১৯৭১ সালের সেই বিভীষিকাময় দিনে মানুষ পালাচ্ছিলো মৃত্যুর হাত থেকে। তাদের কারো হাতে ছিলো একটি কাপড়ের পুঁটলি, কারো কোলে ছোট্ট শিশু, কারও চোখে ছিলো নতুন ভোর দেখার আকুতি। তারা যুদ্ধ করতে বের হয়নি, অস্ত্র হাতে নেয়নি; তারা শুধু বাঁচতে চেয়েছিলো। শুধু আরেকটি সূর্যোদয় দেখতে চেয়েছিলো।
কিন্তু ডাকরার পথে সেই মানুষগুলোকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিলো চিরদিনের জন্য।
হয়তো কোনো শিশু মায়ের আঁচল শক্ত করে ধরে বলেছিলো, “মা, আমরা কোথায় যাচ্ছি?” — কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর আর পাওয়া হয়নি। হয়তো কোনো মা শেষবারের মতো সন্তানের মুখে হাত বুলিয়ে ভেবেছিলেন, “ওকে শুধু বাঁচতে হবে।” হয়তো কোনো বৃদ্ধ মানুষ ভাবছিলেন, আরেকবার নিজের ঘরের উঠোনটা দেখবেন।
কিন্তু সেদিন আকাশ শুনেছিল গুলির শব্দ, মাটি গ্রহণ করেছিলো নিরপরাধ মানুষের রক্ত, আর বাতাস বহন করেছিলো অসংখ্য মানুষের শেষ চিৎকার।
ডাকরা শুধু একটি গণহত্যার নাম নয়; এটি এমন এক শোকগাঁথা, যেখানে নদী, মাটি, গাছ—সবকিছু যেন আজও নীরবে সাক্ষ্য দেয় মানুষের প্রতি মানুষের নির্মমতার।
সময়ের সঙ্গে ক্ষত শুকিয়ে যায় বলা হয়। কিন্তু কিছু ক্ষত শুকায় না। কিছু কান্না ইতিহাসের পাতায় আটকে থাকে না—সেগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের বিবেককে প্রশ্ন করে যায়:
মানুষ কি সত্যিই মানুষের প্রতি এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?
ডাকরার নিহত মানুষগুলো সংখ্যা নয়। তারা ছিলো কারো বাবা, কারো মা, কারো সন্তান, কারো স্বপ্ন। তাদের অসমাপ্ত জীবনের গল্পগুলো আজও বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
আর ইতিহাসের কাছে আমাদের দায় একটাই—তাদের ভুলে না যাওয়া।
