Headlines

খাস ফুডের বিরুদ্ধে পণ্যে প্রতারণার অভিযোগ: ‘মেশিনের চিড়া’কে ‘ঢেঁকি ছাটা চিড়া’ বলে উচ্চমূল্যে বিক্রি?

Khas food
স্টাফ রিপোর্টার | FollowUpNews

অনলাইনে নিরাপদ ও অর্গানিক খাদ্যপণ্য বিক্রির দাবিদার প্রতিষ্ঠান খাস ফুডের বিরুদ্ধে নতুন করে পণ্যে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী কয়েকজন গ্রাহক দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটি যেসব চিড়া “ঢেঁকি ছাটা চিড়া” নামে বাজারজাত করছে, তার একটি অংশ প্রকৃতপক্ষে মেশিনে উৎপাদিত চিড়া, অথচ ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি পদ্ধতিতে উৎপাদিত পণ্যের নামে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

নিম্নমানের চিড়া
খাস ফুডের চিড়ার প্যাকেটে উৎপাদন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখও লেখা নয়। চিড়ামুড়ি ইত্যাদি পণ্য ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি হওয়া উচিৎ কিনা -এ বিষয়েও ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, “ঢেঁকি ছাটা” শব্দটি ব্যবহার করে পণ্যের ঐতিহ্য, স্বাস্থ্যগুণ ও বিশেষত্বের ধারণা তৈরি করা হয়। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়ার পর এর আকার, গঠন, রং ও প্রক্রিয়াজাত বৈশিষ্ট্য দেখে তারা সন্দেহ করছেন যে এটি শিল্পোৎপাদিত সাধারণ চিড়া।

একজন ক্রেতা FollowUpNews–কে বলেন, “ঢেঁকি ছাটা চিড়ার জন্য আমরা বেশি দাম দিচ্ছি। কিন্তু পণ্য দেখে মনে হয়েছে এটি সাধারণ মেশিনের চিড়া। যদি তা-ই হয়, তাহলে এটি ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা।”

খাস ফুড কী দাবি করে?

খাস ফুড নিজেদেরকে নিরাপদ, প্রাকৃতিক ও উচ্চমানের খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য অনলাইনে ও পরিবেশক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিক্রি করছে। কোম্পানিটি “বিশুদ্ধতা”, “নিরাপদ খাদ্য” ও “অর্গানিক” ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর দিয়ে থাকে। ।

আগেও ছিল ভোক্তা অধিকার–সম্পর্কিত অভিযোগ

খাস ফুডকে ঘিরে এটাই প্রথম বিতর্ক নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মিথ্যা বিজ্ঞাপন, পণ্যের সঠিক উৎস উল্লেখ না করা, যাচাই ছাড়া তৃতীয় পক্ষের পণ্য বিক্রি এবং প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতার অভিযোগে তদারকি চালায়। সে সময় রং মেশানো মুগ ডাল বিক্রির অভিযোগও ওঠে এবং ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শুনানিতে খাস ফুড কর্তৃপক্ষ কিছু বিষয়ে ভুল স্বীকার করেছিল এবং পণ্য ফেরত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

খাদ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, “ঢেঁকি ছাটা” একটি প্রক্রিয়াগত দাবি (process claim)। অর্থাৎ পণ্যটি কীভাবে উৎপাদিত হয়েছে, সেটিই মূল বিষয়। যদি বাস্তবে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পণ্যকে ঢেঁকি ছাটা হিসেবে বিক্রি করা হয়, তবে তা ভোক্তা অধিকার আইনের আলোকে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

একজন খাদ্য বিশ্লেষক বলেন, “শুধু নাম ব্যবহার করলেই হবে না; উৎপাদন পদ্ধতির প্রমাণ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও ট্রেসেবিলিটি দেখাতে হবে।”

প্রমাণ চাইছেন ভোক্তারা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক গ্রাহক খাস ফুডের কাছে নিচের তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন—

  • চিড়ার প্রকৃত উৎপাদন পদ্ধতি

  • উৎপাদনকারী মিল বা কারখানার তথ্য

  • ঢেঁকি পদ্ধতিতে উৎপাদনের প্রমাণ

  • পণ্যের ব্যাচভিত্তিক ট্রেসেবিলিটি

  • মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি

খাস ফুডের বক্তব্য

এই অভিযোগের বিষয়ে খাস ফুড কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

তদন্তের দাবি

ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়; বর্তমানে “অর্গানিক”, “দেশি”, “ঢেঁকি ছাটা”, “কোল্ড প্রেসড”, “খাঁটি” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে উচ্চমূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। তাই লেবেলিং, উৎপাদন পদ্ধতি ও বিপণন দাবির সত্যতা যাচাইয়ে নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন।

FollowUpNews-এর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। খাস ফুডের পক্ষ থেকে লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা হুবহু প্রকাশ করা হবে।