Headlines

কাস্টমস কর্মকর্তাদের পেশাগত ঝুঁকি কি বাড়ছে? কর্মকর্তা থেকে সেপাই—নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন

FollowUpNews-এর অনুসন্ধান

রাষ্ট্রের রাজস্ব সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যা, হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং দায়িত্ব পালনের সময় বাধার ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে—কাস্টমসের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পেশাগত ঝুঁকি কি ক্রমেই বাড়ছে?

সর্বশেষ আজ কাস্টমসের এক সেপাই হত্যার ঘটনায় এই উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। যদিও হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে, তবে একজন কাস্টমস কর্মীর এমন পরিণতি আবারও সামনে এনেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি।

এর আগে কাস্টমসের কর্মকর্তাদের ওপরও ঘটে একাধিক হামলা ও হত্যার ঘটনা।

রাকিব রায়হান হত্যাঃ নৃশংসতার নতুন উদাহরণ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তা রাকিব রায়হান হত্যার ঘটনায় আবার আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরো করে ব্যাগে ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিলো। হত্যার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে— এটি কি ব্যক্তিগত অপরাধ, নাকি এর পেছনে কোনো পেশাগত বিরোধ ছিলো? তদন্তই দেবে চূড়ান্ত উত্তর।

বুলেট বৈরাগী হত্যাঃ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন

কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার ঘটনায় র‌্যাব জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র জড়িত ছিলো। প্রশিক্ষণ শেষে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন।

যদিও তদন্তে পেশাগত কারণ পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি মাঠপর্যায়ের রাজস্ব কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। তদন্তের শতভাগ আস্থা রাখতে অনেকেই রাজি বয়।

আসাদুজ্জামান খাঁনঃ হুমকির পর হামলা

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খাঁনের ওপর হামলার ঘটনা আরও একটি ভিন্ন বাস্তবতা দেখায়। হামলার আগে তিনি প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে তার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে— কোনো কর্মকর্তা আগাম হুমকি পেলে সেটিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হয়?

কেন ঝুঁকিপূর্ণ কাস্টমসের কাজ?

কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে—

  • শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধ;

  • চোরাচালান দমন;

  • বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ;

  • আমদানি-রপ্তানি পণ্যের যাচাই;

  • অবৈধ পণ্য আটক ইত্যাদি।

এসব খাতে বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। ফলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সিদ্ধান্ত অনেক পক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু কর্মকর্তা নয়, ঝুঁকিতে কর্মচারীরাও

কাস্টমসের মাঠপর্যায়ের সেপাই, প্রহরী ও অন্যান্য কর্মচারীরাও অনেক সময় সরাসরি অভিযান, পণ্য আটক, গুদাম পাহারা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী— এ প্রশ্ন খুব কমই আলোচনায় আসে।

আজকের সেপাই হত্যার ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।

“সেপাইরা অনেক সময় নিজেরাই পরিস্থিতি সামাল দেন”

রাজস্ব বিভাগের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে অনেক সময় কর্মকর্তা ও সেপাইরা সীমিত জনবল নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। কিন্তু বড় ধরনের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলে শুধু ব্যক্তিগত সাহস দিয়ে তা মোকাবিলা করা কঠিন।

প্রয়োজন—

  • ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা;

  • হুমকি পাওয়া কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা;

  • অভিযানে পর্যাপ্ত সহায়তা;

  • মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সুরক্ষা।

প্রশ্ন

কাস্টমসের কর্মকর্তা থেকে সেপাই— যারা রাষ্ট্রের রাজস্ব পাহারা দেন, তাদের নিরাপত্তা কি সময়ের ঝুঁকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে?

নাকি রাজস্ব রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা ক্রমেই অরক্ষিত হয়ে পড়ছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু কাস্টমস বিভাগের নয়, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।