Headlines

পেয়ারায় ভারী ধাতুঃ গবেষণাটি কতটা নির্ভরযোগ্য, অর্থায়ন কোথা থেকে?

নিজস্ব অনুসন্ধান

সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগের বাণিজ্যিক বাগানের পেয়ারায় আর্সেনিক, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গবেষণাটিতে দাবি করা হয়েছে, বাণিজ্যিক বাগানের পেয়ারায় বাড়ির বাগানের তুলনায় ভারী ধাতুর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং কিছু নমুনায় তা অনুমোদিত সীমা ছাড়িয়েছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Journal of Food Composition and Analysis-এর ২০২৬ সালের ১৫৮ নম্বর ভলিউমে, article 109433 হিসেবে। DOI: 10.1016/j.jfca.2026.109433। পেপারটি ৬ আগস্ট ২০২৬ অনলাইনে প্রকাশিত হয় এবং ৪ আগস্ট গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— গবেষণাটি কি বিশ্বাসযোগ্য? এর নমুনা কীভাবে নেওয়া হয়েছে? পরীক্ষাগার পদ্ধতি কতটা গ্রহণযোগ্য? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ফল আমদানিকারক বা কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর অর্থায়নে হয়েছে কিনা?

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, এখানে সরাসরি আমদানিকারকের অর্থায়নের প্রমাণ নেই। বরং গবেষণাপত্রে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে অর্থায়ন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি/প্রশ্ন পাওয়া গেছে, যা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে অবশ্যই অনুসন্ধানযোগ্য।

গবেষণাটির লেখক সাতজন:

  • Md. Sakhawot Hossain
  • Sharmin Asha
  • Md. Abdul Halim
  • Nizam Uddin
  • Thamina Acter
  • Md. Shovon Al-Fuad
  • Lisa Khanum

গবেষকদের মধ্যে Daffodil International University, Jashore University of Science and Technology, Hajee Mohammad Danesh Science and Technology University এবং East West University-এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

প্রধান লেখক Md. Sakhawot Hossain-এর সঙ্গে Daffodil International University এবং Jashore University of Science and Technology-এর সংশ্লিষ্টতা দেখানো হয়েছে।

অর্থাৎ এটি কোনো ফল আমদানিকারক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি বা বেসরকারি খাদ্য কোম্পানির নামে করা গবেষণা নয়।

কীভাবে গবেষণাটি করা হয়েছে?

এখানেই গবেষণাটির শক্তি এবং সীমাবদ্ধতা— দুই দিকই রয়েছে।

গবেষকরা ২০২৫ সালে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলা— রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট— নিয়ে কাজ করেন। মোট ১০টি sampling site নির্বাচন করা হয়। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে দুটি করে এবং অন্য জেলাগুলোতে একটি করে site নেওয়া হয়।

প্রতিটি sampling site-এ প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে দুটি ধরনের বাগান নির্বাচন করা হয়—

১. বাড়ির বাগান
২. বাণিজ্যিক বাগান

প্রতিটি নির্বাচিত গাছ থেকে তিনটি করে পরিপক্ব পেয়ারা সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ sampling design অনুযায়ী মোট ১০টি site × ২ ধরনের বাগান × ৩টি ফল = ৬০টি ফল সংগ্রহের পরিকল্পনা দেখা যায়। গবেষণার ফলাফল অবশ্য H1-H10 এবং F1-F10—এই ২০টি sample code-এর ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।

পেয়ারা হাতে সংগ্রহ করে deionized water দিয়ে ধুয়ে surface dust/residue সরানো হয়। এরপর laboratory preparation করা হয়।

পরীক্ষায় কী ব্যবহার করা হয়েছে?

চারটি element পরীক্ষা করা হয়েছে:

  • Arsenic (As)
  • Lead (Pb)
  • Cadmium (Cd)
  • Copper (Cu)

নমুনা acid digestion করার পর ICP-OES—Inductively Coupled Plasma Optical Emission Spectrometry ব্যবহার করে ধাতুর concentration নির্ণয় করা হয়েছে।

এটি heavy-metal analysis-এর জন্য স্বীকৃত ও প্রচলিত analytical technique। ফলে শুধু পরীক্ষার যন্ত্রের পদ্ধতি দেখে গবেষণাটিকে সন্দেহজনক বলার কারণ নেই।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষকরা recovery test করেছেন এবং চারটি element-এর recovery 95–103 শতাংশের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছেন।

অর্থাৎ laboratory analytical procedure-এর একটি quality-control component ছিল।

গবেষণায় commercial-farm guava-তে সর্বোচ্চ mean concentration হিসেবে বলা হয়েছে:

ধাতু সর্বোচ্চ mean concentration
Arsenic 3.84 mg/kg
Lead 2.05 mg/kg
Cadmium 1.88 mg/kg
Copper 9.04 mg/kg

গবেষণার দাবি অনুযায়ী commercial-farm sample-এর প্রায় ৩০% arsenic, ৭০% lead এবং ৯০% cadmium-এর ক্ষেত্রে permissible limit অতিক্রম করেছে। Home-garden sample তুলনামূলকভাবে কম contaminated ছিল।

এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়।

কিন্তু এখানেই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা

গবেষণাটি পেয়ারায় heavy metal পেয়েছে— কিন্তু সেই heavy metal কোথা থেকে এসেছে, তা নির্ণয় করেনি।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, sampling location-এর soil-এর heavy-metal concentration পরিমাপ করা হয়নি। ফলে soil contamination-এর ভূমিকা গবেষকরা সরাসরি প্রমাণ করেননি; বিদ্যমান literature-এর ভিত্তিতে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।

একইভাবে soil, irrigation water এবং plant tissue-এর সমন্বিত analysis করা হয়নি।

তাই—

পেয়ারায় ধাতু আছে— এটি গবেষণা করেছে।
কিন্তু ধাতু কোথা থেকে এসেছে— সেটি গবেষণা করেনি।

এ দুটোকে এক করে দেখা যাবে না।

রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার ১০টি site থেকে এই sampling করা হয়েছে। প্রতিটি site-এ একটি home garden এবং একটি commercial farm নেওয়া হয়েছে।

এটি একটি comparative baseline study হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এটিকে বাংলাদেশের সব বাণিজ্যিক পেয়ারার প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় গবেষণা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

কারণ—

  • বাংলাদেশের অন্যান্য পেয়ারা উৎপাদনকারী অঞ্চল এতে নেই;
  • একই জেলার বহু বাগানের পরিবর্তে সীমিত site নেওয়া হয়েছে;
  • seasonal variation নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি sampling নেই;
  • soil-water-fruit chain একসঙ্গে পরীক্ষা করা হয়নি;
  • heavy metal-এর chemical speciation করা হয়নি।

তাই সংবাদে “বাংলাদেশের সব পেয়ারা বিষাক্ত” বলা বৈজ্ঞানিকভাবে অতিরঞ্জিত হবে।

সঠিক বক্তব্য হবে:

“রাজশাহী বিভাগের নির্বাচিত বাণিজ্যিক বাগানের কিছু পেয়ারায় অনুমোদিত মাত্রার বেশি ভারী ধাতু পাওয়া গেছে।”

বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী— না।

গবেষণাপত্রের Funding section-এ বলা হয়েছে, গবেষণাটি Government of the People’s Republic of Bangladesh অর্থায়ন করেছে।

Funding হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:

Project ID: SRG-252346
Science and Technology Programme
Economic Code: 1260101–1200005400
Code No: 3631199

সরকারি গবেষণা-অনুদানের নথিতেও SRG-252346 প্রকল্পটি রয়েছে। সেখানে Principal Investigator হিসেবে Dr. Nizam Uddin, Daffodil International University-এর নাম এবং ৫ লাখ টাকা grant amount দেখা যায়।

এখানে অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি রয়েছে।

সরকারি তালিকায় SRG-252346-এর project title হিসেবে লেখা:

“Analysis of heavy metals and their probable risk assessments in fish and fish products”

অন্যদিকে পেয়ারা গবেষণার Funding section-এ একই SRG-252346-কে এই guava গবেষণার funding project হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই জায়গাটিই আসল অনুসন্ধানের বিষয়।

এটি তিনভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে:

এক. একই grant-এর অধীনে গবেষণার scope বিস্তৃত ছিল এবং guava গবেষণাটিও সেই প্রকল্পের অংশ।

দুই. grant-এর প্রকল্পের বিষয় ছিল fish/food products, কিন্তু একই অর্থায়ন ব্যবহার করে অতিরিক্ত guava research করা হয়েছে।

তিন. সরকারি grant-এর project title এবং পরবর্তী publication-এর বিষয়বস্তুর মধ্যে administrative/documentation mismatch হয়েছে।

কোনটি সত্য— তা গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নথি দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কারণ ফলের নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণার ফল বাজারে বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

কোনো গবেষণা যদি দেশীয় পেয়ারা নিয়ে নেতিবাচক ফল দেয়, তখন আমদানিকৃত ফলের ব্যবসায়ীরা পরোক্ষভাবে সুবিধা পেতে পারেন— এমন সম্ভাবনা তাত্ত্বিকভাবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কিন্তু সম্ভাবনা আর প্রমাণ এক জিনিস নয়।

এই মুহূর্তে primary/officially traceable information অনুযায়ী কোনো fruit importer বা importer association-এর অর্থায়নের প্রমাণ নেই।

বরং paper-এ authors স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে তাদের জানা মতে এমন কোনো financial interest বা personal relationship নেই যা গবেষণার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

তাই “আমদানিকারকদের টাকায় গবেষণা”— এই অভিযোগ এখনই সংবাদে fact হিসেবে লেখা যাবে না।

বরং লেখা যেতে পারে:

“গবেষণার অর্থায়ন নিয়ে আমদানিকারক সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তবে সরকারি grant-এর প্রকল্পের নাম ও প্রকাশিত guava গবেষণার বিষয়বস্তুর মধ্যে যে অমিল রয়েছে, তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।”

গবেষণাটি কি তাহলে বাতিল করে দিতে হবে?

না।

বরং গবেষণাটিকে সবচেয়ে যৌক্তিকভাবে দেখা উচিত একটি সতর্কতামূলক baseline study হিসেবে।

এর laboratory methodology মোটামুটি শক্তিশালী:

  • ICP-OES ব্যবহার হয়েছে;
  • blank ও standard calibration হয়েছে;
  • recovery test হয়েছে;
  • 95–103% recovery reported;
  • USEPA-based risk assessment ব্যবহার হয়েছে;
  • peer-reviewed Elsevier journal-এ প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু epidemiological বা nationwide food-safety conclusion দেওয়ার মতো scope গবেষণাটির নেই।

গবেষণায় Estimated Daily Intake, Target Hazard Quotient এবং Total Target Carcinogenic Risk ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষকরা adult-এর body weight 60 kg এবং child-এর 27 kg ধরে হিসাব করেছেন এবং daily guava consumption হিসেবে 95.4 g/person/day ব্যবহার করেছেন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এগুলো risk modelling—বাস্তবে একজন বাংলাদেশি প্রতিদিন একই পরিমাণ একই উৎসের contaminated পেয়ারা খাচ্ছেন, এমন clinical observation নয়।

অতএব “পেয়ারা খেলে ক্যান্সার হবে”— এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে নেওয়া যাবে না।

গবেষণাটি মূলত বলছে, এই concentration দীর্ঘমেয়াদি exposure হিসেবে ধরে নিলে সম্ভাব্য health risk তৈরি হতে পারে।

গবেষণায় commercial-farm guava-এর mean TTCR adult-এর জন্য প্রায় 1.20×10⁻² এবং children-এর জন্য 2.66×10⁻² দেখানো হয়েছে; গবেষকদের ব্যবহৃত 1×10⁻⁴ threshold-এর তুলনায় এগুলো অনেক বেশি।

কিন্তু একই গবেষণায় বলা হয়েছে EDI values acceptable limits-এর মধ্যে ছিল।

অর্থাৎ exposure calculation এবং risk-model calculation-এর মধ্যে পার্থক্যটি পাঠকের জন্য পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করা দরকার।

এ ধরনের risk assessment-কে সরাসরি রোগের incidence হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

আমাদের অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭টি প্রশ্ন

এই গবেষণা নিয়ে পরবর্তী সাংবাদিক অনুসন্ধানে গবেষকদের কাছে অন্তত এই সাতটি প্রশ্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া যায়:

১. SRG-252346-এর মূল approved project কি fish and fish products, নাকি guava-ও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল?

২. ৫ লাখ টাকার সরকারি grant-এর কত টাকা guava গবেষণায় ব্যয় হয়েছে?

৩. grant application-এ guava sampling বা fruit heavy-metal analysis ছিল কি না?

৪. গবেষণার ৬০টি ফলের মধ্যে ২০টি analytical sample কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল—individual fruit, composite sample নাকি pooled sample?

৫. soil এবং irrigation water কেন পরীক্ষা করা হয়নি, যখন contamination-এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে এগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে?

৬. কোন FAO/WHO permissible limit ব্যবহার করে ৩০%, ৭০% ও ৯০% exceedance হিসাব করা হয়েছে এবং সেই standard-এর বর্তমান সংস্করণ কী?

৭. কোনো importer, fruit trader, agricultural-input company বা industry group প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে sample collection, laboratory analysis, transportation বা publication-এ অর্থ বা logistical support দিয়েছে কি না?

চূড়ান্ত মূল্যায়ন

আমার মূল্যায়ন হলো— গবেষণাটি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়, আবার এটিকে বাংলাদেশের সব পেয়ারার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবেও নেওয়া যাবে না।

গবেষণার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য অংশ হলো নির্বাচিত samples-এ laboratory-based heavy-metal detection

সবচেয়ে বড় methodological limitation হলো contamination-এর উৎস শনাক্ত না করা

আর সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানযোগ্য বিষয় হলো funding discrepancy— গবেষণাপত্রে SRG-252346-কে guava গবেষণার funding source বলা হয়েছে, অথচ সরকারি নির্বাচিত প্রকল্পের তালিকায় একই project ID-এর title দেওয়া হয়েছে fish and fish products-এর heavy-metal analysis, যার grant amount ৫ লাখ টাকা।

আমদানিকারকদের অর্থায়নের কোনো প্রমাণ আমি পাইনি।

তাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য হবে:

“পেয়ারায় ভারী ধাতুর গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন আছে, কিন্তু আমদানিকারকদের অর্থায়নের অভিযোগের প্রমাণ নেই। বরং গবেষণার সরকারি অর্থায়নের project title এবং প্রকাশিত গবেষণার বিষয়বস্তুর মধ্যে যে অমিল রয়েছে, সেটিই এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।”