Headlines

অফিশিয়ালি ৫ শতাংশের বেশি করদাতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নেই // কর কমিশনার হেমল দেওয়ান

কর কমিশনার

অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখার সুযোগ আছে, তবে করদাতার তথ্য প্রকাশে আইনি বাধা রয়েছে— বললেন কর কমিশনার হেমল দেওয়ান।

কর কমিশনার
কর প্রশাসনের বাস্তবতা, অডিটের সীমা ও করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে ফলোআপ নিউজ-এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে জোন-৭ এর কর কমিশনার হেমল দেওয়ান। ফাইল ছবি।

ফলোআপ নিউজ: আপনার জোনে করদাতার সংখ্যা কত? বাস্তবে কতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়?

হেমল দেওয়ান: জোন-৭ এ প্রায় ৫০ হাজার করদাতা রয়েছে। ২০২৩–২০২৪ করবর্ষে প্রায় ১ হাজার ৮০০ করদাতার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। অর্থাৎ অফিসিয়ালি মোট করদাতার প্রায় ৫ শতাংশেরও কম মানুষের কাছে পৌঁছানো গেছে। কোনো কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে থাকতে পারেন, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সবার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ নেই।

ফলোআপ নিউজ: কর প্রশাসনের অডিট ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বাস্তবে কত শতাংশ করদাতার ফাইল অডিট হয়?

হেমল দেওয়ান: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সাধারণভাবে ১ শতাংশ করদাতার ফাইল অডিটেবল করা হয়। অর্থাৎ সব করদাতার ফাইল নিয়মিত অডিটের আওতায় আসে না।

ফলোআপ নিউজ: তাহলে বাকি ৯৯ শতাংশ করদাতার ক্ষেত্রে কর প্রশাসনের ভূমিকা কী?

হেমল দেওয়ান: করদাতারা স্ব-ঘোষণার ভিত্তিতে রিটার্ন দাখিল করেন। আমরা তথ্য-উপাত্ত, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করি। সব করদাতার ফাইল নিয়ে ইচ্ছামতো অনুসন্ধান বা অডিট করার সুযোগ নেই।

ফলোআপ নিউজ: অনেকের ধারণা, কর কর্মকর্তারা চাইলে যেকোনো করদাতার হিসাব খতিয়ে দেখতে পারেন।

হেমল দেওয়ান: বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। আইন যে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, আমাদের কাজও সেই সীমার মধ্যেই। অডিটের জন্য নির্বাচন, তথ্য যাচাই এবং পরবর্তী কার্যক্রম—সবকিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।

ফলোআপ নিউজ: আপনি বলছেন, এনবিআর ১ শতাংশ ফাইল অডিটের জন্য নির্বাচন করে। এর বাইরে জোন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ কতটা?

হেমল দেওয়ান: এর বাইরে আমাদের এখতিয়ার খুবই সীমিত। বিশেষ তথ্য, অভিযোগ বা আইনি ভিত্তি থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে, তবে তা নিয়মবহির্ভূতভাবে নয়।

ফলোআপ নিউজ: গণমাধ্যমের সঙ্গে কর প্রশাসনের দূরত্ব আছে— এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।

হেমল দেওয়ান: গণমাধ্যম প্রক্রিয়া, নীতি ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে কথা বলতেই পারে। তবে করদাতার তথ্য আইনত গোপন। অনেক সময় মানুষ ধারণাপ্রসূত মন্তব্য করে, যেগুলো সবসময় সঠিক নয়। গণমাধ্যমের সঙ্গে দূরত্ব আমাদের কাছে কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়িত্বশীল যোগাযোগ প্রয়োজন।

ফলোআপ নিউজ: সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বেতনের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?

হেমল দেওয়ান: জীবনযাত্রার ব্যয় যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেটি বাস্তবতা। কিন্তু সেটি মেনে নিয়েই সবাই চাকরি করছে। আইন ও বিধির বাইরে গিয়ে “এদিক-ওদিক” করার কোনো সুযোগ নেই।

ফলোআপ নিউজ: ফলোআপ নিউজ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কর-সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছে। এ ক্ষেত্রে কর প্রশাসনের অবস্থান কী?

হেমল দেওয়ান: জনগণ অভিযোগ দিতে পারে। অভিযোগ এলে তা খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের কর-তথ্য প্রকাশ করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়।

ফলোআপ নিউজ: এনজিও, মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠান ও সমবায়গুলো কীভাবে কর দিচ্ছে— এ বিষয়ে জানতে চাই।

হেমল দেওয়ান: প্রত্যেক ক্ষেত্রের জন্য স্ব স্ব আইন ও বিধান রয়েছে। সেই আইনি কাঠামোর মধ্যেই কর নির্ধারণ ও পরিশোধের বিষয়গুলো পরিচালিত হয়।

ফলোআপ নিউজ: ওয়াটারএইডের মতো কোনো নির্দিষ্ট এনজিওর কর-অবস্থার তথ্য কি দেওয়া সম্ভব?

হেমল দেওয়ান: না। পূর্বেই বলেছি কোনো প্রতিষ্ঠানের কর-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার আইন রয়েছে। সেই সীমাবদ্ধতা আমাদের মেনে চলতেই হয়।

ফলোআপ নিউজ: কর আদায় বাড়াতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী বলে মনে করেন?

হেমল দেওয়ান: করদাতাদের আরও সচেতন হতে হবে। স্বেচ্ছায় ও নিয়ম মেনে কর দেওয়া একটি নাগরিক দায়িত্ব। কর প্রশাসনের সক্ষমতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি করদাতার সচেতনতা ও অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ফলোআপ নিউজ: কর প্রশাসনের সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা, গোপনীয়তার আইন, অডিটব্যবস্থা ও করদাতার সচেতনতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

হেমল দেওয়ান: আপনাদেরও ধন্যবাদ। গণমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে তথ্য উপস্থাপন করলে জনসচেতনতা বাড়ে। করদাতাদের সচেতন হওয়া, সঠিক তথ্য দেওয়া এবং নিয়মিত কর পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি কর প্রশাসন ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে মানুষের মধ্যে সঠিক ধারণা তৈরি হবে।


সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ফলোআপ নিউজ-এর সম্পাদক দিব্যেন্দু দ্বীপ