Headlines

জিও ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ? সরকারি কর্মকর্তাদের অননুমোদিত সফর নিয়ে প্রশ্ন

চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক | FollowUpNews


সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন থাকলেও বাস্তবে অনেক কর্মকর্তা সেই বিধান পাশ কাটিয়ে নিয়মিত বিদেশ সফর করছেন— এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন দপ্তর ঘিরে। FollowUpNews-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চিকিৎসক সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মরত অনেক কর্মকর্তার মধ্যে এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং সরকারি আদেশ (জিও/GO) প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ব্যবহার করে এমন দেশগুলোতে ভ্রমণ করছেন যেখানে তুলনামূলক সহজে ভ্রমণ ভিসা পাওয়া যায় বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে।


চিকিৎসকঅনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সরকারি পাসপোর্ট থাকার পাশাপাশি বহু কর্মকর্তার কাছে ব্যক্তিগত (অর্ডিনারি) পাসপোর্টও রয়েছে। ফলে সরকারি সফরের বাইরে ব্যক্তিগত ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়, যা সবসময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আসে না। একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশ যাত্রার তথ্য দাপ্তরিক নথিতে প্রতিফলিত হয় না। বিশেষ করে স্বল্প সময়ের ভ্রমণ, চিকিৎসা, অবকাশযাপন বা ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়; তবে বিদেশ অবস্থান, অনুমতি, দায়িত্বকাল এবং সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাতের বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। সাবেক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকারি পাসপোর্টে ভ্রমণ করলে দাপ্তরিক ট্র্যাক থাকে। কিন্তু ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তদারকি তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়ে।” চিকিৎসা সংক্রান্ত বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের উৎস এবং সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকে দাবি করেন, তারা ব্যক্তিগত ছুটি নিয়ে নিজ খরচে বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং এতে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয় না। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সুশাসন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হলে অনুমোদন, অবস্থানকাল এবং ভ্রমণের ধরন সহজেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। FollowUpNews-এর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী পর্বে বিভিন্ন দপ্তরের বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত নথি, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ব্যবহারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হবে।