, নদীপথ ও মহাসড়কভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় থাকার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নিষিদ্ধ দ্রব্যের সরবরাহ যদি সহজ থাকে, তাহলে নতুন ব্যবহারকারী তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। সেই বাস্তবতায় মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে মামলা করাই যদি প্রধান কৌশল হয়, তাহলে সমস্যার শিকড়ে আঘাত করা হচ্ছে কি না— সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।

সমালোচকদের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই মাদকসেবী বা ছোটখাটো বহনকারীরা আইনের আওতায় আসে, কিন্তু বড় সরবরাহকারী, অর্থদাতা এবং সংঘবদ্ধ কারবারিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও দৃশ্যমান সাফল্য তুলনামূলক কম দেখা যায়। ফলে মামলার সংখ্যা বাড়লেও মাদকের বাজার পুরোপুরি ভাঙছে না।

এদিকে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও দুর্নীতিবিরোধী আলোচনায় অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটির সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন; প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা যায় না।

প্রশ্ন উঠছে—

  • যদি মাদকের সরবরাহ বন্ধ না হয়, তাহলে নতুন মাদকসেবী তৈরি হওয়া কীভাবে বন্ধ হবে?
  • বড় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি গোয়েন্দা অভিযান কতটা সফল?
  • মাদকের উৎস ধ্বংসের চেয়ে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করাই কি বেশি সহজ?
  • মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভেতরে দুর্নীতি প্রতিরোধে কী ধরনের জবাবদিহি রয়েছে?

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, একজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করলে একটি মামলা বাড়ে; কিন্তু একটি বড় সরবরাহ চক্র ভেঙে দিলে অসংখ্য তরুণের হাতে মাদক পৌঁছানোর পথ বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণের সফলতা শুধু মামলার সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং মাদক কতটা দুর্লভ হয়েছে, বড় কারবারিদের কতটা বিচারের আওতায় আনা গেছে এবং নতুন ব্যবহারকারীর সংখ্যা কতটা কমেছে— এসব সূচক দিয়েও মূল্যায়ন করা উচিত।

প্রতিবেদকের নোট: এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাইলে তাদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য বা ব্যাখ্যা একই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।