স্টাফ রিপোর্টার | FollowUpNews
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বহুতল ভবনের সংযোগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রযোজ্য প্রযুক্তিগত শর্ত অনুযায়ী নিজস্ব সাবস্টেশন বা ট্রান্সফরমার স্থাপনের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বহু ভবন সরাসরি বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের সংযোগ ব্যবহার করে লিফট, গভীর নলকূপ, পানির পাম্প, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্র পরিচালনা করছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এসব সংযোগের একটি অংশ বছরের পর বছর বহাল রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরব প্রশ্রয় ও নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে।
FollowUpNews-এর অনুসন্ধানী দল গত কয়েক মাস ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মিরপুরের শাহ আলী, মোহাম্মদপুরের বসিলা গার্ডেন সিটি, রামপুরার আফতাবনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বহুতল ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ, লিফট পরিচালনা, দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের নমুনা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে শতাধিক ভবনকে আরও বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত করেছে FollowUpNews।
অনুসন্ধানী দলের কাছে সংরক্ষিত তথ্যের মধ্যে রয়েছে ভবনের ঠিকানা, আলোকচিত্র, অবস্থান, দৃশ্যমান বিদ্যুৎ সংযোগের তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ। এসব তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানির অনুমোদিত লোড, সংযোগের ধরন এবং প্রযোজ্য প্রযুক্তিগত শর্ত মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ প্রকৌশলীদের মতে, কোনো বহুতল ভবনের সংযোগ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে শুধু মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার নয়, লোডের ধরন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শর্ট সার্কিট সুরক্ষা, ভোল্টেজ ড্রপ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিতরণ নেটওয়ার্কের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হয়। এ কারণেই উচ্চক্ষমতার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের সংযোগ ও অবকাঠামোগত শর্ত নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কোনো ভবনে প্রকৃত ব্যবহৃত বিদ্যুৎ অনুমোদিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি হয় অথবা প্রযোজ্য প্রযুক্তিগত শর্ত অনুসরণ না করা হয়, তাহলে সেটি শুধু সংশ্লিষ্ট ভবনের জন্য নয়, আশপাশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এর ফলে ভোল্টেজের ওঠানামা, ট্রান্সফরমারের ওপর অতিরিক্ত চাপ, যন্ত্রপাতির ক্ষতি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
FollowUpNews এখন পর্যন্ত এমন কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন পায়নি, যা উল্লিখিত ভবনগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ নিশ্চিত করে। একইভাবে মাসিক অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের পক্ষেও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিটি অভিযোগ পৃথকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
FollowUpNews-এর অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত শতাধিক ভবনের মধ্যে প্রতিটির অনুমোদিত বিদ্যুৎ লোড, প্রকৃত ব্যবহার, সংযোগের ধরন এবং প্রযোজ্য প্রযুক্তিগত শর্ত অনুসরণের বিষয়টি যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ডেসকো, ডিপিডিসি, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের বক্তব্যও নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে এই পর্যায়ে সব ভবনের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে যেসব ক্ষেত্রে নথি, প্রযুক্তিগত তথ্য, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে, সেসব তথ্য ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করবে FollowUpNews।
জনস্বার্থে পরিচালিত এই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করা নয়; বরং রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগে প্রযোজ্য নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা।
