আগের অভিযোগের পরও অনিয়মের অভিযোগ; নিয়মিত অফিস না করার দাবি, ‘সই হিসাব করে’ ঘুষ সমন্বয়ের অভিযোগ।
কক্সবাজার প্রতিনিধি
বিভিন্ন সময়ে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পরও কক্সবাজারের রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার সাহেদ হোসেন চৌধুরী। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি নিয়মিত ও ঠিকমতো অফিস করেন না। একই সঙ্গে তার স্বাক্ষর করা দলিলের হিসাব অনুযায়ী কথিত ঘুষের অর্থ সমন্বয় করে পৌঁছে দেওয়ার একটি ব্যবস্থা রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাব-রেজিস্ট্রারের উপস্থিতি অনিয়মিত হওয়ায় দলিল নিবন্ধনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভোগান্তি তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাকে না পাওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নতুন অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কথিত ঘুষের হিসাব। অভিযোগকারীদের দাবি, সইয়ের আগে সরাসরি ঘুষ নেওয়ার বিষয় নয়; বরং সাব-রেজিস্ট্রার সাহেদ হোসেন চৌধুরী যতগুলো দলিলে স্বাক্ষর করেন, সেই হিসাব অনুযায়ী কথিত অর্থ সমন্বয় করা হয়। অফিসসংশ্লিষ্ট মোহরার নন্দ রাম দাশ এই অর্থের বিষয়টি সমন্বয় করে পরে হিসাব অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছে দেন— এমন অভিযোগ উঠেছে।
তবে দলিলের স্বাক্ষরসংখ্যার সঙ্গে কথিত অর্থ লেনদেনের কোনো বাস্তব সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এ অভিযোগ যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল, দলিল লেখকদের বক্তব্য, সেবাগ্রহীতাদের সাক্ষ্য এবং অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণের পাশাপাশি অফিসের নথি পরীক্ষা প্রয়োজন।
রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে এর আগেও সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। আগের অভিযোগের পরও নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় অফিসটির জবাবদিহি ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সাহেদ হোসেন চৌধুরী নিয়মিত অফিস করেন কিনা, তা যাচাইয়ে গত কয়েক মাসের উপস্থিতি রেজিস্টার ও বায়োমেট্রিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। একইভাবে দলিল উপস্থাপনের সময়ের সঙ্গে তার স্বাক্ষরের সময় মিলিয়ে দেখলে অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি যাচাই করা সম্ভব।
অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার সাহেদ হোসেন চৌধুরী এবং নন্দ রাম দাশের বক্তব্য নেওয়া হলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
FollowUpNews-এর অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।
