ফলোআপ নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ কি সত্যিই বদলে যাচ্ছে?
প্রশ্নটি করার আগে চারদিকে তাকাতে হয়। ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, রাস্তায় মবের বিচার, রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধীর ক্ষমতাবান হয়ে ওঠা, ঘুষ ও দুর্নীতির বিস্তার, মাদকের ভয়াবহ নেটওয়ার্ক, নারী ও শিশুর ওপর যৌন সহিংসতা— সবকিছু মিলিয়ে মনে হতে পারে, রাষ্ট্রের ভেতরে যেন আরেকটি রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে।
কিন্তু এটাকে শুধু ‘নৈতিক অবক্ষয়’ বলে ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে।
কারণ নৈতিক অবক্ষয় একা কোনো সমাজকে বদলে দেয় না। একটি সমাজ তখনই বিপজ্জনকভাবে বদলায়, যখন অপরাধ লাভজনক হয়, ক্ষমতা অপরাধীকে রক্ষা করে এবং আইন সবার জন্য সমান থাকে না।
বাংলাদেশের সংকটের গভীরে সম্ভবত এই তিনটি শব্দ—
ক্ষমতা, টাকা ও দণ্ডহীনতা।
ধর্ম কি সমস্যার মূল?
না।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে এই সংকটের জন্য দায়ী করা অন্যায় হবে, বিশ্লেষণগতভাবেও ভুল হবে।
সমস্যাটি শুরু হয় অন্য জায়গায়— যখন ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও নৈতিকতার জায়গা থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক বৈধতা, জনমত নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রতিপক্ষকে আক্রমণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
তখন ধর্মীয় অনুভূতি আর শুধু বিশ্বাস থাকে না; তা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক সম্পদ।
এই জায়গাটিই বিপজ্জনক।
কারণ ধর্মের নামে জনতাকে উত্তেজিত করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু ধর্মের নৈতিক শিক্ষা দিয়ে দুর্নীতিবাজকে প্রশ্ন করা, ক্ষমতাবানকে জবাবদিহির মধ্যে আনা কিংবা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অনেক কঠিন।
ফলে সমাজে কখনো কখনো এমন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়— মানুষ ধর্মীয় আচারে কঠোর, কিন্তু একই সঙ্গে ঘুষ, প্রতারণা, দখল, মাদক কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারকে সহ্য করে।
অর্থাৎ সমস্যা ধর্মের উপস্থিতি নয়।
সমস্যা হলো ধর্মের নৈতিক শক্তিকে দুর্বল করে তার পরিচয়গত ও রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করা।
তারপর আসে দুবৃত্তের উত্থান
একজন অপরাধী একা রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি নয়।
সে বড় হুমকি হয় তখনই, যখন তার সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক তৈরি হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে পেশিশক্তি, অর্থশক্তি এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন স্থানীয় সন্ত্রাসী বা দখলদার যখন কোনো রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয় মানুষ হয়ে ওঠে, তখন তার অপরাধ আর শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ থাকে না।
সে হয়ে যায়—
ভোটের লোক।
মিছিলের লোক।
জমি দখলের লোক।
ভয় দেখানোর লোক।
প্রতিপক্ষ দমনের লোক।
এভাবেই অপরাধী ধীরে ধীরে সামাজিক ক্ষমতা অর্জন করে।
এক পর্যায়ে সে ব্যবসায়ী হয়, জনপ্রতিনিধি হয়, রাজনৈতিক নেতা হয় কিংবা ক্ষমতাবানদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
তখন প্রশ্ন বদলে যায়।
আর জিজ্ঞেস করা হয় না— ‘সে অপরাধী কিনা?’
জিজ্ঞেস করা হয়—
‘সে কার লোক?’
এটাই দণ্ডহীনতার শুরু।
দুর্নীতি: পুরো ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ইঞ্জিন
দুর্নীতি শুধু ঘুষ নেওয়া নয়।
Transparency International-এর সংজ্ঞায়, দুর্নীতি হলো অর্পিত ক্ষমতার ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহার। এর ফল শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি নয়; এটি মানুষের রাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমায়, গণতন্ত্রকে দুর্বল করে এবং বৈষম্য বাড়ায়।
বাংলাদেশের বর্তমান চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়।
২০২৫ সালের Corruption Perceptions Index-এ বাংলাদেশের স্কোর ২৪/১০০ এবং অবস্থান ১৮২ দেশের মধ্যে ১৫০তম। Transparency International Bangladesh বলছে, এটি গত ১৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর।
অর্থাৎ সরকার বদলালেই দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে যায় না।
কারণ দুর্নীতি ব্যক্তি দিয়ে শুরু হলেও একসময় প্রতিষ্ঠানকে নিজের মতো করে নেয়।
একটি অনুমোদন পেতে ঘুষ।
একটি মামলা সামলাতে যোগাযোগ।
একটি টেন্ডার পেতে রাজনৈতিক পরিচয়।
একটি জমি দখল করতে পেশিশক্তি।
একটি অবৈধ ব্যবসা চালাতে প্রশাসনিক আশ্রয়।
একটি বড় অর্থ লুকাতে আর্থিক নেটওয়ার্ক।
এই সবকিছু যখন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন দুর্নীতি আর বিচ্ছিন্ন অপরাধ থাকে না।
এটি হয়ে ওঠে একটি সমান্তরাল অর্থনীতি।
সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা: অপরাধ ও রাজনীতির মেলবন্ধন
রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধী সে নয় যে আইন ভাঙে।
সবচেয়ে ভয়ংকর সেই অপরাধী—
যে আইন ভাঙার পরও আইনকে নিজের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেয় না।
এখানেই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা গুরুত্বপূর্ণ।
Transparency International Bangladesh ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে বলেছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও অকার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিকে সুবিধা, সুরক্ষা এবং দণ্ডমুক্তি দিয়েছে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কথাও তারা উল্লেখ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে একজন সাধারণ নাগরিক এবং একজন ক্ষমতাবান অপরাধীর জন্য একই আইন থাকলেও বাস্তবে আইনের অভিজ্ঞতা এক হয় না।
আর তখন মানুষ আইনকে বিশ্বাস করা বন্ধ করে।
যখন আদালতের বদলে জনতা বিচার করে
সাম্প্রতিক সময়ে মব সহিংসতা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর সামাজিক লক্ষণগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
Human Rights Watch-এর ২০২৬ সালের বাংলাদেশ প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত মব হামলায় অন্তত ১২৪ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, Ain o Salish Kendra-র তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে। একই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় কট্টরপন্থীসহ বিভিন্ন অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর মব সহিংসতার উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।
মবের হাতে বিচার কেন বিপজ্জনক?
কারণ মবের কাছে প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
মবের কাছে তদন্ত নেই।
মবের কাছে আপিল নেই।
মবের কাছে বিচারকের প্রয়োজন নেই।
শুধু একটি অভিযোগ, একটি উত্তেজনা এবং একটি জনসমষ্টি যথেষ্ট।
আর রাষ্ট্র যখন মবকে কার্যকরভাবে থামাতে ব্যর্থ হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে একটি ভয়ংকর ধারণা জন্ম নেয়—
আইন দিয়ে বিচার পাওয়া যায় না; জনতা দিয়ে বিচার করাই সহজ।
এই ধারণা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।
মাদক: শুধু নেশা নয়, একটি অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য
বাংলাদেশের মাদক সমস্যাকেও শুধু ‘যুবসমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে’ বলে দেখলে মূল জায়গাটি বাদ পড়ে যায়।
মাদকের পেছনে রয়েছে অর্থ।
আর যেখানে বিপুল অর্থ আছে, সেখানে থাকে নেটওয়ার্ক।
উৎপাদক।
সীমান্ত।
পরিবহনকারী।
পাইকার।
স্থানীয় ডিলার।
অর্থ সংগ্রাহক।
অর্থপাচারকারী।
এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সুরক্ষার অভিযোগ।
UNODC জানিয়েছে, বাংলাদেশ এখনও প্রতিবেশী অঞ্চল থেকে আসা হেরোইন ও মেথামফেটামিনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
অর্থাৎ মাদক শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়।
এটি সীমান্ত নিরাপত্তা, অপরাধ অর্থনীতি, অর্থপাচার এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রশ্ন।
মাদকের বাজার যত বড় হবে, তত বড় হবে সেই বাজার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক।
আর সেই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যখন ক্ষমতার সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন একটি মাদকবিরোধী অভিযান কয়েকজন ডিলারকে গ্রেপ্তার করতে পারে— কিন্তু সাম্রাজ্যটি ভাঙতে পারে না।
যৌন অপরাধকে শুধু ‘নৈতিকতা’ দিয়ে বোঝা যাবে না
বাংলাদেশে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই ‘নৈতিক অবক্ষয়’ শব্দটি ব্যবহার করি।
কিন্তু সেটিও অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যা।
কারণ যৌন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত আছে ক্ষমতা।
ভয়।
দারিদ্র্য।
সামাজিক অসমতা।
ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার।
ভুক্তভোগীর সামাজিক কলঙ্ক।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— অপরাধীর শাস্তি না হওয়ার সম্ভাবনা।
একজন অপরাধী যদি জানে যে ভুক্তভোগী সামাজিক চাপে মামলা করবে না, পরিবার তাকে চুপ করিয়ে দেবে, তদন্ত দুর্বল হবে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় তাকে রক্ষা করতে পারে— তাহলে আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধের ঝুঁকি তার কাছে কমে যায়।
অপরাধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ শুধু কঠোর আইন নয়।
নিশ্চিত শাস্তি।
তাহলে সবকিছুর কেন্দ্রে কী?
ধর্ম নয়।
মাদক নয়।
যৌনতা নয়।
রাজনীতিও একা নয়।
সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছে দণ্ডহীনতা।
একজন দুর্নীতিবাজ দেখে অন্য দুর্নীতিবাজ পার পেয়ে যাচ্ছে।
একজন দখলদার দেখে আরেকজন দখলদার ক্ষমতাবান হয়েছে।
একজন মাদক ব্যবসায়ী দেখে তার ওপরে কেউ নেই।
একজন রাজনৈতিক ক্যাডার দেখে অপরাধ করেও দলীয় পরিচয়ে নিরাপদ থাকা যায়।
একজন মব দেখে রাষ্ট্র তাকে থামাতে পারছে না।
তখন সমাজের কাছে একটি বার্তা যায়—
অপরাধ করো, কিন্তু সঠিক আশ্রয় খুঁজে নাও।
এই বার্তাই একটি রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে বদলে দেয়।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট হয়তো দুর্নীতি নয়— দুর্নীতিকে স্বাভাবিক মনে করা
যেদিন মানুষ ঘুষকে আর ঘুষ মনে করে না, সেদিন দুর্নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
যেদিন রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধীকে ‘নিজের লোক’ বলা হয়, সেদিন অপরাধ স্বাভাবিক হয়।
যেদিন মবের হাতে হত্যাকে ‘জনতার ক্ষোভ’ বলা হয়, সেদিন বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়।
যেদিন মাদক ব্যবসায়ীকে এলাকার ‘বড় ভাই’ বলা হয়, সেদিন অপরাধ সামাজিক মর্যাদা পায়।
যেদিন ধর্মের নামে অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়াকে ধর্মরক্ষা বলা হয়, সেদিন ধর্মের নৈতিক শক্তি দুর্বল হয়।
এভাবেই একটি সমাজের মূল্যবোধ একদিনে ধ্বংস হয় না।
প্রতিদিন একটু একটু করে তার সীমারেখা সরতে থাকে।
তবু বাংলাদেশ শেষ হয়ে যায়নি
এখানে সবচেয়ে জরুরি সতর্কতাটি দরকার।
বাংলাদেশকে ‘দুর্নীতিবাজ’, ‘ধর্মান্ধ’, ‘মাদকাসক্ত’ কিংবা ‘অপরাধী জাতি’ বলা যেমন ভুল, তেমনি এসব সমস্যাকে অস্বীকার করাও বিপজ্জনক।
এই দেশের কোটি কোটি মানুষ সৎভাবে জীবনযাপন করে।
ধর্ম পালন করে কিন্তু অন্যের অধিকারকে সম্মান করে।
রাজনীতি করে কিন্তু অপরাধকে সমর্থন করে না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে।
মবের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
মাদকবিরোধী লড়াই করে।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তার জন্য কাজ করে।
রাষ্ট্রের ভেতরেও অসংখ্য সৎ কর্মকর্তা আছেন।
সমস্যা হলো— সৎ মানুষগুলো কি সংগঠিতভাবে শক্তিশালী, নাকি অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো বেশি সংগঠিত?
এটাই আসল প্রশ্ন।
রাষ্ট্র বদলায় যখন অপরাধের হিসাব বদলায়
একটি সুস্থ রাষ্ট্রে অপরাধ করে লাভ হওয়ার কথা নয়।
বরং অপরাধ করার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ার কথা।
কিন্তু যদি বাস্তব সমীকরণ হয়—
অপরাধ + টাকা + রাজনৈতিক যোগাযোগ = ক্ষমতা
তাহলে অপরাধ বাড়বেই।
আর যদি সমীকরণ হয়—
সততা + দুর্বল প্রতিষ্ঠান + দীর্ঘসূত্রতা = ক্ষতি
তাহলে সৎ মানুষও একসময় নিরুৎসাহিত হবে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাই শুধু নতুন সরকার, নতুন দল কিংবা নতুন আইন দিয়ে নির্ধারিত হবে না।
নির্ধারিত হবে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তরে—
এই দেশে অপরাধী হওয়া কি এখনও লাভজনক, আর সৎ থাকা কি এখনও নিরাপদ?
যদি অপরাধী জানে তার টাকা তাকে রক্ষা করবে, ক্ষমতা তাকে রক্ষা করবে, পরিচয় তাকে রক্ষা করবে এবং রাষ্ট্র তাকে ধরলেও শেষ পর্যন্ত সে বেরিয়ে আসবে— তাহলে কোনো অভিযানই যথেষ্ট নয়।
কারণ তখন সমস্যা অপরাধীর মধ্যে নেই।
সমস্যা রয়েছে সেই ব্যবস্থায়, যে ব্যবস্থা অপরাধী তৈরি করে, তাকে পুরস্কৃত করে এবং তার শাস্তিকে অনিশ্চিত করে।
বাংলাদেশকে সেই জায়গা থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার থেকে নৈতিক শক্তিতে, রাজনীতিকে পেশিশক্তি থেকে জনসেবায়, অর্থনীতিকে কালো টাকা থেকে উৎপাদনে এবং বিচারকে পরিচয় থেকে আইনের শাসনে ফিরিয়ে আনতে হবে।
নইলে রাষ্ট্রের পতন হয়তো একদিনে হবে না।
কিন্তু রাষ্ট্রের ভেতরে দণ্ডহীনতার সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠবে যে, একসময় আইন থাকবে— কিন্তু আইনের ভয় থাকবে না।
আর যে রাষ্ট্রে আইনের ভয় থাকে না, সেখানে শেষ পর্যন্ত অপরাধই হয়ে ওঠে ক্ষমতার ভাষা।
