Headlines

‘সকল শিশুর জন্য’— তবে ইউনিসেফ অফিস কি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত?

বাংলাদেশ
ফলোআপ নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের (UNICEF) বাংলাদেশ কার্যালয়কে ঘিরে সংবাদকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের একাংশের মধ্যে প্রবেশসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিক এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউনিসেফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাওয়া সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, ঢাকায় ইউনিসেফের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করা প্রায় অসম্ভব। তাদের দাবি, প্রধান গেটের নিরাপত্তারক্ষীরা পূর্বানুমতি ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেন না। কারো ব্যক্তিগত ফোন নম্বর বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ না থাকলে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।

বাংলাদেশ

একজন সংবাদকর্মী বলেন, “একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ইউনিসেফের কাজ সম্পর্কে তথ্য জানতে আমরা অফিসে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ফ্রন্ট ডেস্ক, জনসংযোগ ডেস্ক বা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত সেবা পয়েন্ট খুঁজে পাইনি। গেটের বাইরে থেকে ফিরে আসতে হয়।”

আরেকজন অভিভাবক জানান, শিশুবিষয়ক একটি সহায়তা ও তথ্যের জন্য তিনি যোগাযোগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সরাসরি কারো সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি। তিনিও মেইন গেট পর্যন্তই শুধু পৌঁছাতে পেরেছেন।

প্রশ্ন উঠছে ‘সকল শিশুর জন্য’ স্লোগান নিয়ে

ইউনিসেফের বহুল ব্যবহৃত বার্তা— “For Every Child” (সকল শিশুর জন্য)। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যদি সংস্থাটি দেশের সব শিশুর কল্যাণে কাজ করে, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে জানতে পারবে তাদের সেবা, সহায়তা বা কার্যক্রমে কারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে?

তারা জানতে চেয়েছেন—

  • ইউনিসেফ বাংলাদেশে কোন কোন খাতে কাজ করছে?

  • কত শিশু সরাসরি উপকৃত হয়েছে?

  • সাধারণ নাগরিক বা অভিভাবক কীভাবে তথ্য পাবে?

  • সাংবাদিকদের জন্য কি কোনো উন্মুক্ত তথ্যকেন্দ্র বা জনসংযোগ ডেস্ক আছে?

পাবলিক অফিসে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্নও সামনে এসেছে। যেসব সংস্থা জনস্বার্থ, শিশু অধিকার, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে এবং সরকারি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, সেসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও তথ্যপ্রাপ্তির ন্যূনতম ব্যবস্থা থাকা উচিত কি না— এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সুশাসন ও নাগরিক অধিকার বিষয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা মনে করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা স্বাভাবিক; তবে তার সঙ্গে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য জনসংযোগ ব্যবস্থাও জরুরি। অন্তত একটি গ্রহণকক্ষ, তথ্য ডেস্ক, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা বা নির্ধারিত সময়ে জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকা উচিৎ বলে তারা মত দিয়েছেন।

ইউনিসেফের অবস্থান জানা প্রয়োজন

এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ইউনিসেফের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া নয়; বরং উত্থাপিত প্রশ্নগুলো জনপরিসরে তুলে ধরা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা পাওয়া জরুরি—

  • নিরাপত্তা নীতিমালার কারণে কি প্রবেশ সীমিত?

  • সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত যোগাযোগব্যবস্থা কী?

  • সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কী?

  • নাগরিকদের অভিযোগ বা অনুসন্ধান গ্রহণের কোনো প্রকাশ্য ব্যবস্থা আছে কি?

জনগণের প্রত্যাশা

বাংলাদেশে ইউনিসেফ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, টিকাদান, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা, জরুরি সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কাজ করছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা, সংস্থাটি শুধু শিশুদের জন্য কাজই করবে না, বরং তার কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের কাছে আরও উন্মুক্ত ও জবাবদিহিমূলক অবস্থানও নিশ্চিত করবে।

“সকল শিশুর জন্য” বার্তাটি তখনই অধিক অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষও অনুভব করবে— এই সংস্থার দরজা অন্তত তথ্য, যোগাযোগ ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে তাদের জন্য খোলা রয়েছে।