১. S Alam Group (একাধিক প্রতিষ্ঠান)
আলোচিত প্রতিষ্ঠান
- S Alam Super Edible Oil Ltd.
- S Alam Vegetable Oil Ltd.
- S Alam Refined Sugar Industries Ltd.
- S Alam Cold Rolled Steels Ltd.
- S Alam Trading Company Pvt. Ltd.
- Sonali Traders
- (এছাড়াও গ্রুপের আরও একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান)
এস আলম গ্রুপ: বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঋণখেলাপি গোষ্ঠী
এস আলম গ্রুপের মোট ঋণের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান রয়েছে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটি ১০টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৭ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা শেল (কাগুজে) কোম্পানি ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, ৯২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা গ্রুপের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে এবং ৩৪ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা পরোক্ষভাবে নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
খেলাপি ঋণের পরিমাণের ক্ষেত্রে, সরকার এখন পর্যন্ত এস আলম গ্রুপের মোট খেলাপি ঋণের একটি একক (aggregate) সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে প্রকাশিত শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ১১টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ১১ প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো এস আলম গ্রুপ। বিভিন্ন তদন্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রুপটির একাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেই ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক-সহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল ঋণ লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। এসব ব্যাংক থেকে গ্রুপটির বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, একই শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন বা সংশ্লিষ্ট বহু প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শেল (কাগুজে) কোম্পানি ব্যবহার, প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ, পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া ঋণ অনুমোদন এবং ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও এসেছে।
এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। দুদক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) এবং অন্যান্য সংস্থার তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন শেল কোম্পানি, ভুয়া বা অতিমূল্যায়িত আমদানি বিল (Over-invoicing), জটিল আর্থিক লেনদেন এবং অফশোর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদের খোঁজও করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি এসব অভিযোগের উল্লেখযোগ্য অংশও সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক অনিয়মের ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার তদারকি, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, অল্প কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বিপুল ঋণ কেন্দ্রীভূত হলে পুরো ব্যাংকিং খাত কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
২. Beximco Group
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ব্যাংকঋণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার ১২০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঋণ গ্রহণের জন্য গ্রুপটির বিপুলসংখ্যক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।
২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় Bangladesh Export Import Company Ltd (Beximco) এবং Beximco Communications Ltd-এর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বেক্সিমকোর ঘটনা দেখিয়েছে, যখন একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বিপুল ঋণ কেন্দ্রীভূত হয় এবং সেই ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, তখন শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নয়, পুরো ব্যাংকিং খাত, বিনিয়োগ পরিবেশ, শ্রমবাজার এবং আমানতকারীদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ঋণের পরিমাণ, খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিভিন্ন অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে অস্বীকার করেছে।
৩. Keya Group
একসময় বাংলাদেশের অন্যতম সফল ভোগ্যপণ্য ও টেক্সটাইল শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত Keya Group বর্তমানে বড় ঋণখেলাপিদের তালিকায় স্থান পেয়েছে। ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় Keya Cosmetics Ltd.-এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, Keya Cosmetics Ltd.-এর খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২,১৩৯ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ রয়েছে সোনালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, GSP Finance এবং Union Capital-এ।
অন্যদিকে, Keya Group-এর মোট ব্যাংকঋণ প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বলে বিভিন্ন ব্যাংক নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের কাছেই প্রায় ১,৫৫৪ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রুপটির ঋণের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পরিশোধ করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঋণসুবিধা অব্যাহত রাখার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
একসময় দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য পরিচিত এই শিল্পগোষ্ঠী পরবর্তীতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে সংকটে পড়ে। ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ, নগদ প্রবাহের সমস্যা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে পারে, Keya Group সেই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
৪. Deshbandhu Group
বাংলাদেশের শিল্পখাতের পরিচিত নাম দেশবন্ধু গ্রুপ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রুপটির অন্যতম প্রতিষ্ঠান Deshbandhu Sugar Mills Ltd. দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২,০৩৮ কোটি টাকা।
৫. Pacific Bangladesh Telecom Ltd. (Citycell)
একসময় বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি মোবাইল অপারেটর হিসেবে পরিচিত Pacific Bangladesh Telecom Ltd. (Citycell) বর্তমানে দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে। তবে সরকার প্রতিষ্ঠানটির সুনির্দিষ্ট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, ব্যবসায়িক পতন এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
Pacific Bangladesh Telecom Ltd. (Citycell)-এর ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম. মোরশেদ খান। একই সময়ে তাঁর মালিকানাধীন Pacific Group ছিল AB Bank-এর অন্যতম প্রধান শেয়ারহোল্ডার এবং ব্যাংকটির পরিচালনায়ও তাদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। পরবর্তীতে দুদকের এক মামলায় অভিযোগ করা হয়, AB Bank নিয়ম লঙ্ঘন করে Citycell-এর জন্য অন্যান্য ব্যাংকের শত শত কোটি টাকার ঋণের গ্যারান্টি দিয়েছিল। এই অভিযোগগুলো বাংলাদেশের করপোরেট গভর্ন্যান্স, ব্যাংক পরিচালনা এবং স্বার্থের সংঘাত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
৬. PowerPac Holdings
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতের পরিচিত প্রতিষ্ঠান PowerPac Holdings-এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান—PowerPac Mutiara Keraniganj Power Plant Ltd. এবং PowerPac Mutiara Jamalpur Power Plant Ltd.—২০২৬ সালে প্রকাশিত দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে সরকার তাদের পৃথক খেলাপি ঋণের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করেনি।
৭. Karnafuly Foods Ltd.
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Karnafuly Foods (Pvt.) Ltd., Chemon Ispat Ltd. এবং Murad Enterprise—এই তিনটি প্রতিষ্ঠান, যেগুলোকে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্মিলিতভাবে ১,৫০০ কোটিরও বেশি খেলাপি ঋণ বহন করছে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পৃথক অঙ্ক সেখানে প্রকাশ করা হয়নি।
৮. Rongdhanu Group / Rongdhanu Builders
রিয়েল এস্টেট খাতের প্রতিষ্ঠান Rongdhanu Builders (Pvt.) Ltd. ২০২৬ সালে প্রকাশিত দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পৃথক খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রকাশ করেনি।
৯. AnonTex Group
দেশের তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী AnonTex Group দীর্ঘদিন ধরে জনতা ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঋণখেলাপিদের একটি হিসেবে আলোচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটি প্রায় ৭,৭৫৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে, যার মধ্যে প্রায় ৭,৭০৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষায় ঋণ অনুমোদনে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে এবং জনতা ব্যাংককে এসব ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন গ্রুপটির বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত ও মামলা করেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
১০. Nabil Group
Nabil Group-এর ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতে আলোচিত তথ্য অনুযায়ী খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ সামনে এসেছে, তবে এটি বিভিন্ন সময় BFIU, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন এবং গণমাধ্যম রিপোর্ট অনুযায়ী ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
সর্বাধিক উদ্ধৃত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:
- Nabil Group-এর মোট ঋণ প্রায় ৯,৪০৫ কোটি টাকা
- এর মধ্যে খেলাপি ঋণ প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা
- অর্থাৎ মোট ঋণের বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী বা শ্রেণিবদ্ধ ঋণ হিসেবে রয়েছে।
আরও কিছু তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
- Islami Bank-এর বিভিন্ন শাখা মিলিয়ে Nabil Group ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ একসময় প্রায় ৯,৫০০–৯,৫০০+ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়
- একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে একই গ্রুপের ঋণ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে
- ব্যাংকিং নীতিমালা ভঙ্গ করে একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে
এই ১০টি উদাহরণ কেবল পৃথক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের গল্প নয়; এগুলো বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। যখন অল্প কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ কেন্দ্রীভূত হয় এবং তা সময়মতো আদায় করা যায় না, তখন তার প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনীতির ওপর। খেলাপি ঋণ তাই শুধু একটি ব্যাংকের সমস্যা নয়—এটি সুশাসন, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক নীতিরও একটি বড় পরীক্ষা।
